×

এই জনপদ

চলনবিলের কৃষিজমিতে পুকুর খননের মহোৎসব

Icon

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চলনবিলের কৃষিজমিতে  পুকুর খননের মহোৎসব
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : জেল জরিমানা কোনো কিছুতেই থামছে না পুকুর খনন। চলনবিলে রাতদিন প্রকাশ্যে কৃষিজমিতে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব। কৃষিজমির এসব মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। খোলা ডাম ট্রাক ও ট্রাক্টরযোগে মাটি পরিবহন করায় নষ্ট হচ্ছে পাকা, আধাপাকা ও ঢালাই রাস্তাঘাট। আবার মাটিবাহী এসব গাড়ির বেপরোয়া গতিতে একদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনা, অন্যদিকে ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। কৃষিজমিতে অবাধে পুকুর খননে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্টের পাশাপাশি দ্রুত কমছে কৃষিজমি। দ্রুতই কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়া হলে চলনবিলেও কৃষিজমি বিলুপ্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা। সম্প্রতি সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুকুর খননের মাটি বাণিজ্যে নেমেছেন স্থানীয় জনপ্রনিধি, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নামধারী নেতাকর্মীসহ অসাধু একশ্রেণির মাটি ব্যবসায়ী। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিধি নিষেধও কাজে আসছে না। উল্টো তারই লোকজন প্রকাশ্যে দাম্ভিকতা দেখিয়ে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। ফলে চলনবিল অধ্যুষিত এলাকা জেলার গুরুদাসপুর, সিংড়াসহ পাশের আরো কয়েকটি জেলায় অবৈধভাবে চলছে ফসলি জমিতে পুকুর কাটার কাজ। এতে হুমকিতে পরেছে চলনবিলের মৎসজীবী, জলজপ্রাণী, কৃষক ও কৃষিজমিসহ জীববৈচিত্র্য। গুরুদাসপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালে গুরুদাসপুরে ফসলি জমির পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৬০৯ হেক্টর। চলতি বছর এই জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার হেক্টরে। তথ্যমতে, ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ফসলি জমি কমেছে ১১২৫ হেক্টর। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ জানান, এভাবে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করায় মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে ফসল উৎপাদন। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্বিচারে পুকুর খনন করায় প্রতি বছরই আশঙ্কাজনক হারে কমছে ফসলি জমি। এভাবে চলতে থাকলে মাছে ভাতে নয় মাছে মাছে বাঙালি হতে হবে। পরবর্তী সময়ে ইচ্ছা করলেও এই ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে না। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় সরজমিন গুরুদাসপুরের বিয়ঘাট ইউনিয়নের চিকুরমোড় বাবলাতলা, জ্ঞানদা নগর ধলার বিল ও হাড়িভাঙ্গা বিলে গিয়ে দেখা যায়, জেলা পরিষদের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সরকার মেহেদী হাসান প্রায় শতাধিক বিঘা এবং ধারাবারিষা ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে অর্ধশত বিঘা জমিতে পুকুর খনন করছেন যুবলীগনেতা মণ্ডল হাবীব। এভাবে অসংখ্য নেতার নামে-বেনামে পুকুর খনন চলছে বলে জানান এলাকাবাসী। তারা আরো জানান, এসব নেতারা সরকার দলীয় এমপির লোক হওয়ায় ক্ষমতার দাপটে প্রকাশ্যেই ত্রিফসলি জমি থেকে মাটি কাটলেও প্রতিবাদ করতে গেলে মার খেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভেকু ব্যবসায়ী সরকার মেহেদী হাসান ও মণ্ডল হাবীবকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তারা কল ধরেননি। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা আক্তার বলেন, গুরুদাসপুর, তাড়াশ, চাটমোহর এবং সিংড়া উপজেলা চলনবিল অধ্যুষিত এলাকা। বিলে পুকুর খনন করায় ফসলি জমি কমে যাওয়ার পাশাপাশি মারাত্মকভাবে চলনবিলের সৌন্দর্যহানি হচ্ছে। এ কারণে পুকুর খনন বন্ধে প্রচার-প্রচারণা ও জেল জরিমানাসহ অভিযান অব্যাহত রেখেছেন তিনি। এ বিষয়ে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী তার মোবাইল ফোনে জানান, আপনারা সরকারের পাশে থাকেন। আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে কেউ ত্রিফসলি জমিতে পুকুর খনন করে পার পাবে না। সে যেই হোক তাদের আইনের আওতায় আসতেই হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App