×

এই জনপদ

লোহাগড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি

Icon

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : লোহাগড়ায় কালবৈশাখীতে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, গাছপালা উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের তার ছেঁড়া ও খুঁটি ভেঙে পড়াসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানের টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বিদ্যুতের তার ছেঁড়াসহ ভেঙে গেছে ৪-৫টি খুঁটি। ঝড়ের পর থেকে উপজেলার কাশিপুর ইউপির গন্ডব, আড়পাড়া, জয়পুর ইউপির জয়পুর, নোয়াগ্রাম ইউপির নোয়াগ্রাম, শামুকখোলা, মাধবহাটি, শালনগর ইউপির পার-শালনগর, রামকান্তপুর, বাতাশীসহ কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে কালবৈশাখীর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাড়িঘরসহ গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের ৪-৫ খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কাশিপুর ইউনিয়নের গন্ডব গ্রামে কয়েকটি বাড়িতে টিনের ঘরের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে রয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নোয়াগ্রাম ইউপির আড়পাড়া গ্রামে গেলে রেখা বেগম জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকালে ঝড়ে দুটি গাছ ভেঙে তাদের ঘরের ওপর পড়ে ঘরটি চুরমার হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একই ইউনিয়নের ধলু মিয়া বলেন, বিকালের ঝড়ে তাদের গ্রামে বিভিন্ন প্রকার গাছ পড়ে অনেক লোকের ঘর ভেঙে রয়েছে। গন্ডব গ্রামের আলী আকবর জানান, বাড়ির পাশে তাদের একটি বড় আম গাছ বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালের কালবৈশাখীতে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি ক্ষতিগস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। গাছপালা পড়ে বিদ্যুতের তার ছেঁড়া ও খুঁটি ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোহাগড়া ও নড়াইলের পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ লাইন চালু করতে পারলেও রাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংযোগ চালু করতে পারেনি। খবর পেয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল লতিফ ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং দ্রুত লাইন সচল করার জন্য ঠিকাদারদের কাজের নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে লোহাগড়া পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এটিএম তারিকুল ইসলাম বলেন, ঝড়ের সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের লোকজনসহ আমরা বেরিয়ে পড়ি। মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করে গুরুত্ব জায়গায় বিদ্যুৎ চালু করতে সক্ষম হই। শুক্রবার (গতকাল) ঠিকাদারের মাধ্যমে খুটি স্থাপন করে বাকি সংযোগ চালু করার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইসরাফিল আলম জানান, কালবৈশাখীতে এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App