×

এই জনপদ

শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

Icon

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটে  চিকিৎসাসেবা ব্যাহত
শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি, শিশু, অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ডেন্টাল সার্জনসহ সব বিশেষজ্ঞ পদই শূন্য রয়েছে। হাসপাতালে ১৮ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও এখানে আছেন মাত্র ৫ জন ডাক্তার। এর মধ্যে একজন ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে। অপর একজন চিকিৎসক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাবেন অচিরেই। এ ছাড়া ২০ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও আাছে মাত্র ৫ জন। আয়ার ৪টি পদ শূন্য এবং হাসপাতালে নেই কোনো পরিছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তা প্রহরী। এ ছাড়া হাসপাতালে নেই কোনো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। অপরদিকে উপজেলার একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিদিনই বাড়ছে জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় অন্যত্র ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তাররা। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় মেডিকেল অফিসার দিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় অধিকাংশ অভিভাবক শিশুকে নিয়ে ছুটছেন ৫০ কিলোমিটার দূরে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেটে এবং ১৫ কিলোমিটার দূরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল সুনামগঞ্জে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নেয়া রোগী ও অভিভাবকরা। এছাড়া প্রতিদিন রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার ও নার্সরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গাইনি, শিশু, অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ডেন্টাল সার্জনসহ সব বিশেষজ্ঞ পদই শূন্য রয়েছে। হাসপাতালে ১৮ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও এখানে আছেন মাত্র ৫ জন। এর মধ্যে একজন ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে ও অপর একজন অচিরেই যাবেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। এ ছাড়া ২০ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও আছেন ৫ জন। আয়ার ৪টি পদ শূন্য এবং হাসপাতালে নেই কোনো পরিছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তা প্রহরী। আরো জানা গেছে, অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রসূতিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। তাই প্রসূতিদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করে সিলেট অথবা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যেতে হয়। তাছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পুরোদমে চালু হলেও রোগীর রোগ নির্ণয় বা পরীক্ষার জন্য এখানে নেই কোনো যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা। নয় মাসের শিশুকে ডায়রিয়াজনিত কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছিলেন আসলাম উদ্দিন। তিনি বলেন, দুদিন ভর্তি থেকে শিশুর কোনো উন্নতি দেখতে না পাওয়ায় এবং হাসপাতালে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুকে নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। আলহামদুলিল্লাহ আমার মেয়ে এখন সুস্থ আছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিন দেখা গেছে, বহির্বিভাগে চিকিৎসা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. তারিক জামিল অপু তার চেম্বারে রোগী দেখছেন। সেখানে রোগীদের ভিড় ও লম্বা লাইন। তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে তাদের দুই থেকে ৩০০ রোগী দেখতে হয়। উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসান বলেন, শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় আমরা মেডিকেল অফিসার দিয়ে শিশুদের সেবা দিচ্ছি। যদিও হাসপাতালে পর্যাপ্ত মেডিকেল অফিসার নেই। তবে শিশুদের জটিল কোনো সমস্যা হলে সিলেট কিংবা সুনামগঞ্জে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাছাড়া পর্যাপ্ত জনবল সংকট ও পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দখলে এখনো কিছু কক্ষ থাকার কারণে স্বাস্থ্যসেবা তো একটু ব্যাহত হচ্ছেই। তবে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি বিশেষ করে এখানে শিশু ও গাইনি বিশেষজ্ঞ দেয়ার জন্য। তারাও চেষ্টা করছেন। ল্যাব সেবা চালু করার জন্য সব যন্ত্রপাতির জন্য চাহিদা দেয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে ওষুধের ঘাটতি রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App