×

এই জনপদ

আধুনিক সাইলো স্থাপনের দাবি

ধানে ন্যায্যমূল্য থেকে ৩৫ কোটি কম পাচ্ছেন কৃষক

Icon

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ধানে ন্যায্যমূল্য থেকে ৩৫  কোটি কম পাচ্ছেন কৃষক

রাসেল আহমদ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে : মধ্যনগর উপজেলার হাওরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও রোদের মধ্যে হাওরের কৃষকরা ধান শুকিয়ে ঘরে তুলেছেন। চলতি সপ্তাহের মধ্যে হাওরের প্রায় শতভাগ জমির পাকা ধান কেটে ফেলেছেন কৃষকরা। এখন কেউ শুকিয়ে গোলাজাত করছেন আবার কেউ খলাতে রেখেই বেপারির কাছে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। আবার কেউবা ধান বিক্রি করতে যাচ্ছেন মধ্যনগর বাজারের বিভিন্ন আড়তে। এতে ধানের উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছেন না কৃষক। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে মণপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা কমে আড়তগুলোতে ধান বিক্রি করতে হয়। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে অন্তত ৩৫ কোটি টাকা কম পাচ্ছেন উপজেলার কৃষকরা। তাই তারা মধ্যনগরে একটি আধুনিক সাইলো স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

চলতি বোরো মৌসুমে মধ্যনগর উপজেলায় ১৩ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমিতে বোরো ফসলের আবাদ করেছেন কৃষকেরা। এতে ধান উৎপাদিত হয়েছে ৮১ হাজার টন। কিন্ত উপজেলায় সর্বসাকুল্যে দুই হাজার ৩৯৫ টন ধান কিনছে সরকার। এ কারণে কৃষকের শ্রমে-ঘামে উৎপাদিত হাজার হাজার মেট্রিক টন ধান বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয় স্থানীয় ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে ও আড়তগুলোতে।

মধ্যনগর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিন কুর্মী জানান, এ বছর সরকার নির্ধারিত মূল্য মণপ্রতি এক হাজার ২৮০ টাকা দরে ধান কেনা হচ্ছে। উপজেলায় দুই হাজার ৩৯৫ টন ধান কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। গত ৭ মে থেকে সরকারিভাবে খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

মধ্যনগর বাজার ধান-চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি জহিরুল হক বলেন, মধ্যনগর বাজারে ৩৫টির মতো ধানের আড়ত রয়েছে। প্রতি বছর এই আড়তগুলোতে কোটি কোটি টাকার ধান কেনাবেচা হয়। বর্তমানে আমরা মণপ্রতি এক হাজার টাকার উপর দরে ধান ক্রয় করছি।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলীপুর গ্রামের কৃষক আমানুল্লাহ বলেন, আমি এ বছর ৮০ বিঘা জমিতে প্রায় দেড় হাজার মণ ধান পেয়েছি। সরকারি খাদ্যগুদামে একজন কৃষক মাত্র ৭৫ মণ ধান বিক্রি করার সুযোগ পান। আমার সারা বছরের খোরাকি ৫০ মণ রেখে বাকি ধান ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের কাছে বেচতে হবে। এতে মণপ্রতি গড়ে ২০০-২৫০ টাকা কমে এসব ধান বেচলে আমার লোকসান হয় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। অথচ সরকারিভাবে এসব ধান ক্রয় করা হলে কৃষকদের এই লোকসান হতো না। তিনি আরও বলেন, মধ্যনগরে ন্যূনতম ৫০ হাজার টন ধান ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সরকারি ক্রয়কেন্দ্র বা সাইলো স্থাপন করে আমাদের কৃষক ও কৃষিকে রক্ষা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সরকার বলেন, মধ্যনগর উপজেলায় কম-বেশি ৬০-৬৫ হাজার টন ধান কৃষককে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে মণপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা কমে বিক্রি করতে হয়। এতে উপজেলার কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে ৩৫-৪০ কোটি টাকা কম পাচ্ছেন। তাই মধ্যনগরের কৃষক ও কৃষিকে বাঁচাতে এখানে একটি ধানের সাইলো স্থাপন করা আবশ্যক।

তিনি আরো বলেন, মধ্যনগরে একটি ধান শুকানো, সংরক্ষণ, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ও আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ আধুনিক সাইলো নির্মিত হলে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির অভিযোজন ঘটবে। প্রতিটি সাইলোতে ট্রাক ও বাল্ক ওজন যন্ত্র, কনভেয়িং, বাকেট এলিভেটর সিস্টেম থাকে। এসব সাইলোতে ২-৩ বছর কীটনাশক ছাড়াই ফসল মজুত করা যাবে। এতে বজায় থাকবে ফসলের মান ও পুষ্টিগুণ। আর কৃষক তার উৎপাদিত ধানের সরকারি ক্রয় সুবিধা পাবে। এতে কোটি কোটি টাকা লোকসানের হাত থেকে বাঁচবে কৃষক।

মধ্যনগর উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, মধ্যনগর উপজেলা সম্পূর্ণ এক ফসলি ও বোরো ধান উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল। এখানে সাইলো নির্মাণ করা হলে সারা বছর কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষকরাও ন্যায্যদাম পেয়ে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে উৎসাহিত হবে। এতে এক ফসলি এই মধ্যনগর উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে নব দিগন্তের সূচনা হবে। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App