×

এই জনপদ

গাছ কাটা, বালু উত্তোলন ও অগ্নিসংযোগ

উজাড় হচ্ছে বরগুনার সংরক্ষিত টেংরাগিরি বন

Icon

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

উজাড় হচ্ছে বরগুনার  সংরক্ষিত টেংরাগিরি বন
সঞ্জীব দাস, বরগুনা থেকে : অবৈধভাবে গাছ কাটা, দখল, বালু উত্তোলন, অগ্নিসংযোগ, জলোচ্ছ¡াস, ঘূর্ণিঝড়সহ নানা কারণে উজাড় হচ্ছে বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি বন। এতে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। বন বিভাগ ও পরিবেশকর্মীদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জোয়ারের সঙ্গে সৈকতে বালি জমে গাছের শেকড় আটকে বনের গাছ মারা যাচ্ছে। তবুও আশানুরূপ তেমন কোনো প্রকল্প কিংবা উদ্যোগ নেই বললেই চলে। সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলেন, সমুদ্র তীরের সংরক্ষিত বনের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য অবলোকনের জন্য ছুটে যান তারা। এ বনে রয়েছে গেওয়া, কেওড়া, ছইলা, ঝাউবনসহ অসংখ্য প্রজাতির গাছ। প্রভাবশালী ও দুষ্কৃতকারীদের নজর পড়ায় এর অস্তিত্ব রক্ষা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোফরেস্টি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন সাগরের পানির স্তর ক্রমশ বাড়ছে। এ কারণে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। বনায়নের দিকে সুনজর রাখতে হবে। নতুন নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে বনায়ন সৃষ্টি করার বিকল্প নেই। কুয়াকাটার পরিবেশকর্মী ইমতিয়াজ তুষার বলেন, কুয়াকাটা সৈকতের দুই দিকে বন রয়েছে। এই বনায়ন একটি সৌন্দর্য বহন করে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় বিশাল ভূমিকা রাখে। এই বন আগুনে পুড়িয়ে এবং গাছ কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, বন প্রহরীদের পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায়ী, পরিবেশকর্মী সবার সক্রিয় হওয়া দরকার, যাতে এ অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা যায়। তিনি আরও বলেন, বন রক্ষা করা না গেলে একসময় এই কুয়াকাটা সৈকত বিলীন হয়ে যাবে। বরগুনার তালতলী থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন টেংরাগিরি বা ফাতরার বন। এ বনের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ছোবল আর ভাঙনের ফলে বনটি এখন বিলীন পথে। ৬২ বছরে এ বনের শত কোটি টাকা দামের দুই হাজার একর জমিসহ কয়েক লাখ গাছ সাগরে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানা যায়। গত ২৫ মার্চ এ বনের বেহুলা নামক অংশে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেচ মেশিন দিয়ে ৬ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বন বিভাগ। এ ঘটনায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি দাবি করে বন বিভাগের তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা জানান। তবে স্থানীয় পরিবেশকর্মী আরিফ রহমান বলেন, সংরক্ষিত এই টেংরাগিরি বনের মধ্যে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে আগুন জ¦লেছে। এতে বনের অনেকটা অংশ পুড়ে গেছে। কিছুদিন আগেও এ রকম আগুন দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পরও আগুন দেয়ার চেষ্টা করেছে। এছাড়া সাগরঘেঁষা এ বনের মূল আকর্ষণ ঝাউবন হলেও অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, ঝড় ও জলোচ্ছ¡াসের কারণে তাও বিলীন হওয়ার পথে। এখানকার সৈকতের পাশে বেসরকারিভাবে ৩৬০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলায় সৈকতের তীর থেকে বালি উত্তোলনের ফলে ঝাউগাছ ভেঙে সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। ২০১৪-১৫ সালে এ সৈকতে ১০ হেক্টর ও ২০২০-২১ সালে ৭ হেক্টর জমিতে ঝাউগাছের চারা রোপণ করে বন বিভাগ। কিন্তু ২০১৮-১৯ সাল থেকে সমুদ্রের ঢেউয়ের ঝাপটায় বালিক্ষয়ে ভাঙতে শুরু করে ঝাউবন, যা সংরক্ষণের দায়িত্ব না নিলে উপকূলীয় এলাকা ও সৈকত বিপন্ন হতে পারে বলে মনে করেন সাগরপাড়ের বাসিন্দারা। তবে এ বন রক্ষায় পদক্ষেপের বিষয়ে তৎপরতার কথা জানিয়ে তালতলী উপজেলার নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সিআইপি-২ প্রকল্প প্রস্তাব দেয়া আছে এখানে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App