×

এই জনপদ

এক শয্যায় দুজন, মেঝেতেও রোগী

তীব্র গরমে হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী

Icon

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তীব্র গরমে হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী
জাহাঙ্গীর আলম, মাদারীপুর থেকে : তীব্র গরমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। জ¦র, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এদিকে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। একই বেডে দুই থেকে তিনজন শিশু এবং মেঝেতেও রোগীরা থাকছে। এতে রোগীদের পড়তে হচ্ছে বেশি সমস্যায়। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে গাদাগাদি করে থাকতে দেয়ায় রোগীসহ তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেয়া দিয়েছে। সরজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, মাদারীপুরে তীব্র তাপদাহে স্বাভাবিক জনজীবনে বিপর্যয় নেমেছে। এ অঞ্চলে প্রায় ১০ দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠানামা করছে। ফলে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরাই বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। জ¦র, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ১০৮ শিশুকে ভর্তি দেখা যায়। এছাড়া ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৫ জন শিশুকে ভর্তি দেখা গেছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৪০ শয্যা থাকায় একসঙ্গে এত শিশুকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের। শয্যা সংকট থাকায় এক শয্যায় একসঙ্গে দুই থেকে তিনজন শিশুকে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া হাসপাতালের মেঝেতেও রোগীরা মাদুর বিছিয়ে থাকছেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এভাবে গাদাগাদি করে থাকতে রোগীসহ অভিভাবকদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়া শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ৪৯ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৫ জনই শিশু। অতিরিক্ত গরমের জন্যই হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। হাসপাতালে এক রোগীর সঙ্গে থাকা অদিতি বলেন, আমার ভাইয়ের ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। অনেক গরমের কারণে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে সে জ¦র নিয়ে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু এক বেডে দুইজন থাকছে। এতে এই গরমের মধ্যে থাকতে সমস্যা হচ্ছে। বাচ্চার মায়েদের সারারাত বসে ও দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আরেক রোগীর মা ফারজানা আক্তার বলেন, আমার বাড়ি মাদারীপুরের রঘুরামপুরে। আমার দুই ছেলেই অসুস্থ। একটার বয়স পাঁচ বছর ও ছোটটার বয়স ৭ মাস। বড় ছেলের টাইফয়েড ও ছোট ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে। গত ছয়দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু কোনো বেড পাইনি। তাই ফ্লোরেই থাকতে হচ্ছে। হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নিতু বাড়ৈ বলেন, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ১০৮ জন রোগী ভর্তি আছে। গরমের কারণে কয়েকদিন ধরে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে আবার চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে। একসঙ্গে এতো রোগী থাকায় মাত্র ৪০ শয্যায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও আমরা আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। সিভিল সার্জন ডা. মুনির চৌধুরী বলেন, সারাদেশের মতো মাদারীপুরেও তাপদাহ বেশি হচ্ছে। এর ফলে রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে একটু বেশি। তবে এখন পর্যন্ত এখানে হিটস্ট্রোকে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। গরমের কারণে এখানে শিশু ও বৃদ্ধরাই বেশি অসুস্থ হচ্ছে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। তবে বেশি ঠাণ্ডা পানি পান করার প্রয়োজন নেই। যদি রোদের মধ্যে কাজ করতে হয়, তাহলে কিছুক্ষণ পর পর ছায়ায় বিশ্রাম নিতে হবে। একটানা রোদের মধ্যে কাজ করা যাবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App