×

এই জনপদ

হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘন

কালীগঞ্জে বন্ধ হচ্ছে না কৃষিজমি ভরাট

Icon

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 কালীগঞ্জে বন্ধ হচ্ছে  না কৃষিজমি ভরাট

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : কালীগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক অভিযান এবং জেল-জরিমানার পরেও বন্ধ হচ্ছে না কৃষিজমি ভরাট। হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘন করে রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানি ড্রাম ট্রাক ও ভেকু দিয়ে বেড়ি তৈরি করে বালু ভরাট করছে। এবার বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের মো. হান্নান সরকারের ছেলে ভুক্তভোগী বেনজীর সরকার।

বেনজীর সরকার বলেন, উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পিপুলিয়া মৌজায় রেললাইনের উত্তর পাশের কৃষি জমিগুলো থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করে বালু দিয়ে ভরাট করার জন্য বাংলা মার্কসহ বেশ কিছু হাউজিং কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জমিগুলো বেলাই বিলের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে এবং বর্ষাকালে বিলের পানি দিয়ে কৃষিজমির সেচ কাজ করা হয়। কিন্তু হাউজিং কোম্পানি বাঁধ নির্মাণ করার ফলে আমার ও বেশ কিছু জমির মালিকদের ধানসহ অন্যান্য ফসল পানির অভাবে চাষাবাদ করতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, এ কাজে আমি বাধা দিই এবং আমাদের কালীগঞ্জ উপজেলার ভূমি সহকারী কমিশনারকে মৌখিকভাবে জানানোর পরও বালু ভরাট কাজ বন্ধের কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তাই আমি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি চাই ডিসি সরজমিন তদন্ত করে কৃষিজমিতে বাঁধ নির্মাণ ও বালু ভরাট বন্ধ করে আমাদের কৃষিজমিতে চাষাবাদ করার সুযোগ করে দেবে।

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতাধীন টঙ্গী-কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের পাশে পিপুলিয়া মৌজার আরএস ১১২০, ১১১৯, ১১৫২, ১১৫১, ১১৩৯, ১১৪০, ১১৮৪, ১১৫৮ ও ১০১৮ দাগে উপজেলার তুমিলিয়া ইউনিয়নের চুয়ারিখোলা গ্রামের এক আওয়ামী লীগ নেতা ও দক্ষিণ ভাদার্ত্তী গ্রামের এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে নাগরী ইউনিয়নের পিপুলিয়ার গ্রামের কয়েকজন কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাট করছেন।

সরজমিন দেখা গেছে, টঙ্গী-কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের পাশে বেলাই বিলে বাঁধ নির্মাণ করে বালু দিয়ে ভরাট করছে বাংলা মার্কসহ তিনটি কোম্পানি। এছাড়া নাগরী ইউনিয়নের গলান এলাকায় দুটি হাউজিং কোম্পানি ড্রাম্প ট্রাক ও ভেকু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে বালি ভরাট করছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় খাল-বিল, নদী-পুকুর, কৃষি জমি-জলাশয় ভরাট এবং অবৈধ দখলের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। আদালতের ওই নির্দেশ অমান্য করেই বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানি কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাট কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

বাংলা মার্কের পরিচালক ইরফান বাপ্পী বলেন, আমাদের কোনো হাউজিং কোম্পানির না, আমাদের কোম্পানি হচ্ছে বাংলা মার্ক এগ্রো। কৃষক বা কৃষি নিয়ে আমাদের কাজ। হয়রানি করার জন্য বেনজীর নামের এক লোক বাংলা মার্কের বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ করেছে। অথচ তার নামে সেখানে কোনো জমি নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ইমাম রাজী টুলু বলেন, আমি মাসখানেক হয় এ উপজেলায় যোগদান করেছি। কিন্তু যখনই কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার খবর পেয়েছি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তখনই অভিযান পরিচালনা করছি এবং জেল-জরিমানা করেছি। নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত আছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App