×

এই জনপদ

মুরাদনগরে খাল খননের মাটি বিক্রিতে অনিয়ম

Icon

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে : মুরাদনগরের চাপিতলা ইউনিয়নের চাপিতলা-বিষ্ণুপুর সড়কের পাশের সরকারি খাল খননের নামে ইটভাটায় মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। খাল খননের মাটি খালের দুই পাড় বাঁধাই করে উদ্ধৃত মাটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রির নিয়ম থাকলেও স্থানীয় আয়েশা ব্রিকসসহ বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রকাশ্যে নিলামে মাটি ক্রয়-বিক্রয় করা হয়েছে বলে মুরাদনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল কার্যালয় ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দাবি করলে প্রকাশ পায় খাল খনন প্রকল্পের নামে হরিলুটের রহস্য। তাছাড়া খাল খননস্থলে প্রকাশ্যে নিলাম হয়েছে বলা হলেও নিলামের বিষয়ে কিছুই জানে না ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ স্থানীয়রা। খাল খনন কাজ শুরু হওয়ার আগেই কীভাবে প্রশাসন মাটি নিলামে বিক্রি করেন! এ নিয়ে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। রহস্যময় নামমাত্র মূল্যে নিলাম করে সরকারকে কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। জানা যায়, সারাদেশের খাল ও পুকুর উন্নয়নের আওতায় মুরাদনগর উপজেলার চাপিতলা ইউনিয়নের চাপিতলা-বিষ্ণুপুর সড়কের পাশের খালটির সাড়ে তিন কিলোমিটার খনন প্রকল্পের অনুমোদন ও বরাদ্দ প্রদান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর- যা বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয় এক কোটি টাকা। কোটি টাকার এই খাল খনন কাজটি পায় সোলায়মান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত মার্চ মাস থেকে খালের পশ্চিম অংশ থেকে খননকাজ শুরু করে ঠিকাদার। স্থানীয়রা জানান, খালের মাটি বিক্রির পাশাপাশি খালের পাশে সরকারি বরাদ্দে নির্মাণ করার রাস্তার মাটিও কেটে নিচ্ছে ঠিকাদারের লোকজন। ব্রিজের গোড়া থেকে অবাধে মাটি কেটে নেয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের চাপিতলা ব্রিজসহ খালপাড়ের অনেক বসতবাড়ি। যে কোনো সময় খাল ধসে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এছাড়া প্রতিদিন শত শত ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহনের কারণে সড়কে যানচলাচল ব্যাহত হওয়ায় এলাকাবাসীও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। জসিম উদ্দীন নামে স্থানীয় এক যুবক জানান, রাত হতেই শুরু হয় মাটিকাটার তাণ্ডব, এলাকায় আমরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছি না। রাস্তাঘাটে অনেক ধুলাবালি, এতে দম বন্ধ হয়ে আসে। এছাড়া খালের পাশের রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরো ভাঙবে। ভেকু দিয়ে যে খালের পাড় বাঁধা হয়েছে তা এক বৃষ্টিতেই রাস্তাসহ ভেঙে যাবে, এগুলো টিকবে না। এ বিষয়ে চাপিতলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছা আল কবির বলেন, খাল খননের কাজটি দেখেছি, কিন্তু উন্মুক্ত নিলাম কবে বা কীভাবে হয়েছে আমি এবং আমার পরিষদের মেম্বাররা কিছুই জানি না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোলায়মান এন্টারপ্রাইজের মালিক সোলায়মান মিয়া বলেন, অফিসিয়ালি যেভাবে আছে আমরা সেভাবেই কাজ করছি। ব্যতিক্রম কিছু করার চিন্তা আমাদের নাই। মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ রায়হানুল আলম চৌধুরী বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আমাদের দপ্তরের উপস্থিততে স্পট নিলাম করা হয়। কাজ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন অভিযোগে আমরা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, তাদের কাজে যেসব সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিকনির্দেশনা দিয়েছি আমরা। মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করছি যেসব প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট সমাধান পাব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App