×

এই জনপদ

বাস টার্মিনালে ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ভ্রমণকারীরা

নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে

Icon

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা  কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কুয়াকাটার বাস টার্মিনালের যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য পরিচ্ছন্নকর্মী থাকলেও ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো বাস টার্মিনাল এলাকা। এতে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ আগত পর্যটকরা। দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকরা বাস টার্মিনালে নেমেই নাক চেপে ধরে স্থান ত্যাগ করছেন। বাস টার্মিনালের এমন পরিবেশ দেখে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন তারা। ময়লা-আবর্জনা ফেলার সুনির্দিষ্ট কোনো ডাস্টবিন না থাকায় এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। এ দুরবস্থার কারণে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরজমিন দেখা গেছে, বাস টার্মিনালের চারপাশে বাউন্ডারি ওয়ালের আশপাশের সবখানেই ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। এসব ময়লা আবর্জনার স্তূপে মশা, মাছির সৃষ্টি হয়েছে। এসব থেকে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়সহ নানা রকম রোগের জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাস টার্মিনালের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক রাতে পরিবহনে যাত্রা শুরু করে সকালে এসে কুয়াকাটা পৌর বাস টার্মিনালে নামেন। এসব আগত পর্যটক দর্শনার্থী পৌর প্রশাসন আছে কি না জানতে চান। পৌর প্রশাসক থাকলে এমন অবস্থা কেন এমন প্রশ্ন করেন তারা। তখন আমাদের মুখ ছোট হয়ে যায়। উত্তর দিতে পারি না। খুলনা থেকে আগত পর্যটক লায়েকুজ্জামান লাক্কু দম্পত্তি বলেন, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক আসেন এখানে। কিন্তু পর্যটন এলাকার বাস টার্মিনালের এমন বেহালদশা আমাদেরকে রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলেছে। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জহিরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পরে ঢাকার অনেক লোক এখন কক্সবাজার না গিয়ে ঝুঁকছেন দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার দিকে। কিন্তু এখানকার বাস টার্মিনালে নেমেই চোখে পড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, যেটা খুবই দুঃখজনক। এটা পর্যটন শিল্পের জন্য হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিঙ্কন বায়েন বলেন, পর্যটনকেন্দ্র পৌরসভা এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোনো সুযোগই নেই। পৌর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে সরকার প্লাস্টিক বজ্রের উপর খুবই গুরুত্ব দিয়েছে। প্লাস্টিক জাতীয় কোনো পণ্য একবারের বেশি ব্যবহার করতে পারবে না এবং ব্যবহারের পর সুনির্দিষ্ট জায়গায় ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাই কুয়াকাটা পৌর বাস টার্মিনালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ করলে একদিকে পর্যটক মুখ ফিরিয়ে নিবে, অন্যদিকে পর্যটন শিল্পের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ব্যাপরে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, বাস টার্মিনালের জন্য নির্ধারিত ক্লিনার রয়েছে। তাদের কাজ হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। এখনই পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App