×

এই জনপদ

সিন্ডিকেট কারসাজিতে ধানের নায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিন্ডিকেট কারসাজিতে ধানের নায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর ঘুরে এসে : সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ছোট-বড় হাওরে পাইকারি সিন্ডিকেটের জালে আটকে পড়ে সিন্ডিকেটের নির্ধারণ করা দামেই সারা বছরের কষ্টার্জিত সোনালি ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা। ফলে ধানের নায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক। সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে। ‘এক কেয়ার (বিঘা) জমি রোয়াইতে (চাষ করতে) ৫-৬ হাজার টাকা খরচ অইছে (হইছে)। নিজের খাটনিতো বাদই (নিজের পরিশ্রম তো বাদই দিলাম)। বাজারে সবতার (সবকিছুর) দাম বাড়ে, খালি ধানের দাম বাড়ে না। কৃষকের শ্রমের দাম নেই। এক মণ ধানের দাম ৯০০ টাকা। ধানের দামে আর জমির খরচে ফরতায় (পোষায় না) পড়ে না। ধানের দাম না বাড়ালে কৃষকের ক্ষতি ছাড়া লাভ নাই।’ এভাবেই আক্ষেপ করে ধানের দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন সদর উপজেলার বাদুরপুর গ্রামে কৃষক আব্দুল মতিন। তার মতো ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন জেলার হাওরাঞ্জলের কৃষকরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সুনামগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবাদ করা ২ লাখ ২৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমি থেকে ১৩ লাখ ৭০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যার দাম ৪ হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাবে। ইতোমধ্যে আবাদ জমির অর্ধেকেরও বেশি ধান কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম। আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে হাওরের শতভাগ ধান কাটা শেষ হবে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। সরজমিন জেলার বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখা যায়, ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো ও গোলায় তুলতে ব্যস্ত রয়েছেন হাওরের কিষান-কিষানিরা। ধান কাটাসহ বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করতে উৎপাদিত ধান খলায় (হাওরের অস্থায়ী মাঠ) বিক্রি করছেন কৃষকরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় পাইকার ও বেপারিদের কাছে প্রতি মণ ধান সাড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় পাইকারদের সিন্ডিকেটই ধানের এ দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। কৃষকরা নিরুপায় হয়ে তাদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। কৃষকরা জানান, পুরো ময়ালে (এলাকায়) এমন দামে ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা। পাইকারদের একটি সিন্ডিকেট ধানের দাম নির্ধারণ করছে। এতে ধানের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তৃণমূল পর্যায়ের ধানের দাম নির্ধারণের দাবি কৃষকদের। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের কৃষক মানিক মিয়া বলেন, এক বিঘা জমি চাষ করতে কৃষকের যে খরচ হয়, ধানের এমন কম দামে তা পোষায় না। পাইকাররা ইচ্ছে মতো ধানের দাম নির্ধারণ করেন। পাইকারদের সিন্ডিকেটের জালে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা আটকে গেছেন। ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত আমরা। প্রতি মণ ধান ১৫০০-১৬০০ টাকা পেলে কৃষকরা লাভবান হতেন। আশা করব সরকার বিষয়টি দেখবেন। শান্তিগঞ্জ উপজেলার খাই হাওরের কৃষক মামরুল মিয়া বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ধানের সঠিক দাম নির্ধারণ করে দিলে কৃষকরা লাভবান হবেন। এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এদিকে সরকারিভাবে ধান কেনার দাম ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। তবে জেলা পর্যায়ে কী পরিমাণ ধান কেনা হবে তা এখনো জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App