×

এই জনপদ

বিএনপি-জামায়াতের ভোটার কেন্দ্রে গেলে পাল্টে যাবে চিত্র

জামালগঞ্জে ত্রিমুখী লড়াই

Icon

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জামালগঞ্জে ত্রিমুখী লড়াই
সুনামগঞ্জ ও জামালগঞ্জ প্রতিনিধি : জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন- বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. ইকবাল আল আজাদ (ঘোড়া), জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম (মোটরসাইকেল) ও উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুল হক আফিন্দী (আনারস)। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র তিন তিন। শেষ মুহূর্তে জোরেশোরে চলছে তিন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ। তবে এ উপজেলায় ভোটের হিসাব-নিকাশ আগেভাগে মেলানো খুবই কঠিন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। তারা বলছেন, এ উপজেলায় প্রচারণায় এগিয়ে থাকেন একজন আর বিজয়ী হন অন্যজন। উপজেলায় ভোটের আগে স্থানীয়-অস্থানীয় এবং সাম্প্রদায়িক ইস্যু ব্যাপক কাজে লাগানো হয়। এখানকার স্থানীয় ভোটারদের (সিলেটি ভোটার) মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের বিপুল ভোট ব্যাংক রয়েছে। তারা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ভোটে যাননি। এবারো ভোটে না যাওয়ার ক্যাম্পেইন করছেন দলের সিনিয়র নেতারা। এ নির্বাচনে বহিষ্কৃত হয়েও এখন পর্যন্ত ভোটের মাঠে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী। তাই এবারের ভোটের চিত্র কিছুটা বদলাতে পারে। বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা যদি ভোট দিতে যান তাহলে নুরুল হক আফিন্দীকে ঠেকানো কঠিন হবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগের দুই প্রার্থীর। প্রথম দিকে রেজাউল করিম শামীমের জনপ্রিয়তা কিছুটা কম থাকলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার জনপ্রিয়তাও বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম ও উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি নুরুল হক আফিন্দীর মধ্যেই লড়াই হবে। তবে কে হাসবেন বিজয়ের হাসি তা বলা খুবই কঠিন। জানা যায়, উপজেলার সাচনা বাজার ও ভীমখালী ইউনিয়নে রেজাউল করিম শামীম ও নুরুল হক আফিন্দীর মধ্যে লড়াই হবে। জামালগঞ্জ সদর ও উত্তর ইউনিয়নে ইকবাল আল আজাদের ভোট বেশি। বেহেলী ইউনিয়নে রেজাউল করিম শামীম ও ইকবাল আল আজাদ প্রচারণায় এগিয়ে। ফেনারবাক ইউনিয়নে তিন প্রার্থীরই ভোট রয়েছে। জামালগঞ্জ উপজেলার একজন গণমাধ্যমকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একেক ইউনিয়নে একেক প্রার্থীর ভালো অবস্থা। ভোটের প্রচারণায় রয়েছে ভিন্নতা। তিনজনই সমানে সমান। কে জিতবে বলা কঠিন। লড়াই হবে ত্রিমুখী। তবে বিএনপি-জামায়াত ভোটকেন্দ্রে গেলে বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি নুরুল হক আফিন্দীকে ঠেকানো কঠিন হবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ দুই নেতারই। জামালগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৫৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬৬ হাজার ২৭২ জন এবং নারী ৬৩ হাজার ৩১০ জন, হিজরা ভোটার রয়েছেন ১ জন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু জামালগঞ্জ : সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলার মধ্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে জামালগঞ্জ। এ উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রেজাউল করিম শামীম। তিনি সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান। জেলার রাজনীতিতে তার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুটের ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে পরিচিত তিনি। ইতোমধ্যে নুরুল হুদা মুকুট শামীমের পক্ষে সভা করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি শামীমকে সোনার টুকরো ছেলে বলে আখ্যায়িত করেছেন। আজ শনিবার মুকুট উপজেলার লালবাজারে শামীমের পক্ষে প্রচারসভায় বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। অন্যদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ তার বাবা সাবেক দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদের ইমেজ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য রঞ্জিত সরকারের পক্ষে গত জাতীয় নির্বাচনে কাজ করায় তার রয়েছে রঞ্জিত সমর্থকদের আশীর্বাদ। তাছাড়া অসাম্প্রদায়িক পরিবারের সদস্য হিসেবে উপজেলার সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের নীরব সমর্থনও রয়েছে তার। এদিকে গতকাল শুক্রবার সাচনা বাজার, ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সংসদ সদস্য রঞ্জিত সরকার সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত সফর করায় ইকবাল আল আজাদের কর্মীরা বেশ উৎফল্ল মেজাজে রয়েছে। যদিও রঞ্জিত সরকার কারো পক্ষেই মুখ খুলছেন না। এ উপজেলায় আরেকজন হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন, সাচনা বাজার ইউনিয়নের তিনবারের চেয়ারম্যান সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী। তার রয়েছে ভীমখালী সাচনা ও বেহেলী ইউনিয়নে পারিবারিক একটা ভোট ব্যাংক। তাছাড়া রঞ্জিত সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট আরেকটি বলয় তার পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, জামায়াত-বিএনপির ভোটাররা যদি কেন্দ্রে আসেন তাহলে নুরুল হক আফিন্দী বাজিমাত করবেন। তবে ফলাফল যাই হোক এই মুহূর্তে সমগ্র জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এ উপজেলার নির্বাচন। কারণ জেলা সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট ও স্থানীয় সাংসদ রঞ্জিত সরকার দুজনেই এ মুহূর্তে উপজেলায় উপস্থিত আছেন। কর্মীরাও ত্রিমুখী প্রতিদ্ব›িদ্বতায় রয়েছেন শক্তভাবে। এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন গত বুধবার রেজাউল করিম শামিমের পক্ষে জনসংযোগ করে গেলেও রহস্যময় নীরবতায় আছেন একই উপজেলার বাসিন্দা সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য শামিমা শাহরিয়ার ও তার স্বামী সাবেক ছাত্রনেতা শাহরিয়ার চৌধুরী বিপ্লব। গত কয়েকটি নির্বাচনে উপজেলার সবকটি গ্রামে চষে বেড়ানো শাহরিয়ার বিপ্লবের নীরবতাও আলোচনায় রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত তারা কোন পক্ষে অবস্থান নেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App