×

এই জনপদ

ময়মনসিংহের কিশোর রাশেদ হত্যা

আদালতের নির্দেশের ২০ দিনেও হয়নি এফআইআর

Icon

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের সদর উপজেলার হিরন পলাশিয়া গ্রামের কিশোর রাশেদ মিয়ার (১১) মৃত্যুতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারে। তিন মাস ধরে আদালত ও থানায় ঘুরছেন নিহতের বাবা-মা ও ভাই। ময়নাতদন্তে ঘটনাটি হত্যা বলে প্রমাণ হলে আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু গত ২০ দিনেও রেকর্ড করেনি পুলিশ। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাশেদের মৃত্যু নিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে জমা দেয়া প্রতিবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, ইটের গাথুনির দেয়াল ধসে রাশেদের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৬ মার্চ দেয়া ময়নাতদন্ত রিপোর্টে রাশেদের মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা বলে উল্লেখ করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শোহাব নাহীয়ান। এ ঘটনায় গত ২৪ এপ্রিল ময়মনসিংহের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল হাই বাদীর অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ১ নং আমলি আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মঞ্জুরুল হক। তিনি বলেন, রাশেদ মিয়ার সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং নথি পর্যালোচনা করে বাদীর নালিশী দরখাস্তের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৭ জানুয়ারি ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে কিশোর রাশেদ মিয়া খুন হয় বলে আদালতে দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন বাদী ও নিহতের বাবা মো. আজিম উদ্দিন। বাদী আরো বলেন, ১৭ জানুয়ারি আমার ছেলে খুন হওয়ার পর থানা পুলিশ অভিযুক্ত সাতজনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে পরদিন ১৮ জানুয়ারি সাধারণ ডায়েরি করে তাদের ছেড়ে দেয়। তখন আমি থানায় মামলা করতে গেলে দেয়াল ধসে ইটের আঘাতে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে মামলা নেয়নি পুলিশ। এ ঘটনার ছয়দিন পর ময়মনসিংহের ১ নং আমলি আদালতে আটকের পর ছাড়া পাওয়া সাতজনকে আসামি করে আমি একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। এই মামলার আসামিরা হলো- মাইনুদ্দিন, আকাশ, মহিদুল, শরীফ, রিপন মিয়া, সবুজ ও সাকিব। ১৬ মার্চ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হলে ২৪ এপ্রিল আদালত আমার দায়ের করা আবেদন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার মামলাটি থানায় এফআইআর হয়নি। ফলে আসামিরা আমার ছেলেকে খুন করেও বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। নিহত রাশেদের মা রাশিদা বেগমের অভিযোগ, পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করেছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রভাব খাটিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেয়। রাশেদের বড় ভাই রাশিদুল হাসান বলেন, আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে খুন করেছে। যারা মেরেছে তারা নেশাখোর, এলাকার সবাই তা জানে। কয়েকদিন আগে এরা এলাকার আরেকটা ছেলেকে মারধর করেছে। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আবু হানিফ বলেন, এক কিশোর মারা যাওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তখন পুলিশ এসে সাতজনকে ধরে থানায় নিয়ে এসেছিল। এর একদিন পর তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। এতে আমার কোনো প্রভাব নেই। তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দেয়াল ধসে ইটের আঘাতে মৃত্যু বলে ধারণা করা হয়েছিল। এ নিয়ে আদালতে একটি প্রতিবেদনও দাখিল করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি এ ঘটনার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল হয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশে তদন্ত চলছে, তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, দেয়াল ধসে ইটের আঘাতে মৃত্যু বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। বিস্তারিত তদন্তে জানা যাবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App