×

এই জনপদ

হাতিয়ায় গ্রেপ্তার এড়াতে স্কুলে অনুপস্থিত ৪ শিক্ষক

Icon

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক ১৪ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হলেও নীরব কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এক শিক্ষক আইটিসিটি আইনে মামলা করার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার জাহাজমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন, মধ্য রেহানিয়া আবদুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর উদ্দিন তানবীর, ম্যাক পার্শ্বান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিন্নাত আরা বেগম ও হাসান উদ্দিন বিপ্লব (সাময়িক বরখাস্ত) গত ৬ মে থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, এসব শিক্ষকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ৫ মে নোয়াখালীর সুধারাম (সদর) থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ (আইসিটি) আইনে মামলা করেন হাতিয়ার ম্যাক পার্শ্বান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মামুন অর রশিদ। মামলার প্রধান আসামি সদর উপজেলার মাইজভান্ডার শরীফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তর করেছে। তিনি এখন কারাগারে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে বাদী মামুন অর রশিদের স্ত্রী নলুয়া রেহান আলী চৌধুরীর মোবাইল থেকে ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি হ্যাক করে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবিসহ অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব করেন। হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হলেন নলুয়া রেহান আলী চৌধুরী।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি আমজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

হাতিয়ার বিদ্যালয়গুলোতে খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের সভাপতিরা বলেন, কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে এসব শিক্ষকের এতদিন অনুপস্থিত থাকাটা অস্বাভাবিক।

হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মো. আবদুল জব্বার বলেন, আমার জানা মতে, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত আছেন। তবে হাজিরা খাতা অনুযায়ী ওই শিক্ষকরা ১৪ দিন অনুপস্থিত রয়েছেন, এমন প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে মোবাইল সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুভাশীষ চাকমা বলেন, বিষয়টি কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) মো. মনসুর আলী বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App