×

এই জনপদ

হালদা পাড়ে অকেজো ২ হ্যাচারি ডিম সংগ্রহকারীরা সুফলবঞ্চিত

Icon

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হালদা পাড়ে অকেজো ২ হ্যাচারি ডিম সংগ্রহকারীরা সুফলবঞ্চিত
এম. রমজান আলী, রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে : হালদা নদীতে প্রতি বছর চৈত্র থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যে পূর্ণিমা তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল নামলে কার্পজাতীয় (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) মা মাছ ডিম ছাড়ে। ডিম সংগ্রহকারীরা নদী থেকে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করার পর মাটির তৈরি কূয়ায় বা হ্যাচারিতে রেণু ফুঁটিয়ে থাকেন। ডিম থেকে রেণু ফোটানোর জন্য নদীর দুই পাড়ে সরকারিভাবে ৬টি হ্যাচারি আছে। তবে একটিতেও নেই জনবল। রাউজানের অংশে তিনটি হ্যাচারির মধ্যে দুইটি হ্যাচারি অকেজো। কাগতিয়া হ্যাচারি ও পশ্চিম গহিরা হ্যাচারি অকেজো হলেও সচল একমাত্র মোবারকখীল হ্যাচারিটি। গত ৫ বছরে অকেজো হ্যাচারিগুলো সচল করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাগতিয়া এলাকার ডিম সংগ্রহকারী মোহাম্মদ শফি জানান, বাপ-দাদার আমলে মাটির কূয়াতে ডিম রেণু ফোঁটানো হতো। নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে নিজেদের মাটির কূয়াতে রেণু ফোঁটাতেন ডিম সংগ্রহকারীরা। সে সময়ে সরকারিভাবে কোনো হ্যাচারি ছিল না। জানা যায়, কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে মৎস্য অধিদপ্তর রাউজানের অংশে কাগতিয়া হ্যাচারি, পশ্চিম গহিরা হ্যাচারি ও মোবারকখীল হ্যাচারি তৈরি করা হয়। নির্মাণের এক বছরের মধ্যে দুইটি হ্যাচারি পরিচর্যার অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছে। সঠিক জায়গায় হ্যাচারি তৈরি না করায় এগুলো থেকে সাফল্য পাওয়া যায়নি বলে মনে করেন ডিম সংগ্রহকারীরা। সরজমিন দেখা যায়, কাগতিয়া হ্যাচারিটি এখন ভূতের বাড়ি। পশ্চিম গহিরা হ্যাচারিটি জরাজীর্ণ। এ প্রসঙ্গে হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, হালদা নদীর দুপাশে বর্তমানে ৪টি কার্যকর সরকারি হ্যাচারি রয়েছে। যার ৩টি হাটহাজারী অংশে (মদুনাঘাট, শাহমাদারী ও মাছুয়াঘোনা হ্যাচারি) এবং অবশিষ্ট ১টি রাউজান অংশের মোবারকখীল হ্যাচারি। হালদা নদীর দুপাশে হ্যাচারির সংখ্যা খুবই কম পাশাপাশি প্রতিটি হ্যাচারিতে কূয়ার সংখ্যা ও প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। যার ফলে ২০২৩ সালে হালদা নদী থেকে সংগৃহীত কার্পজাতীয় মা মাছের অনেক ডিম হ্যাচারি সংকটে নষ্ট হয়ে যায়। তাই হালদা থেকে সংগৃহীত কার্পজাতীয় মা মাছের নিষিক্ত ডিমের শতভাগ হ্যাচিং (ডিম ফুঠানো) নিশ্চিতের জন্য হালদার দুপাড়ে হ্যাচারির সংখ্যা বাড়াতে হবে। হ্যাচারিতে কূয়ার সংখ্যাও বাড়ানোর দরকার। অকেজো হ্যাচারিগুলোর মেরামত ও আধুনিকায়নও অত্যন্ত জরুরি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App