×

এই জনপদ

নরসিংদীতে মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ

অধিগ্রহণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত জমি মালিকরা

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি : নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জমির মালিকরা। এছাড়া ঘুষ আদায়সহ নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। তাই মূল্য পুনঃনির্ধারণসহ হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। একই সঙ্গে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন।

গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নীলকুঠি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা। পরে তারা অধিকার আদায়ে ১৫ মিনিট ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন।

এ সময় ভুক্তভোগী ৮৬ জন জমির মালিক উপস্থিত ছিলেন। ওমর ফারুক, মজিবুর জাহারী, মুছলেহ উদ্দীন হাজারী, দেলোয়ার ভুইয়া, মেশারফ হোসেন ভূঁইয়া ও হানিফ মিয়া বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু ওই জমির বর্তমান দরের চেয়ে অনেক কম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে জমির মালিকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমান দর বেশি হওয়ায় অধিগ্রহণের টাকা দিয়ে অন্যত্র জমি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জমি হারিয়ে অনেকে ভূমিহীন হতে হবে। জমির মূল্য পুনর্নির্ধারণ করাসহ অফিসে ঘুষ বা দালালের দৌরাত্ম্য ছাড়া জমির ন্যায্য মূল্য চান তারা। এক মাস আগে জেলা প্রশাসকের কাছে তারা লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে তারা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। জমি মালিক আব্দুল হান্নান (৫৫) বলেন, সড়কের পাশে আমার ২২ শতক জমিতে পুকুর রয়েছে। ওই জমি অধিগ্রহণ করেছে। পুকুরে বছরে ২০-৩০ লাখ টাকার মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে। মাছ চাষ করতে গিয়ে ব্যাংক ঋণে জর্জরিত। অথচ আর্থিক ক্ষতিপূরণ পায়নি। প্রতি শতক ৭১ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা বর্তমানে প্রতি শতকের দাম রয়েছে ৮-১০ লাখ টাকা। মুছলেহ উদ্দীন হাজারী (৬৫) বলেন, মাহমুদাবাদ মৌজায় আমার নাল ও ভিটি মিলিয়ে প্রায় ৭০ শতক জমি অধিগ্রহণ করেছে। অথচ এখানে বর্তমানে প্রতি শতক ভিটি জমি বর্তমান বাজার মূল্যে ২০-২৫ লাখ টাকা ও নাল ৮-১০ লাখ টাকা দর রয়েছে। জমি ২ লাখ ২৪ হাজার ও নাল প্রতি শতক ৪৪ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।

মির্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কুকুর মারা মৌজায় ভিটি ও নাল ৭১ হাজার টাকা শতক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ বর্তমান বাজারমূল্য আছে প্রতি শতাংশে ১০-১৫ লাখ টাকা। যারা অধিগ্রহণের দায়িত্বে আছেন তাদের খুশি করতে না পারলে মিলছে না ন্যায্যমূল্য। আমাদের এলাকার জমির দলিল দেখে আমাদের ন্যায্য মূল্য দেয়া হোক। যেই নাল জমি রেজিস্ট্রেশন করতে প্রতি শতকে ৪ লাখ টাকা দিতে হয়। সেই জমির ক্ষতিপূরণ কীভাবে ৪৪ হাজার আর ৭০ হাজার টাকা শতাংশ ধরা হয়

জমির মালিক ও মির্জাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, কুকুরমারা ও মাহমুদাবাদ মৌজায় মোট ৮৬ জন জমি মালিকের জমি অধিগ্রহণ করে। যার অর্থ এখনো বেশির ভাগ পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। ৪৫ বছর আগের রেকর্ডে লেখা নাল এখন আর নাল নেই। কিন্তু অধিগ্রহণের সময় পুরনো রেকর্ডের নাল দেখে শতাংশ প্রতি ক্ষতিপূরণ ধরা হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা। অথচ ভৈরবের নিকটবর্তী এসব এলাকায় রোডের পাশে নালা চিহ্নিত জমির বর্তমান মূল্য তার ১০-১৫ গুণ বেশি। মজিবুর রহমান বলেন, ৪ লাখ টাকা শতক জমি কিনেছি কয়েক বছর আগে। আমার কাছে তার দলিলও আছে। কিন্তু এখন তা নাল হিসেবে ৪৪ হাজার টাকা শতক ধরা হয়েছে।

ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া এবং দেলোয়ার ভুইয়া বলেন, আমাদের ১০০ বছরের পুরনো বাড়ির শুধু ঘর বাদে বাকি অংশ নাল লেখা হয়েছে। নীলকুঠি বাসস্ট্যান্ডে যেখানে ২০ লাখ টাকা শতক জমি পাওয়া যায় না সেখানে আমাদের বাড়ির গর্তকে ডোবা দেখিয়ে মাত্র ১১ হাজর টাকা শতক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App