×

এই জনপদ

নৌযান চলাচল ব্যাহত

গাজীপুরে শীতলক্ষ্যার ৮০ কিমি.জুড়ে কচুরিপানা

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 গাজীপুরে শীতলক্ষ্যার ৮০  কিমি.জুড়ে কচুরিপানা

নাসির উদ্দিন জর্জ, শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে : গাজীপুরে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রায় ৮০ কিলোমিটার নৌপথ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। প্রায় দুই মাস ধরে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে যেগুলো চলাচল করছে সেগুলো গন্তব্যে যেতে দ্বিগুণ-তিনগুণ সময় লাগছে। জ¦ালানি খরচও লাগছে কয়েকগুণ। অনেক ট্রলার মালিক ও চালকরা নিজ নিজ ঘাটে নৌকা নোঙর করে রেখেছেন। মানবেতর দিন কাটছে তাদের। পোশাক শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে।

শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে শ্রীপুর উপজেলার ত্রিমোহনী থেকে নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, ঢাকার ডেমরা এলাকায় নৌযানগুলো চলাচল করে থাকে। ত্রিমোহনী থেকে নরসিংদীর চরসিন্দুর পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীজুড়ে কচুরিপানা ভাসছে। নদীর কিছু এলাকায় কচুরিপানা ও খুঁটি দিয়ে মাছ চাষ করায় এমনটি হয়েছে বলে দাবি করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এসব উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীতলক্ষ্যা নদী শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলাকে ভাগ করেছে। নদীর দুই পাড়ের মানুষের নদী পারাপারের জন্য শ্রীপুর উপজেলা অংশে রয়েছে গোসিঙ্গা এবং কাপাসিয়ায় দরদরিয়া ঘাট। এ উপজেলার চৌড়াপাড়া, দরদরিয়া, ভুলেশ্বর, দেওনা, হাইলজোর গ্রামের শিক্ষার্থীরা এ ঘাট দিয়ে নদী পার হয়ে শ্রীপুরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে নিয়মিত যাতায়াত করে। এছাড়া কাপাসিয়া থেকে শ্রীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় চাকরি করে হাজারো শ্রমিক। নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় তারা পড়েছেন বেকায়দায়। কারণ, সড়ক পথে গন্তব্য যেতে হলে তাদের ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। মালামাল বহন করা নৌকা চালক দেলোয়ার মিয়া বলেন, নৌযানের বডি কচুরিপানার ভেতর দিয়ে চলতে পারে না। ভাড়া ঠিক করলেও এ সমস্যার কারণে মালামাল নিয়ে বেপারী আসে না।

জামাল উদ্দিন বলেন, নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে গাজীপুরের কালিগঞ্জ, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, ত্রিমোহনী পর্যন্ত দনীতে কচুরিপানার জট বেঁধে থাকে। কচুরিপানার জন্য ট্রলার চলে না। এক ঘণ্টার রাস্তা একদিনে পৌঁছাতে হয় কচুরিপানার জন্য। কালীগঞ্জ থেকে বরমী এলে যেখানে লাগত ৩০ লিটার জ¦ালানি, এখন লাগছে ১৩০ লিটার। নদীতে কচুরিপানা থাকার কারণে ১০০ লিটার বেশি লাগছে চালকদের।

যাত্রী মোবারক হোসেন বলেন, কচুরিপানার কারণে গত দেড় মাস ধরে দ্বিগুণ সময় লাগছে। আগে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টায় তারাব চলে যাওয়া যেত, কচুরিপানার কারণে এখন ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা লাগে।

ট্রলারচালক মফিজুল বলেন, কোনো ট্রলার মালিক ট্রিপ দিতে রাজি হলেও জ¦ালানি খরচ বেশি দিতে হয়। সময় বেশি লাগায় ব্যবসায়ীরাও মালামাল পরিবহন করতে রাজি হয় না।

ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, অনেক কৃষক নদীর পাড়ে ট্রলারের অপেক্ষায় থাকেন কখন ট্রলার আসবে। কারো সারাদিন কেটে যায়। আবার কেউ বিকল্প পথে স্থলপথে কৃষিপণ্য নিয়ে উৎপাদন খরচ উঠাতে পারেন না।

কাপাসিয়ার দেওনা গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি পোশাক কারখানায় চাকরি করি। নদীতে প্রচুর পরিমাণে কচুরিপানা জমে থাকায় নদীর ঘাটে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় কয়েকদিন ধরে অফিসে যেতে পারছি না। এজন্য হাজিরা বোনাসসহ উৎপাদন বোনাস থেকেও বঞ্চিত হতে হবে। শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু বাক্কার ছিদ্দিক আকন্দ বলেন, আমাদের কলেজে বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। পার্শ্ববর্তী কাপাসিয়া উপজেলার অনেক শিক্ষার্থীও রয়েছে। বিশেষ করে দরদরিয়া, রায়েদ আমরাইদ এলাকার বেশির ভাগ উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। তাদের শীতলক্ষ্যা নদীর গোসিংগা ঘাট দিয়ে আসতে হয়। নদীতে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে কচুরিপানা জমে যাওয়ার কারণে শুনেছি নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ওইসব এলাকার অনেক শিক্ষার্থী কলেজে আসতে পারছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কে এম লুৎফর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে ফান্ড দিয়ে কচুরিপানা জট সরানো সম্ভব নয়। এসব সরাতে বিআইডব্লিউটিএর সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিআইডব্লিউটির নরসিংদীর-ঘোড়াশাল বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা নূর স্বপন বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জ থেকে নরসিংদীর চরসিন্দুর পর্যন্ত নদীর ক্যানেল চলাচলে উপযোগী রয়েছে। চরসিন্দুর থেকে শ্রীপুর উপজেলার বরমী পর্যন্ত নৌ চলাচল বন্ধের বিষয়টি দেখতে হবে। এটা আমাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্তী (গাজীপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড নেই) বলেন, নরসিংদী থেকেই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সেক্টর পরিচালিত হয়। নদীগুলো নিয়ে বিআইডব্লিউটি কাজ করে। যারা মাছের ঘের করে তারা কচুরিপানাগুলো স্থায়ী হওয়ার জন্য দায়ী। শীত সিজনে পানি কম থাকায় কচুরিপানার গুড়া (শিকড়) মাটিতে ছুঁয়ে যায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কচুরিপানাগুলো পানি প্রবাহের কারণে এক জায়গায় থাকে না। চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু ঘের করার কারণে কচুরিপানাগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App