×

এই জনপদ

থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪২ পদ শূন্য, সেবা ব্যাহত

Icon

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪২  পদ শূন্য, সেবা ব্যাহত
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি : ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়া জোন থানচি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ১৩ জন আবাসিক চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ৫ জন কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন চিকিৎসক বান্দরবানে প্রেষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রধান সহকারী, হিসাবরক্ষক, ক্যাশিয়ারকেও প্রেষণে রাখা হয়েছে। এ অবস্থার কারণে উপজেলার চিকিৎসাসেবার হযবরল অবস্থা চলছে। হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার অবকাঠামো উদ্বোধন হলেও দীর্ঘ ৪ বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। এখনো ৩১ শয্যা রয়ে গেছে। চিকিৎসকসহ ৪২টি পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের সামান্য বৃষ্টিতে পাহাড়ে ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, তলপেটে ব্যথাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। আক্রান্তদের চিকিৎসা পেতে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গিয়ে দেখা যায়, মহিলা ওয়ার্ডে আটজন ও পুরুষ ওয়ার্ডে একজন ভর্তি রোগী দেখছেন একজন চিকিৎসক। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে সরকারিভাবে প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ১৩ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন ৫ জন। এর মধ্যে ২ জন বান্দরবান সদর হাসপাতালের প্রেষণে রয়েছেন। সিনিয়র-জুনিয়র নার্স ১৮ জনের জায়গায় আছেন ৪ জন। ১৪টি পদ শূন্য। মিডওয়াইফ ৪ জনের স্থলে আছেন ৩ জন। স্বাস্থ্য সহকারী ১৩ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬ জন। ৭ পদ শূন্য। কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রভাইডার (সিএইচসিপি) ৭ জনের জায়গায় আছেন ৬ জন। স্বাস্থ্য পরিদর্শকের একটি পদ, সেটিও শূন্য। নাইট গার্ড ২ জন জায়গায় আছেন ১ জন। অন্যজন বান্দরবানে প্রেষণে রয়েছেন। ক্যাশিয়ার ও প্রধান সহকারী ২ জনকে বান্দরবানে প্রেষণে রাখা হয়েছে। প্যাথলজিস্ট ২ জন রয়েছেন। সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৪ জনের স্থলে ৩ জন আছেন। ল্যাব টেকনিশিয়ান ২ জনের মধ্যে ১ জন। ফার্মাসিস্টের ২টি এবং মেডিকেল টেকনোলজি রেডিওগ্রাফারে ১টি পদ শূন্য। আয়া, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার ১৯ জন স্থলের ১৪ জন আছেন। সব মিলিয়ে ৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, কর্মকর্তাসহ চিকিৎসক চারজনের মধ্যে ২ জন প্রেষণে বান্দরবানে আছেন। আমরা দুজন আছি। মাসের ১৫ দিন ভাগ করে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। সরকারি চাকরি, কষ্ট হলেও কিছু করার নেই আমাদের। যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, গত মাসে কুকি-চিন ন্যাশন্যাল ফ্রন্ট-কেএনএফ ব্যাংকে ডাকাতি করার পর যৌথবাহিনীর অভিযানে দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা দিতে কর্মীদের আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য রয়েছে। তিনি প্রেষণের থাকা কর্মকর্তাদের ফেরত দেয়ার দাবি জানান। বলেন, চলতি মৌসুমে পাহাড়ে বিভিন্ন রোগ বেশি দেখা দিয়েছে। তাই ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, ভাইরাস জ¦র, পেটব্যথা, সর্দি-কাশির সেবা দিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এজন্য শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App