বাংলাদেশ প্রেক্ষিত : আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বের প্রতিটি দেশেই দরিদ্র মানুষ কমবেশি রয়েছে এবং এই দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস পালন করা হয়। ১৯৮৭ সালে ফ্রান্সের একদল ব্যক্তি ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট অঞউ ফোর্থ ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা জোসেফ রেসিনস্কির সঙ্গে দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং সহিংসতায় ভুক্তভোগীদের সম্মান জানাতে ট্রোকাডেরোতে মানবাধিকার ও স্বাধীনতা প্লাজায় জড়ো হয়েছিল। সেখান থেকেই মূলত আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবসের সূচনা শুরু হয়। এরপর রেসিনস্কির মৃত্যুর চার বছর পর জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৭ অক্টোবরকে দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে মনোনীত করে। অর্থাৎ ১৯৯২ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘ ঘোষিত ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ন্যায়, শান্তিপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের জন্য সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অপব্যবহার বন্ধ করা।’ যদিও এই দিবসটিকে প্রচারের জন্য ২০০৮ সালে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। চরম দারিদ্র্যের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত মানবাধিকার রক্ষকসহ এই বিষয় নিয়ে কাজ করা সদস্যদের নিয়েই মূলত এই কমিটি গঠন করা হয়।
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দারিদ্র্য। আমরা যদি ২০২৪ সালের ঘোষিত ১০টি দারিদ্র্য দেশের তথ্য পর্যালোচনা করি- তাতে দেখা যায় আফ্রিকা মহাদেশে অধিকাংশ দেশই এতে অবস্থিত, যার মধ্যে প্রথমে থাকা দক্ষিণ সুদানের মাথাপিছু আয় ৪৫৫.১৬ ডলার এবং ১০ নম্বরে আছে পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইয়েমেন, যার মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলার।
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে উন্নয়নের পথে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আর্থিক খাতের নাজুকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে এখনো বড় বাধা মনে করে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে গুণগত কর্মসংস্থান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের সংস্কারকে এ মুহূর্তে অপরিহার্য হিসেবে দেখা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে অন্তর্বর্তী সরকার আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন খাতে যে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে তাতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা এবং সমর্থন থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুলাই সেখ। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন জিডিপির ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। যা সমাপ্ত অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে বলা হয়, অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি কমে আসতে পারে। তবে কত হতে পারে সে ব্যাপারে কোনো পূর্বাভাস দেয়া হয়নি। খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য ও জ্বালানি মূল্যের কারণে গত অর্থবছর মূল্যস্ফীতি গড়ে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে বলে এতে মন্তব্য করা হয়। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২২ সালে দেশের প্রতি ১০ জনের মধ্যে অন্তত চারজন গরিব অথবা দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। অন্যদিকে আয় বৈষম্যও নগর দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ। সাম্প্রতিক বছরে দারিদ্র্য কমলেও আয় বৈষম্য বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার পতনের দাবিতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে জনজোয়ারের পেছনে আর্থসামাজিক বিভিন্ন কারণের মধ্যে দারিদ্র্যও একটা বড় কারণ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। শহরমুখী মানুষের ঢল সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, নদীভাঙনসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গ্রাম ছেড়ে শহরে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণে দারিদ্র্যের ঝুঁকি এখন গ্রাম থেকে নগরমুখী। দেশে প্রতি চারজনে একজন শহরে বসবাস করে।
দারিদ্র্য ঝুঁকির অনুমান ছাড়াও বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে অতি দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। দারিদ্র্য ও দারিদ্র্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই অর্থবছর দেশের শিল্প এবং সেবা খাতে নানা নেতিবাচক প্রভাব ছিল। শুধু গত অর্থবছরে এ কারণে চাকরি হারিয়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। বছরটিতে মজুরি প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। এতে চাকরি হারানো পরিবারগুলো দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই কারণে অতিদারিদ্র্য শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায় দারিদ্র্য বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা। মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলের (এমডিজি) একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০০০-১০ সাল মেয়াদে গড়ে প্রতি বছর দারিদ্র্য কমেছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে, যা কিনা উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতি বছর ১ দশমিক ২ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্যের চেয়ে বেশি। ১৯৯১ এবং ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে হ্রাস পেয়ে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুযায়ী বর্তমানে দেশে গড় দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যা আমাদের কাছে ইতিবাচক হলেও দেশের মোট জনসংখ্যার হার অনুযায়ী এটি অশুভ সংকেত। আরো দেখা যায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ের দারিদ্র্য হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে পল্লী এলাকায় ২০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ দারিদ্র্য রয়েছে। যেখানে ২০১৬ সালে দারিদ্র্য রেখা ব্যবহার করে অফিসিয়াল দারিদ্র্য হার ছিল জাতীয় পর্যায়ে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। পল্লী এলাকায় ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ব্যাক-ক্যালকুলেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে হাইয়েজ ২০১৬ সালে দারিদ্র্য হার ছিল ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে দেখা যায়, দেশে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০২২ সালে দারিদ্র্য হার ৭ দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্ট (হ্রাসের গতি) কমেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ব্যাপকভাবে কমেছে। নিম্ন দারিদ্র্য রেখা ব্যবহার করে ২০২২ সালে অতি দারিদ্র্য জাতীয় পর্যায়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে পল্লী এলাকায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। যেখানে ২০১৬ সালে নিম্ন দারিদ্র্য রেখা ব্যবহার করে অতি দারিদ্র্য হার ছিল জাতীয় পর্যায়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে পল্লী এলাকায় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ ও শহরাঞ্চলে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। ব্যাক-ক্যালকুলেশন ব্যবহার করে হাইয়েজ ২০১৬ সালে অতি দারিদ্র্য হার ছিল ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। দেশে ২০১৬ থেকে ২০২২ সালে অতি দারিদ্র্যের হার (৩ দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্ট, হ্রাসের গতি ৩৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ) ব্যাপকভাবে কমেছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ দারিদ্র্য হার পাওয়া গেছে। আগে কুড়িগ্রামে সর্বোচ্চ দারিদ্র্য হার থাকলেও এবার সেটি বরিশালে গেছে। উচ্চ ও নিম্ন উভয় দারিদ্র্য রেখার মাধ্যমে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালে বরিশাল বিভাগে দারিদ্র্যের বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছরে বরিশালে উচ্চ দারিদ্র্য রেখা অনুযায়ী দারিদ্র্য হার ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং নিম্ন দারিদ্র্য রেখা অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ১১ দশমিক ৮ শতাংশ পাওয়া যায়। অন্যদিকে বিভাগগুলোর মধ্যে উচ্চ দারিদ্র্য রেখা অনুযায়ী খুলনায় দারিদ্র্যের হার ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ঢাকায় নিম্ন দারিদ্র্য রেখা অনুযায়ী অতি দারিদ্র্যের হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে আয় বৈষম্যের পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২২ সালে আয় গিনি সহগ অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ে আয় বৈষম্য শূন্য দশমিক ৪৯৯, পল্লী এলাকায় শূন্য দশমিক ৪৪৬ এবং শহর এলাকায় শূন্য দশমিক ৫৩৯, যা ২০১৬ সালে জাতীয় পর্যায়ে ছিল শূন্য দশমিক ৪৮২, পল্লী এলাকায় শূন্য দশমিক ৪৫৪ এবং শহর এলাকায় শূন্য দশমিক ৪৯৮। ২০১০ সালে জাতীয় পর্যায়ে গিনি সহগ ছিল শূন্য দশমিক ৪৫৮, পল্লী এলাকায় শূন্য দশমিক ৪৩১ এবং শহর এলাকায় শূন্য দশমিক ৪৩১ এবং শহর এলাকায় শূন্য দশমিক ৪৫২। উচ্চ আয়বিশিষ্ট শ্রেণির আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২২ সালে আনুমানিক ১৪ দশমিক ১ শতাংশ খানার একজন সদস্য ছিলেন, যারা গত ১২ মাসে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। এটি ২০১৬ ও ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ যার হার ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। হাইয়েজ ২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ে ২১ দশমিক ১১ শতাংশ ব্যক্তি মাঝারি বা মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন। যেখানে ২০২২ সালে পল্লী এলাকায় এ হার ছিল ২২ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শহর এলাকায় ১৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। দেশে ২০২২ সালে ১ দশমিক ১৩ শতাংশ ব্যক্তি মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিলেন।
তবে দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতি হলেও সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে ধনিক শ্রেণির সংখ্যা দ্রুত বাড়ার ফলে আয় বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে, সামাজিক খাতে উন্নয়ন সত্ত্বেও বাংলাদেশে আয় বৈষম্য প্রকট যেমন দেশের গরিব ৪০ শতাংশের আয় মোট আয়ের মাত্র ২১ শতাংশ, প্রথম ১০ শতাংশ শীর্ষ ধনীর কাছে ২৭ শতাংশ আয় চলে যায়, শেষ ১০ শতাংশ মানুষের কাছে পৌঁছায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ আয়। অর্থাৎ শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনী শেষ ১০ শতাংশের তুলনায় প্রায় ৮ গুণ বেশি আয় করে, যার ফলে মোট দেশজ উৎপাদন/আয় বৃদ্ধি পেলে তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কম পৌঁছায়। ইউএনডিপির ২০২০ সালের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের গিনি সূচকের পয়েন্ট ০.৪৭৮ এবং কোনো দেশের এই স্কোর ০.৫০-এর ঘর পেরোলেই উচ্চ বৈষম্যের দেশ হিসেবে ধরা হয়, যা কোনোভাবেই বাংলাদেশের জন্য সুখবর নয়।
স্বাধীনতার ৫৩ বছরে অর্থনীতির অনেক পরিবর্তন হলেও সমাজের মৌলিক সমস্যা যেমন নারীর প্রতি বৈষম্য, যৌতুক প্রথা, মানবিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক আচরণ, ভোগের প্রবণতা বৃদ্ধি, পরিবার প্রথায় অনীহা, কালো টাকার প্রভাবমুক্ত সমাজ অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, হতাশাজনক রাজনীতি, নির্বাচনের প্রতি অনীহা, সরকার-বিরোধী দল দ্ব›দ্ব ইত্যাদি বিষয়গুলোর তেমন গুণগত পরিবর্তন হয়নি, যা নিয়ে সমাজ বিশ্লেষকরা চিন্তিত গ্রামীণ থেকে শহুরে, স্থানীয় থেকে জাতীয়/আঞ্চলিক স্তরের সব পর্যায়ে যে পরিবর্তন হয়েছে তার সঙ্গে দেশের আদি সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থায় রয়েছে, যা কাম্য নয়।
ড. মিহির কুমার রায় : কৃষি অর্থনীতিবিদ ও গবেষক; ডিন, সিটি ইউনিভার্সিটি।
