×

এই জনপদ

মানিকগঞ্জে জনপ্রিয় হচ্ছে মালচিং পদ্ধতির চাষাবাদ

Icon

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ থেকে : মোবাইলে ইউটিউব চ্যানেল দেখে মানিকগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। এই পদ্ধতিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা ইতোমধ্যে এই পদ্ধতিতে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

জানা গেছে, প্রথমে জমি প্রস্তুত করে তারপর বীজতলা তৈরি করা হয়। একটি বেড তারপর একটি ড্রেন আবার বেড তারপর ড্রেন- এই পদ্ধতিতেই জমি প্রস্তুত করা হয়। এরপর মালচিং পেপার (এক ধরনের পলিথিন) দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় বেডগুলোকে। নির্দিষ্ট দূরত্বে মালচিং পেপার ছিদ্র করে বা গোল করে কেটে চারা রোপণ করা হয়। এ পদ্ধতিকে মালচিং বা পলি মালচিং পদ্ধতিও বলা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এটাকে পলি মালচিং পদ্ধতি বলে। ইউটিউব দেখে প্রশিক্ষণ নেয়া শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক মো. জুয়েল হোসেন এরশাদ বলেন, আমাদের এলাকায় গত বছর অল্প কয়েকজন কৃষক মালচিং পদ্ধতিতে আবাদ করে বেশ সুফল পেয়েছিল। তাই এ বছর আমি বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেল দেখে এ পদ্ধতিতে আবাদ করতে উৎসাহী হই। মূলত আমি এ পদ্ধতিটা ইউটিউব দেখেই শিখেছি। আমি এবার ৮ বিঘা জমিতে (কারেন্ট মরিচ) হাইব্রিড মরিচ এই পলি মালচিং পদ্ধতিতে আবাদ করেছি। তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে গাছের গোড়ায় পানি শুকিয়ে যায় না এবং গাছের প্রয়োজনীয় পানি সবসময় থাকে। ড্রেনের মধ্য দিয়ে পানি দেয়ার ফলে পাশের বেডের মাটি পানি ধরে রাখে, যা অতি রোদেও শুকিয়ে যায় না। যেখানে ৬ বার সেচ দিতে হতো সেখানে এখন দু’বার সেচ দিলেই পুরো সিজন হয়ে যায়। অন্যদিকে আগে অতি বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে গাছ মরে গেলেও এই পদ্ধতিতে পানি জমতে পারে না এবং বেডের ওপর গাছ থাকাতে একটানা বৃষ্টি হলেও গাছের কোনো ক্ষতি হয় না। এ ছাড়া জমিতে আগাছা জন্মাতেও পারে না এবং আগাছা পরিষ্কারের জন্য আমাদের অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। আবার আগাছা মুক্ত করতে যে বিষ প্রয়োগ করা হয় তা জমি ও উৎপাদিত ফসলের জন্যও ক্ষতিকর। এ পদ্ধতিতে আবাদ করলে মানুষ বিষমুক্ত সবজি ও ফসল পাবে। তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতিতে প্রথম ফসল তোলার পর নতুন করে আবার জমি প্রস্তুত করা লাগে না, ওই বেডেই আবার নতুন ফসল চাষ করা যায়। তবে এ পদ্ধতিতে বিঘাপ্রতি প্রথমেই মালচিং পেপার দেয়াতে বাড়তি খরচ হয় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আসলে মোট খরচ যে বেশি তা নয়, বিষয়টি হচ্ছে মৌসুমের প্রথমেই খরচটা করতে হয়। প্রথমেই খরচটা করতে হয় বিধায় আমাদের কৃষকদের বেশ বেগ পেতে হয়। কিন্তু সরকারিভাবে যদি সত্যিকারে যারা মালচিং পদ্ধতিতে আবাদ করে তাদের ভর্তুকি বা কম সুদে লোন দেয়া হতো তাহলে অনেকেই এই পদ্ধতিতে আবাদে উৎসাহিত হতো। দেশের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেত।

সরেজমিনে শিবালয়, হরিরামপুর, সাটুরিয়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ, শশা, টমোটো, করলা, বেগুনসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করতে দেখা যাচ্ছে। এখন গ্রামাঞ্চলে চলতেই চোখে পড়ছে মালচিং পদ্ধতির চাষাবাদ। কৃষকদের দাবি, দ্রুত প্রশিক্ষণ প্রদান, কৃষি উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম কমানো, ভর্তুকি প্রদানসহ কৃষিবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ করা হোক।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ জানান, মালচিং পদ্ধতিটা অবশ্যই ভালো এবং আমরা কৃষকদের এ পদ্ধতিতে আবাদে উদ্বুদ্ধ করছি। সিংগাইর এলাকায় আমরা কৃষকদের উন্নত চাষাবাদে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এবং পর্যায়ক্রমে সব জায়গাতেই এটা করা হবে।

কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, পলি পেপারের জন্যে এখনো কৃষক পর্যায়ে ভর্তুকির কোনো নির্দেশনা আমাদের নেই। তবে আমরা কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App