×

এই জনপদ

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড

বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে জিম্মি শিক্ষকরা

Icon

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মহা. জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের অভিযোগ। এসব ঘটনায় তাকে বিদ্যালয় পরিদর্শকের পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। সূত্র জানিয়েছে, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার দক্ষিণ পারতেঘুর হাইস্কুলের কমিটির সদস্যরা সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে পদত্যাগ করেন। শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হক নিয়মানুযায়ী কমিটি না ভেঙে প্রভাবিত হয়ে ৬ মাস আটকে রেখেছিলেন। বিষয়টি বিদায়ী চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুল ইসলামের নজরে এলে তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে স্কুলটির কমিটি বাতিল করেন। জিয়াউল হক কারসাজি করে পদত্যাগের তারিখ থেকে বাতিল করেননি। এর মধ্যে স্কুলটিতে অবৈধ নিয়োগকে তিনি বৈধ করে দেন। একই উপজেলার মাজিরা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি জমা দেয়ার পরও অভিযোগ দায়ের করিয়ে তা আটকে দেন জিয়াউল হক। অভিযোগকারীর অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন পর মনগড়া তদন্ত করানো হয়। তদন্ত রিপোর্টে স্কুল কমিটির সভাপতিকে সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করা হয়। তার নামে রাজনৈতিক মামলা থাকায় এমনটা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি রাজনৈতিক নেতা, তবে তার সাজা হয়নি। আদালতের রায় ছাড়া তাকে সন্ত্রাসী বলে ভুল কাজ করেছে শিক্ষা বোর্ড। দশ মাসের বেশি আইনি লড়াইয়ের পর কমিটি অনুমোদন হয়। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে বগুড়ার এডিসি শিক্ষাকে পুনঃতদন্তের ব্যাপারে দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি তদন্ত করে হাইস্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সন্ত্রাসী নন বলে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। এরপরও শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক তিনমাস ফাইলটি ধামাচাপা দেন। বিষয়টি বর্তমান চেয়ারম্যানের নজরে আনা হলে তিনি স্কুলটির কমিটি অনুমোদন দেন। শাজাহানপুরের আরআরএমইউ উচ্চ বিদ্যালয়ে সাজানো নির্বাচন করে কমিটি জমা দেয়া হয়। প্রতিপক্ষরা ফিসহ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়। তবে অভিযোগ নিষ্পত্তি না করে গোপনে ভুয়া কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। দুমাস পর বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযোগকারীদের তোপের মুখে পড়েন শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হক। তখন তিনি ভুল স্বীকার করে তদন্ত রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। গত জানুয়ারি মাসে সেটির তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। তবে রিপোর্ট পেয়েও জিয়াউল হক ফাইল ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। শিক্ষা বোর্ডের জাতীয় খেলাধুলা চলার সময় কৌশলে চেয়ারম্যানের কাছে ফাইল উপস্থাপন করেন তিনি। চেয়ারম্যান খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ফাইল রেখে দেন। এভাবে অতিবাহিত হয় ৩ মাস। সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল জিয়াউল হক বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে বোর্ডের অর্ডিন্যান্স বহির্ভূত ডেপুটেশনে আসেন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার স্কুল রয়েছে। মাসে ১০ দিন স্কুল পরিদর্শনে যান জিয়াউল হক। আগের কোনো বিদ্যালয় পরিদর্শক এভাবে পরিদর্শনে যাননি। এসব প্রক্রিয়ায় শত শত স্কুলকে জিম্মি করে ফায়দা লুটছেন তিনি। জানা গেছে, বর্তমানে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট হাইস্কুলের এডহক কমিটিরও অনুমতি এক মাস ধরে দেয়া হচ্ছে না। স্কুলটির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় আটকে রাখা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদের সম্মতি থাকলেও তা আটকে রয়েছে। শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে জিয়াউল হক ভুল বুঝাচ্ছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। চাঁপাইনবাগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার গোমস্তাপুর গার্লস একাডেমির কমিটিও ৯ মাস ধরে আটকে রয়েছে। অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট গত ফেব্রুয়ারি মাসে এলেও এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। জিয়াউল হকের শ্বশুর বাড়ির এলাকার লোকজন ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে হেরে যাওয়ার তিনি এমনটা করছেন। বগুড়ার শিবগঞ্জের দোপাড়া আব্দুল হান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জিয়াউল হক প্রভাবিত হয়ে শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী কমিটি না ভেঙে ৬ মাস আটকে রাখেন। বিষয়টি চেয়ারম্যান জানার পর তিনি কমিটি ভেঙে দেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা ৫ কর্মদিবসের বেশি ফাইল আটকে রাখতে পারবেন না। আর শিক্ষা বোর্ডের নিয়মানুযায়ী ২৪ ঘণ্টার ভেতর ফাইল নিষ্পত্তি করার কথা। কোনোকিছুকেই তোয়াক্কা করছেন না জিয়াউল হক। তাকে নিয়ে বোর্ডের অন্য কর্মকর্তারাও বিব্রত। তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হক বলেন, নিয়ম মেনেই আমি সবকিছু করার চেষ্টা করছি। রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. অলীউল আলম বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আমার কাছে অনেক অভিযোগ এসেছে। অভিযোগগুলো আমি তদন্ত করে দেখছি। দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App