×

এই জনপদ

প্রকৌশলী আন্দালিব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুবিধা নেয়ার অভিযোগ

নোয়াখালীতে গণপূর্তের শত কোটি টাকার সম্পত্তি বেদখল

Icon

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীতে গণপূর্তের শত  কোটি টাকার সম্পত্তি বেদখল
মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী থেকে : জেলা শহর মাইজদীতে গণপূর্ত বিভাগের সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের মহোৎসব চলছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরদারি না থাকায় প্রভাবশালী মহল, ব্যবসায়ী, আইনজীবী সমিতি, বিভিন্ন ক্লাব ও সমিতির নামে যে যেভাবে পারছেন সরকারি সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছেন। সরকারের শত শত কোটি টাকার মূল্যবান এসব সম্পত্তি দখলে সহযোগিতায় অনৈতিক সুবিধাদানের অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীর গণপূর্ত বিভাগের সদ্য বিদায়ি নির্বাহী প্রকৌশলী সা’দ মোহাম্মদ আন্দালিব ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী আন্দালিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের খবর বের হয়েছে। এসব খবর বের হওয়ার পরই প্রকৌশলী আন্দালিবকে চূড়ান্তভাবে লালমনির হাট জেলায় বদলি করা হয়। গণপূর্ত বিভাগ নোয়াখালীর তালিকাভুক্ত ঠিকাদার মো. আবু নাছের ও রাজিব হোসেন বলেন, সা’দ মোহাম্মদ আন্দালিব নোয়াখালীতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেয়ার পর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক মিঞা, আবেদ মইন উদ্দীন ও সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ হাসানসহ নিজেদের অনুসারী কয়েকজন ঠিকাদারকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তারা ইজিপি দরপত্র নিয়ন্ত্রণসহ নানা দুর্নীতি-অনিয়ম শুরু করেন। এখানেই তারা থেমে থাকেননি। নোয়াখালী শহরে গণপূর্ত বিভাগের শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি তাদের সহায়তায় প্রভাবশালীরা কোনো বন্দোবস্ত ছাড়াই দখল করে নেয়। বিনিময়ে প্রকৌশলী আন্দালিব ও তার সিন্ডিকেটে সদস্যরা কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরেছে। সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সরকারি সম্পত্তিগুলো দখলে নেয়ার উৎসব চলছে। শহরের হাসপাতাল সড়কের মুখের দক্ষিণ পাশে সোনালি ব্যাংক থেকে দক্ষিণে পৌর বাজার পর্যন্ত আধা কিলোমিটার এলাকায় গড়ে ওঠা বেশির ভাগ দোকানমালিকের জায়গার স্থায়ী কোনো বন্দোবস্ত নেই। তারা গণপূর্ত বিভাগ থেকে ৬৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে ছোট ছোট ভিটি এক সনা বন্দোবস্ত নিয়ে দেড়শ থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত জায়গা দখল করেছে। একইভাবে শহরের জেলা জজ আদালত ভবন এলাকায় নোয়াখালী আইনজীবী সমিতি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়সংলগ্ন জায়গায় সমবায় সুপার মার্কেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সড়কের উত্তর পাশে জেলা প্রশাসন কর্মচারী সমিতির নামে জমি দখল, মাইজদী হকার্স মার্কেট থেকে ইসলামিয়া সড়ক এলাকায় একাধিক ক্লাব ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নামে কয়েক একর সরকারি সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি সম্পত্তি দখল করে প্রভাবশালীরা একের পর এক অনুমোদনবিহীন বহুতল ভবন নির্মাণ করলে জনরোষে পড়ে। এর বিরুদ্ধে দু-একটি অভিযান পরিচালনা করলেও সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসন ও জেলা গণপূর্ত বিভাগ বেশির ভাগ সময় ছিল নীরব। অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে দখলবাজরা দখল উৎসবে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দখলদার জানান, স্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য গণপূর্ত বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কাছে ঘুরতে ঘুরতে জুতা ক্ষয় হয়ে গেছে। কিন্তু বন্দোবস্ত মিলছে না। তাই গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন তারা। অবশ্য এজন্য জেলা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে বছরে মোটা অঙ্কের টাকাও নেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত ২৮ এপ্রিল দুপুরে গণপূর্ত বিভাগ নোয়াখালী কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ঢুকতে চাইলে কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ফলে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারেনি এবং অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সা’দ মোহাম্মদ আন্দালিব ও উপবিভাগীয় এবং সহকারী প্রকৌশলীদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি সম্পত্তি ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন তারা। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তারা একাধিক অভিযান পরিচালনা করে সরকারে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি উদ্ধার করেছেন। জনস্বার্থে তাদের এই অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।|

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App