×

এই জনপদ

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা

Icon

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কমিউনিটি  ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা
মো. ইব্রাহীম খলিল মোল্লা, মেঘনা (কুমিল্লা) থেকে : মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচটি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। এর মধ্যে চালিভাঙ্গা ইউনিয়নে নদীর তীরে অবস্থিত বাগবাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের দশা বেশি বেহাল। ভবনটি দেখতে অনেক পরিত্যক্ত মনে হলেও এর মধ্যেই চলছে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম। যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এলাকাবাসী এ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা নিতে রীতিমতো আতঙ্ক বোধ করছেন। সরজমিন গিয়ে জানা যায়, ২০০০ সালে বাগবাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু হয়। কয়েক বছর যেতে না যেতেই পলেস্তারা খসে বেড়িয়ে পড়ে ইট। মূল ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় ফাটল। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিপটিপ করে পানি পড়ে তলিয়ে যায় ক্লিনিকের কক্ষ। ভবনটিতে নেই কোনো ভালো দরজা-জানালা, নেই কোনো ফার্নিচার ও অন্যন্য আসবাবপত্র। ফার্নিচার না থাকায় কার্টনেই রাখা হয় ওষুধপত্র। প্রায় একযুগ ধরে এ জরাজীর্ণ ভবনে চলছে স্বাস্থ্যসেবা। এই কমিউনিটি ক্লিনিকে নেই কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই কোনো সড়ক সংযোগ। সংযোগ সড়ক না থাকায় বর্ষাকালে ক্লিনিকের চারপাশে পানি এলে রোগী ও স্বজনদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয় বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মো. জামান মিয়া বলেন, এই ক্লিনিকের অবস্থা খুবই নাজুক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ভবনের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে এই ভবন। একদিকে ভবন নিয়ে সমস্যা অন্যদিকে বসার মতো নেই কোনো ফার্নিচার। অপরদিকে নেই সংযোগ সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগ। এই সংযোগ সড়কের বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরসহ তার আগের চেয়ারম্যানকে প্রায় একযুগ ধরে লিখিতভাবে জানিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এর কোনো সুরাহা হয়নি। তবে ফার্নিচারের বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যানকে তিন মাস আগে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে আমি লিখিতভাবে জানিয়েছি। জামান মিয়া আরো বলেন, এই ক্লিনিকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে এফডাব্লিউ পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে আমি ও স্বাস্থ্য সহকারী আবু বক্কর সিদ্দিক নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং মাতৃস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবাসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ইউনিয়নের ২টি ক্লিনিকের মধ্যে বাগবাজারের কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সংযোগ সড়ক না থাকায় আমি বর্ষাকালে পানি উঠলে বাঁশের সাঁকো করে দিই, যেন রোগীদের যেতে অসুবিধা না হয়। তবে সংযোগ সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, এ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনগুলো নতুন করে নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে বাগবাজারসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নতুন করে নির্মাণ করে দেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App