×

এই জনপদ

নায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানে চাষি

প্রচণ্ড তাপদাহে গুরুদাসপুরে লিচুর ফলন বিপর্যয়

Icon

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 প্রচণ্ড তাপদাহে গুরুদাসপুরে  লিচুর ফলন বিপর্যয়

মো. মাজেম আলী মলিন গুরুদাসপুর নাটোর থেকে : সারি সারি লিচুর গাছ, আর তাতে নেই লিচু। মোকামেও দেখা মিলছে না রঙিন বাহারি রসালো ফল লাল টসটসে লিচুর। গত বছরও থোকায় থোকায় ঝুলেছিল লিচু। কিন্তু এবার এই চিত্র একেবারেই উল্টো। গাছগুলোতে লিচুর দেখা পাওয়া দুষ্কর। এ বছর টানা শিলাবৃষ্টিতে লিচুর মুকুল থেকে শুরু করে গুটি ছিল কম। সেই সঙ্গে চলমান প্রচণ্ড দাবদাহ। ফলে উৎপাদনও কম হয়েছে। আবার ফলন কম হলেও ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছেন না চাষিরা। তাই এ বছর লাভ তো দূরের কথা, লোকশান গুনতে হবে বাগান মালিকসহ লিচু চাষিদের। ফলে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন এলাকার হাজারো বাগান মালিকসহ পাইকার ও আড়তদারা। এ বছর নাটোরের গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনয়নের বেড়গঙ্গারামপুরে লিচুর ফলন যেমন কম হয়েছে, তেমনি গাছে থাকা লিচুও প্রচণ্ড তাপদাহ আর শিলাবৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে সামান্য কিছু গাছে লিচুর দেখা মিললেও প্রাণহীন হয়ে আছে লিচুর রাজ্য খ্যাত এই এলাকা। ফলে বেড়গঙ্গারামপুরে ১৮ থেকে ২৫টি লিচুর আড়তে এখন চলছে লিচুর খরা।

আরিফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, প্রতি বছর এখান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যাই। স্বাদ আর গন্ধে অতুলনীয় এই এলাকার লিচু। এ বছর এখানে প্রতি হাজার মোজাফর জাতের লিচু বিক্রি হচ্ছে ২৫০০-৪০০০ টাকায়। গত বছরও যেখানে ২০০০-৩০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

লিচু চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর গাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে মুকুল ছিল। কৃষি অফিসের পরামর্শে যতœ নিয়েছি, কিন্তু তাপমাত্রা ও শিলাবৃষ্টির কারণে ফলন কম হয়েছে। তার মধ্যেও যে গাছগুলোতে লিচু রয়েছে, সেখানেও খরায় এক তৃতীয়াংশ লিচু ফেটে গেছে। আমার বাগানে ৪০টা গাছ রয়েছে। প্রতি বছর দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বিক্রি হলেও এ বছর সব মিলিয়ে মাত্র ৫০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়েছে। এতে আমার ক্ষতি হয়েছে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা। আরেক লিচু চাষি ও ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন বলেন, শখের বসে একসময় এখানকার সাধারণ মানুষ বাড়ির আঙিনায় লিচু গাছ রোপণ করতেন। এখন এলাকাজুড়ে লিচু চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। লাভবান হওয়ায় ধান চাষের জমিগুলো এখন লিচু চাষের আওতায় নিয়ে এসেছে। কারণ ধানের চেয়ে লিচু চাষে লাভ বেশি। প্রতি বছর বাগান থেকে লিচু বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা মুনাফা পেলেও এ বছর বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এলাকার সব লিচু চাষিদের চিত্র একই রকম বলেও জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার হামলাইকুল, মোল্লাবাজার, বেরগঙ্গারামপুর, মামুদপুর, নাজিরপুর, নায়ায়নপুর, পাটপাড়া, বিন্যাবাড়ি, শিধুলী, পলশুড়া, চলনালীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ হয়। দুই বছর আগে ৪০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হলেও দাম ও ফলন ভালো পাওয়ায় তা বেড়ে ৪১০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এই এলাকার লিচু চাষির সংখ্যা প্রায় ১ হাজার।

সরজমিন গিয়ে উপজেলার এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চাষিরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। যেখানে প্রতি বছর গুরুদাসপুর থেকে প্রতি দিন গড়ে ৩০-৩৫ ট্রাক লিচু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেত। কয়েক কোটি টাকার লিচু বিক্রি হতো। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশিদ বলেন, চলতি মৌসুমে অতি খরা আর শিলাবৃষ্টির কারণে লিচুর ফলন বিপর্যয় হয়েছে। গুরুদাসপুরে মোট লিচুর বাগানের সংখ্যা ২০৫টি। ছোট-বড় মিলে প্রায় ৫ হাজারের বেশি লিচু গাছ রয়েছে।

উপজেলার বেরগঙ্গারামপুর লিচুর আড়তের সভাপতি সাখাওয়াত মোল্লা বলেন, গত সপ্তাহ থেকে লিচু বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি দিন এখানে লাখ লাখ টাকার লিচু বেচাকেনা হতো। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেপারী আসত আমাদের বাজারে। কিন্তু এ বছর লিচু না থাকায় লিচু চাষিদের পাশাপাশি আড়তদার ও বেপারীরা ক্ষতিগ্রস্ত ও বেকার হয়ে পড়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App