×

এই জনপদ

সুনামগঞ্জে টিলা কেটে পিকনিক স্পট তৈরি

Icon

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জে টিলা কেটে  পিকনিক স্পট তৈরি

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জ থেকে : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় নিজের জমি দাবি করে টিলা কেটে পিকনিক স্পট তৈরি করা হয়েছে। ইউনিয়নের কামারভিটা গ্রামসংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকার নো-ম্যান্স ল্যান্ডের পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ‘বাচ্চুনগর পিকনিক স্পট। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত এলাকায় নো-ম্যান্স ল্যান্ডের পাশের জমিতে পিকনিক স্পটের নামে টিলা কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট করা হয়েছে। ফলে উঠতি বয়সি ছেলেমেয়েরা জুটি বেঁধে অবাধ বিচরণ করছে এ স্পটে। এতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, পিকনিক স্পটে যারা আসেন তারা নো-ম্যান্স ল্যান্ডের ভেতরে ঢুকে ফটোসেশন করেন। সন্ধ্যার পরও দেখা যায় তরুণ-তরুণীদের জুটি। দিনের বেলায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে আসা শিক্ষার্থীর জুটিও সময় কাটায় এ পিকনিক স্পটে। এ সুযোগে প্রবেশ ফি নেয়া হচ্ছে জনপ্রতি ৪০ টাকা। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এ স্পটে আসা-যাওয়া করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, বাচ্চুনগর পিকনিক স্পট স্পট যুবসমাজ নষ্টের অন্যতম জায়গা হয়ে উঠেছে। যুব সমাজকে বাঁচাতে এটি বন্ধ করতে হবে। পিকনিক স্পটে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা ৪ জন এক সঙ্গে এসেছি। প্রত্যেকে ৪০ টাকা করে টিকেট কেটে প্রবেশ করেছি। এটা খুবই বেশি ফি। আবুল হোসেন নামে একজন বলেন, আমরা প্রতি সপ্তাহে এ পিকনিক স্পটে আসি। বন্ধের দিন কিছু সময় কাটাই এখানে। পিকনিক স্পটের মালিক বাচ্চু মিয়া বলেন, আমি নিজের জায়গায় পাহাড় কেটে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করেছি। প্রতিদিন শতাধিক প্রকৃতিপ্রেমী আসছেন এখানে। আমার পর্যটন কেন্দ্রে লোকজনকে কোনো প্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে নিষেধ করি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমাছ উদ্দিন শিপু বলেন, কামারভিটা এলাকায় বাচ্চুনগর পিকনিক স্পটে উঠতি বয়সের অনেক ছেলে- মেয়ে আসে। তারা টিলার উপরে এবং নিচে জুটি বেঁধে বসে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটায়। শুনেছি সন্ধ্যার পর পর্যন্তও কোনো কোনো জুটি থাকে এখানে।

ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ বলেন, আমি ওই পর্যটন কেন্দ্রে যাইনি। যদি কোনো অপকর্ম বা অশ্লিলতা হয়, তাহলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কেউ টিলা কাটলে এটা গুরুতর অপরাধ। সেটি প্রশাসনকে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ খালেদ চৌধুরী বলেন, বাচ্চুনগর পিকনিক স্পটে কোনো অনৈতিক কাজ হলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমদাদুল হক শরীফ বলেন, বাচ্চুনগর পিকনিক স্পট টিলা কেটে তৈরি করা হয়েছে, তা আমি জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App