×

এই জনপদ

বিলুপ্তির পথে টাংগুয়ার হাওরের বিন্না ঘাস

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিলুপ্তির পথে টাংগুয়ার হাওরের বিন্না ঘাস
রাসেল আহমদ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে : সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্য রামসার সাইট টাংগুয়ার হাওর এলাকা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে হাওর জনপদের পরিচিত উদ্ভিদ বিন্না ঘাস। স্থানীয়রা একে বিন্না ছন বলেন। এক সময় টাংগুয়ার হাওরের কান্দায় (হাওরসংলগ্ন উঁচু পতিত ভূমি), বিভিন্ন রাস্তার ধারে বনবাদাড়ে এই বিন্না ঘাস প্রকৃতিতে শোভাবর্ধন করত। স¤প্রতিকালে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন অজুহাতে কান্দা কাটার মহোৎসব চলতে থাকায় বিন্না ঘাস অস্থিত্ব হারিয়ে বিলুপ্তির পথে হাঁটছে। এছাড়া অযতœ অবহেলার কারণেও ঘাসগুলো আর হাওরাঞ্চলের রাস্তার ধারে এবং বনবাদাড়ে সচরাচর চোখে পড়ে না। বিন্না ঘাস নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার তথ্যসূত্রে জানা যায়, বিন্না ঘাস হলো একটি জৈব-প্রকৌশল সমাধান। পৃথিবীর অনেক দেশে এই বিন্না ঘাস নিয়ে গবেষণা চলছে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ও গবেষকরা বিন্না ঘাসকে বলেন পাহাড় রক্ষার ‘জাদুর ঘাস’। তাদের মতে, পাহাড়ের পার্শ্বঢাল রক্ষায় বিন্না ঘাসের জুড়ি নেই। তাই প্রকৃতিতে অনেকটা অনাদরে জন্ম নিলেও এই ঘাসের খ্যাতি ও কদর বিশ্বজোড়া। বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ক্ষয়রোধ ও পাহাড়ধস বন্ধে পার্শ্বঢালে এই জাদুকরি ঘাস লাগানো হয়। কারণ বিন্না ঘাসের মূল গভীরে গিয়ে মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে রাখে। এর লম্বা শিকড় অল্প দিনেই মাটির নিচে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় শিকড় চলে যায় ১০ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত গভীরে। আরো জানা যায়, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে মাটিতে বোনা ঘাস ঢাল রক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এই ঘাস দিয়ে নদীর তীর, পাহাড়ি ঢাল, রাস্তাঘাট সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা রক্ষা করা সম্ভব। বিন্না ঘাসের লম্বা মূল বা শেকড় খুব দ্রুত মাটির গভীরে ঢুকে মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে। এই ঘাসের সহনশক্তি ইস্পাতের ছয় ভাগের এক ভাগ। ঘাসগুলো প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও তীব্র গরমে অর্থাৎ প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। এমনকি লবণাক্ত পানিতেও। বাংলাদেশেও বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিত্যক্ত জমিতে ভূমিহীন নারীরা এই ঘাসের চাষ করছে। তাছাড়া এলজিইডির অধীনে নির্মিত সড়কের ঢালে ব্লকের পরিবর্তে এখন থেকে বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যনগর উপজেলায় এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ ও পশু বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম এ আওয়াল বলেন, বাংলাদেশের অনেক জেলায় এ ঘাসের সন্ধান মিলেছে। বাংলাদেশে পাওয়া প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম ভেটিভারিয়া জাইজানিওডিস। পানি পরিষ্কার করতে এবং পানি থেকে আর্সেনিক দূর করে দূষণ কমাতেও এ ঘাস কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিন্না ঘাসের শিকড় দিয়ে তৈরি হয় পারফিউম, সাবান, হারবাল পানীয় আর ঘাসের শুকনো পাতা দিয়ে তৈরি করা যায় পাটি। মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের জনপ্রিয় পানীয় রুহ আফজার অন্যতম উপাদান এই বিন্না ঘাস।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App