×

এই জনপদ

পাটগ্রাম

শিক্ষার্থীর চোখ তুলে নেয়ার পর অব্যাহত হুমকি

Icon

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি : বাবা-মাকে বাঁচাতে গিয়ে ভূমিদস্যুদের হামলায় একটি চোখ হারিয়েছেন কলেজছাত্র আনিছুর রহমান (২০)। গত বছরের ১৯ নভেম্বর লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের আনিছুর রহমানের ডান চোখটি উপড়ে ফেলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গোটা উপজেলাজুড়ে চলে তোলপাড়। গ্রামের চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা ধারালো ছুরি দিয়ে আনিছুরের ডান চোখটি তুলে ফেলে। একটি চোখ নিয়ে সে বেঁচে আছে। বর্তমানে তার বাম চোখটিও উপড়ে ফেলার হুমকি দিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। গতকাল সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে কলেজছাত্র আনিছুর রহমান ও তার পরিবার, তার জীবনে নেমে আসা ভয়ংকর দিনের কথা তুলে ধরেন। এই কলেজছাত্র বাউরা পূনম চাঁদ ভুতোরিয়া কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন। সংবাদ সম্মেলনে আনিছুরের বাবা মফিজুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে ৯ শতাংশ জমি কিনে তাতে চাষাবাদ করে আসছিলেন। তবে গ্রামের ভূমিদস্যুরা সেই জমির মালিক বলে দখল করে নেয়। ঘটনার দিন ভূমিদস্যুরা হামলা চালায়। হামলা থেকে বাবা-মাকে রক্ষা করতে ছুটে আসে ছেলে আনিছুর। হামলাকারী ভূমিদস্যুরা তার ডান চোখ উপড়ে ফেলে। মফিজুল বলেন, আইনি লড়াই করে বেদখল হওয়া জমি হয়তো উদ্ধার করতে পারব, কিন্তু আমার ছেলের চোখ তো আর ফেরত পাব না। আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক সেটাও চাই। এ বিষয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত বছরের ১৯ নভেম্বর মফিজুল তার কেনা জমিতে হালচাষ করছিলেন। এ সময় বাউরা ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন হামলা চালিয়ে মফিজুল ও তার স্ত্রী আনজু আরা বেগমকে জখম করে। খবর পেয়ে বাবা-মাকে বাঁচাতে আনিছুর ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সেসময় আনিছুরকে মাটিতে ফেলে ধারালো ছুরি দিয়ে তার ডান চোখ উপড়ে ফেলে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ ১৫-১৬ জনের বিরুদ্ধে পাটগ্রাম থানায় একটি মামলা করেন মফিজুল ইসলাম। তারপরও চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের অনবরত হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন। পরিবারটিকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কৃষক দল নেতা আলমগীর হোসেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাটগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী বলেন, আসামিরা জামিনে রয়েছেন। হুমকির ঘটনায় মফিজুল ইসলাম একটি জিডি করেছেন। পুলিশ জিডি তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।\

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App