×

এই জনপদ

বেলকুচি

পাওয়ারলুম কারখানার পানি ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ জনজীবন

Icon

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাওয়ারলুম কারখানার পানি ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ জনজীবন

খন্দকার মোহাম্মদ আলী, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) থেকে : বেলকুচি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাজুড়ে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুম। এসব কারখানার শব্দদূষণে শিশুদের মানসিক সমস্যা হচ্ছে। মস্তিষ্কে আঘাত হানছে অতিমাত্রার শব্দ। এর ভয়াবহতা ভুক্তভোগীরা ছাড়া উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের নেই কোনো তদারকি। যার যেমন ইচ্ছে যেখানে-সেখানে গড়ে তুলছেন এসব কারখানা।

জানা যায়, তাঁত কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় প্রতিটি বসতবাড়িতেই রয়েছে সুতা ও রঙের ডাইং হাউস। এসব ডাইং হাউসে নেই কোনো ক্যামিস্ট। দিনমজুর শ্রমিকদের দিয়ে সুতা-রঙের কেমিক্যাল মেশানো হয়। এসব শ্রমিক জানে না এতে তাদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। জানা গেছে, শুধু বেলকুচি উপজেলাতেই অনুমোদনহীন প্রায় তিন শতাধিক ডাইং হাউস রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, অসাধু তাঁত মালিকরা অবৈধ উপায়ে চালাচ্ছেন তাঁত কারখানা। এসব কারখানার নেই কোনো বাউন্ডারি ওয়াল। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নীতিমালা মানছেন না এসব তাঁত মালিক। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনের কিছু ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে চালানো হচ্ছে এসব কারখানা।

জানা গেছে, এসব কারখানার কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি এলাকার নলকূপের পানি দূষিত করছে। অসচ্ছল মানুষের পক্ষে বিশুদ্ধ পানি কিনে খাওয়া সম্ভব নয় বলে বাধ্য হয়ে দূষিত পানি খেয়ে কিডনি, ফুসফুস, চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অনেকে চিকিৎসা নিয়েও মারা গেছেন। তামাই খন্দকার পাড়ার ভুক্তভোগী সানোয়ার হোসেন, বেলাল হোসেন, জহুরুল ইসলাম ও আব্দুল হালিম জানান, কুয়েতপাড়ার আবু সামার ছেলে সাইফুল ইসলাম নুহু দাউদ টেক্সটাইল নামে একটি কারখানা গড়ে তুলেছেন, যেখানে রয়েছে ২ শতাধিক বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুম।

ফসলি জমি ক্রয় করে দেদারসে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলেছেন তাঁত কারখানা। সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই ফ্যাক্টরি। এই অতিরিক্ত শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে সুতা ও রঙের ডাইংয়ে হচ্ছে পানি দূষণ। বহিরাগত শ্রমিকদের নিজ বাড়িতেই মেছ করে আবাসিকভাবে রাখছেন। সেখানে নেই বাউন্ডারি ওয়াল। সুতা-রঙের কেমিক্যাল মিশ্রিত দূষিত পানি ফেলার কারণে নলকূপের পানি পান করা যাচ্ছে না। অসুস্থ হয়ে পড়ছে আশপাশের বাসিন্দারা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া সুলতানা কেয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ভুক্তভোগীদের পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দিতে বলেন। তার করণীয় কিছু আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App