×

এই জনপদ

লিখিত ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ দাবি

সুনামগঞ্জে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

Icon

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ, সুনাসগঞ্জ থেকে : সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী সিভিল সার্জনের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সকাল ১০টা থেকেই চাকরিপ্রত্যাশী প্রার্থীরা অফিসের বারান্দায় ভিড় করছিলেন। আবেদনকারীরা এসব অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যম অফিসে অফিসে গিয়েও ভিড় করেছেন। চাকরিবঞ্চিত প্রার্থীরা জানান, স্বাস্থ্য সহকারী পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর থেকেই নানা বিষয়ে সন্দেহ হচ্ছিল তাদের। নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর সবার এ সন্দেহ আরো বেড়ে যায়। এ কারণে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। জানা যায়, সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর ও ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট দুটি পৃথক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ২৩৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সহকারী পদে ১৯৩ জন, সাট মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ১ জন, অফিস সহকারী ১৬ জন, পরিসংখ্যানবিদ ৮ জন, কীটতত্ত্ববীয় টেকনেশিয়ান ২ জন, স্টোরকিপার আটজন ও ড্রাইভার ৮ জন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সবকটি পদে ৩৮ হাজার ৩১৪ জন নিয়োগ প্রার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে শুধু স্বাস্থ্য সহকারী পদে আবেদন করেন ১২ হাজার ৫৯ জন। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ হাজার ২৬৮ জন। উত্তীর্ণ হন এক হাজার ৫২ জন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৭ মে ১৯৩ জনকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হিসেবে জানিয়ে দেয়া হয়। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর নিয়োগবঞ্চিত অর্ধশতাধিক চাকরি প্রার্থী পরীক্ষায় অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা হয়েছে দাবি করে লিখিত অভিযোগে জানান, লিখিত পরীক্ষার ফলাফল গত ২৫ এপ্রিল প্রকাশের পর ২৬ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল দুদফায় সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করায় তাদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, প্রকাশিত ফলাফলে নানা অনিয়ম ও ভুলে ভরা রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক হলেও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে বহু ওয়ার্ডে। এ অবস্থায় পুরো বিষয়টির পুনঃনিরীক্ষণ দাবি করেছেন নিয়োগ প্রার্থীরা। খোকন মিয়া নামে এক প্রার্থী বলেন, আমি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আমাদের ওয়ার্ডের চারজন নিয়োগ প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেই। কিন্তু নিয়োগ হয়েছে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আরেক জনের। অথচ এটাই আমার শেষ পরীক্ষা ছিল। আমার বয়স শেষ, সরকারি চাকরিতে আর আবেদন করতে পারব না। তার মতো অনেকেই এভাবে অভিযোগ করে পরীক্ষাসহ সব কাগজপত্র পুনঃনিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন বলেন, আমরা দক্ষতার সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। ভুলত্রæটি থাকলে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হলেও পরে তা সংশোধন হবে। কেউ ভুল তথ্য দিলে গোয়েন্দা রিপোর্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার নিয়োগ বাতিল হবে। লিখিত পরীক্ষার সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি জগন্নাথপুর ও দিরাইয়ে দুইবার প্রকাশ এবং ওই নাম্বার থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাম্বারে ডিজিট ব্যবধান ছিল। শূন্য কম-বেশি ছিল। এসব কারণে সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। এত ভুল কীভাবে আর কেন হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন- আমাদের লোকজন নিয়োগ পরীক্ষায় এতটা দক্ষ ছিল না। তাছাড়া আমাদের অনেক স্টাফদের সন্তান পরীক্ষা দিচ্ছিল। এজন্য তাদের নিয়োগ কার্যক্রম থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App