×

এই জনপদ

হাইকোর্ট

মাটিক্ষয় চক্রের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে হবে

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে গর্ত করে চাষাবাদের অনুপযোগী করা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ ধারার অপরাধের মধ্যে পড়ে। এই মাটিক্ষয় চক্রের হাত থেকে অসহায় কৃষকদের বাঁচাতে হবে। কৃষি জমি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে চাষাবাদের অনুপযোগী করার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের লিখিত আদেশে এসব মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই লিখিত আদেশ প্রকাশ করেন। আদেশে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে যে, ওই এলাকার (সাতকানিয়ার) কিছু দুর্বৃত্ত অবৈধভাবে বা জোরপূর্বক প্রায় ৪০/৫০ ফুট গর্ত করে মাটি কাটছে এবং খনন করছে; যার জন্য মালিকরা সেখানে জমি চাষ করতে পারছেন না। যা সেই এলাকার পরিবেশের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্যেরও ক্ষতি করেছে। এ অবস্থায় এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, বিবাদীদের উচিত এই মাটিক্ষয় চক্রের হাত থেকে অসহায় কৃষকদের বাঁচানো। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবকিছু জেনেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় না। এখানে উল্লেখ্য, যে জমিগুলো গর্ত করা হয়েছে, সে জমিগুলো ঢাকা-কক্সবাজার রেললাইনের খুব কাছে, মাটি কাটার কারণে যা হুমকির মুখে পড়েছে। এ ধরনের আচরণ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ ধারার অধীনে অপরাধের মধ্যে পড়ে। এসব কারণে আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছি। তদন্ত কমিটিকে যে বিষয়গুলো তদন্ত করতে হবে : ১. কীভাবে ওই অঞ্চলের কৃষি জমি সুরক্ষিত হবে তার সুপারিশ করতে হবে এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করতে হবে। ২. চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় কৃষি জমির উপরের মাটি কাটার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা। ৩. প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অবহেলা, স্থানীয় প্রশাসনের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা তদন্ত করা। ৪. ওই এলাকার কৃষি জমির উপরের মাটি কাটার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেটা তুলে ধরা। ৫. ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য ক্ষতির পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা যায়, তার সুপারিশ করা। চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার জন্য একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে মনোনীত করতে হবে। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার মনোনয়নের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আদেশে বিবাদীদের সাতকানিয়ায় কৃষি জমির উপরের মাটি ভরাট করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে- যা ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে বাইরে থেকে পলিমাটি এনে তা ভরাট করতে হবে। এছাড়া চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার মধ্যে কতটি ইটভাটা রয়েছে এবং তাদের অবস্থা কী, তাদের পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে কিনা, তা জানাতে হবে আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে। এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে চাষাবাদের অনুপযোগী করার ঘটনায় কারা দায়ী তা খুঁজে বের করতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App