×

এই জনপদ

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিরাপত্তার দাবি

সোনারগাঁওয়ে নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ছে উত্তাপ

Icon

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আবদুস ছাত্তার, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) থেকে : আগামী মঙ্গলবার দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এদিকে ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তাপ বাড়ছে ভোটের মাঠে। ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হুমকি দিয়েছেন আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বাবুল ওমর বাবুর সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ রনি। এছাড়া ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণের অভিযোগ, নির্বাচন সুষ্ঠু ও হুমকিদাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসক, রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালাম। এছাড়া আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুল ওমর বাবুও একটি জনসভায় ঘোড়া প্রতীকের সমর্থনকারী আওয়ামী লীগ নেতা ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরুকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এমনকি ২১ মে নির্বাচনের পরে তাকে এলাকা থেকে উচ্ছেদ করারও হুমকি দেন বাবুল ওমর বাবুও। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে আনারস প্রতীক ও ঘোড়া প্রতীকের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন। এজন্য অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তারা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, র‌্যাব ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানান।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালাম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি সোহাগ রনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে তার কর্মীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছেন বলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তার নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেন সোহাগ রনি। অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হুমকির পোস্টে দেখা যায়, সোহাগ রনি তার আইডিতে বারদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও ঘোড়া প্রতীকের কর্মী মো. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে হুমকিস্বরূপ লিখেছেন, বারদীর কামাল। ঘোড়ার সঙ্গে যোগ দিছে। কারণ সে এখন আর দালালি করার সুযোগ পায় না। দালাল কামালরে যদি পাই চোরের মতো বান দিমু, ইত্যাদি ইতাদি। এছাড়া আরো কয়েকজন কর্মীকে হুমকি দিয়েছেন সোহাগ রনি। হুমকি দেয়া ছাড়াও চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় সোহাগ রনি তার বাড়িতে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে নির্বাচনী মাঠে ভীতি প্রদর্শনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ঘোড়া প্রতীকের ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ করে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙিয়ে নেতাকর্মীদের হত্যারও হুমকি দিচ্ছে। তাই নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করার লক্ষে সোহাগ রনির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয় অভিযোগপত্রে। এছাড়া কাঁচপুর, পিরোজপুর, শম্ভুপুরা, সনমান্দি, বারদী, নোয়াগাঁও ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন এলাকার ৪০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ সার্বক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন মাহফুজুর রহমান কালাম।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ রনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো মিথ্যা, বানোয়াট।

প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ ও পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল জানান, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করতে আইনগতভাবে যা যা করার দরকার তাই করা হবে। কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে পার পাবে না। সে যেই হোক না কেন।

উল্লেখ্য, সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম (ঘোড়া), উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সদস্য বাবুল ওমর বাবু (আনারস), উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু (মোটরসাইকেল) ও সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার (দোয়াত কলম)। সোনারগাঁও পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪২টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৬। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮১ হাজার ৪১৪ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৫৪ জন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App