×

এই জনপদ

নেই সংযোগ সড়ক

দুই বছর ধরে পড়ে আছে ৩৫ কোটি টাকার সেতু

Icon

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 দুই বছর ধরে পড়ে আছে ৩৫ কোটি টাকার সেতু
সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ থেকে : মানিকগঞ্জের ঘিওরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর কাজ ২ বছর আগে সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক তৈরিতে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় এটি জনগণের কোনো উপকারে আসছে না বলে অভিযোগ সিংজুরি ইউনিয়নবাসীর। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর-চর মির্জাপুর (নিন্দাপাড়া) এলাকার কালিগঙ্গা নদীর ওপর গ্রামীণ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে দুই পাড়ে ৬৩০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ বাবদ ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ প্রায় ২ বছর ধরে আটকে রয়েছে। সেতু সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে আগের মতোই খেয়া নৌকা দিয়ে পার হচ্ছে দুই পাড়ের মানুষ। এখানকার সংযোগ সড়ক সম্পন্ন হলে মানিকগঞ্জ সদরের সঙ্গে ঘিওর উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে সহজতর। এ পর্যন্ত তাদের দুইবার নোটিস দেয়া হয়েছে। নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অফিসে দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা জমি বাবদ কোনো টাকা বুঝে পায়নি। ঘিওর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে এ সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে দুই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। দরপত্র অনুযায়ী, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার নির্দেশনা ছিল। এ সময়ের মধ্যেও কাজটি শেষ হয়নি। ৩৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ সেতুটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৩৪ কোটি ৬০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং অর্থের বরাদ্দ বাড়ানো হলেও ভূমি অধিগ্রহণ আর স্থাপনার ক্ষতিপূরণের টাকা দুই বছরেও বুঝে পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে না পাওয়ায় জমির মালিকরা জমি ছাড়ছেন না। জমি ও স্থাপনার মালিকরা বলছেন, প্রায় দুই বছর ধরে ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মাসুদ মিয়া জানান, ভূমির মালিকরা ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় জমি ছাড়ছেন না। আর এলজিইডি বিভাগ জমি বুঝিয়ে দিচ্ছে না। কাজ শুরু করতে গেলে ভূমির মালিকরা বারবার বাধা দিচ্ছেন। এই জটিলতায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অধিগ্রহণের ঝামেলা শেষ হলে ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে এটি ব্যবহারোপযোগী হবে। ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, দুই বছর আগে সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ঠিকাদার দুই পাশের সংযোগ সড়ক করতে পারছেন না। তবে অধিকরণের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের মধ্যে চেক বিতরণ সম্পন্ন হলেই ঠিকাদার দ্রুত কাজ শুরু করে দেবেন। রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) এলএ শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার মামুনুর রশিদ জানান, ভূমি অধিগ্রহণ বিষয় একটি চলমান প্রক্রিয়া। জমির মালিকদের ইতোমধ্যেই ৭ ধারায় নোটিস করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক খুব দ্রুতই জমির মালিকদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করবেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App