×

এই জনপদ

মধ্যনগর-ধর্মপাশায় ধানকাটা উৎসব

আনন্দ মøান করে দিয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস

Icon

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আনন্দ মøান করে দিয়েছে  আবহাওয়ার পূর্বাভাস
রাসেল আহমদ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে : দেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেও সুনামগঞ্জের মধ্যনগর-ধর্মপাশা উপজেলায় পুরোদমে চলছিল ধানের উৎসব। কিন্তু উৎসবের আনন্দ ¤øান করে দিয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় পাহাড়ি ঢলের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে তাতে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলীয় হাওর এলাকার বিলগুলো পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এরকম হলে তলিয়ে যাবে হাওরের অনেক কৃষিজমির ধান। উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন নদনদীতে পাহাড়ি ঢলে পানির উচ্চতা বেড়েছে তিন ফুটের বেশি। এভাবে পানির বৃদ্ধি চলতে থাকায় হাওরের বাঁধগুলো সুরক্ষায় অতিরিক্ত প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। সরজমিন দুই উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধানক্ষেতে সোনালী রং ধরেছে। সারা বছরের একমাত্র ফসল বোরোধান গোলায় তোলতে হাওরের কান্দায় (পতিত উঁচু ভূমি) তৈরি ধানখলায় ব্যস্ত সময় যাচ্ছে কৃষক পরিবারের নারী-পুরুষদের। শিশুরাও যোগ দিচ্ছে পরিবারের বড়দের সঙ্গে। ধান গোলাজাত করতে বিরামহীন চলছে ধান কাটা, মাড়াই, চিটা উড়ানো, সিদ্ধ করা, শুকানোসহ উৎসবের নানা পর্ব। কিন্তু আবহাওয়া পূর্বাভাসে কৃষকের মনে উৎসবের আনন্দ ¤øান করে নেমে এসেছে ভয়ের কালোছায়া। তবুও ধানের উৎসবে পড়েনি ভাটা। উল্টো সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে পাল্লা দিতে বেড়েছে উৎসবের গতি। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্ভাব্য পাহাড়ি ঢলে হাওর প্লাবিত হওয়ার আগেই ধান কাটা প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এজন্য তাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। দুই উপজেলার ৮০টি হাওরে বোরো ধান কাটার জন্য ২১৫টি কম্বাইন হার্ভেস্টর ও ৫টি রিপার যন্ত্র রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে একটি হার্ভেস্টর ১শ জন শ্রমিকের ধান কাটতে পারে। অন্যদিকে রিপার গড়ে ২০ জন শ্রমিকের ধান কাটতে পারে। সূত্রটি আরো জানায়, এ দুই উপজেলার হাওরে এবার সব মিলিয়ে বোরো আবাদ হয়েছে ৩১ হাজার ৯০২ হেক্টর জমিতে। ৪৭ হাজার ৬৪৬টি কৃষক পরিবার এবার বোরো ধান চাষ করেছেন। মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত হাওরে ৫৬ শতাংশ বোরো কাটা হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে ৮০ ভাগ ধান পাকলেই কেটে ফেলতে বলা হয়েছে। কৃষকের ধান যাতে ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই কাটা যায় সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন শ্রমিকদের নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে। আশা করা যায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হওয়ার আগেই হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো ক্ষয়-ক্ষতি না হলে দুই উপজেলার হাওরে উৎপাদিত ধান হবে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০৫ কোটি টাকা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App