×

এই জনপদ

ব্যাংক খাতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ চায় আইএমএফ

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের অব্যবস্থাপনা ও উচ্চ খেলাপি ঋণসহ নানা অনিয়ম নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল। বৈঠকে ব্যাংক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঋণ কেলেঙ্কারি ঠেকাতে ব্যাংকগুলোয় পরিদর্শন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য ও এর ওপর করা পরিদর্শনের প্রতিবেদনগুলো গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করতেও পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দল ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন অব্যাহত আছে কিনা তা জানতে চেয়েছে। পাশাপাশি পরিদর্শন প্রতিবেদনগুলো গ্রাহকদের জন্য প্রকাশ করা হয় কিনা সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঋণ কেলেঙ্কারি ঠেকাতে পরিদর্শনের মান ও সংখ্যা বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফের প্রতিনিধি দল। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, বর্তমান গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার যোগ দেয়ার পর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট (এফআইসিএসডি) মোট ১০ হাজার ৫৪২টি অভিযোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সমাধান করেছে ৮ হাজার ৬৮২টি বা ৮২ শতাংশ। আর আগের অর্থবছরে অভিযোগ এসেছিল ৬ হাজার ৯২৩টি। সমাধান করা হয়েছিল ৩২৯টি বা ৯১ দশমিক ৪২ শতাংশ। সেই হিসাবে পরের অর্থবছরে অভিযোগ বেশি এসেছে ৩ হাজার ৬৫৯টি। আর অভিযোগের সমাধান কম করা হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রতিবেদন বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় এফআইসিএসডির বিশেষ পরিদর্শন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। এছাড়া গত ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে অভিযোগও এসেছে বেশি এবং সমাধান হয়েছে আগের তুলনায় কম। ২০২১-২২ অর্থবছরে এফআইসিএসডি কর্তৃক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় মোট ১৭৯টি বিশেষ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিশেষ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে ৯৪টি। সেই হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিশেষ পরিদর্শন কার্যক্রম কম পরিচালিত হয়েছে ৮৫টি বা ৪৭ শতাংশ। তাই খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিশেষ পরিদর্শনের পরিসংখ্যানই বলছে ব্যাংক খাতে সুশাসন নেই। পরিদর্শন কম হলেও অনিয়ম-জালিয়াতি কিন্তু কম হচ্ছে না। বিশেষ পরিদর্শন যত কমবে, অনিয়ম তত বাড়বে। তাই ব্যাংক খাতকে শৃঙ্খলায় আনতে পরিদর্শন, তদারকি ও নজরদারি আরো বাড়াতে করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিশেষ পরিদর্শন এখন আগের মতো হয় না। যেসব অনিয়মের পেছনে প্রভাবশালীরা থাকে সেগুলো নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করা হয় না। আবার কিছু ঘটনা আছে যেগুলো চিহ্নিত করার পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক জানিয়েছেন, অনিয়মের সঙ্গে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকলে সেগুলো তদন্ত করা হয় না কিংবা ব্যবস্থা নেয়া হয় না- এমন অভিযোগ সত্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে বিশেষ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে ১৮টি। আর আগের অর্থবছরে হয়েছিল ২১টি। বিশেষায়িত ব্যাংকে কোনো বিশেষ পরিদর্শন হয়নি। আগের অর্থবছরে হয়েছিল একটি। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে বিশেষ পরিদর্শন হয়েছে ৫০টি। আগের অর্থবছরে হয়েছিল ১১৪টি। ইসলামী শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকে বিশেষ পরিদর্শন হয়েছে ২১টি। আর আগের অর্থবছরে হয়েছিল ২৯টি। বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকে বিশেষ পরিদর্শন হয়েছে একটি। আর আগের অর্থবছরে হয়েছিল দুটি। আর সবচেয়ে বেশি অনিয়মে জর্জরিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিশেষ পরিদর্শন বেশি কমেছে। এগুলোয় বিশেষ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে মাত্র ৪টি। আর আগের অর্থবছরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল ১২টি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App