×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

প্রসঙ্গ প্রশ্নফাঁস : কাউকে ছাড় নয়

Icon

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রসঙ্গ প্রশ্নফাঁস : কাউকে ছাড় নয়

পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, এমনকি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বহু অভিযোগ আছে। যেখানে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। সেখানে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার বেশ সুনাম ছিল বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিপিএসসি)। কিন্তু উদ্বেগজনক ও বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিপিএসসি) নেয়া বিসিএসের ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার পদের ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় কেঁচো খুঁড়তেই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে সাপ। শুধু পিএসসি নয়; এই চক্র বেসরকারি ব্যাংক ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে আসছিল। প্রশ্ন ফাঁস করে চাকরিপ্রার্থীদের হাতে দেয়া হতো না এটি। পরীক্ষার আগের রাতে ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায় নিরাপদ জায়গায় (চক্রের সদস্যদের ভাষায় বুথ) রাখা হতো। সারারাত প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে সকালে পরীক্ষা দিতে পাঠানো হতো। সর্বশেষ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার ৪৬ জন প্রার্থীকে রাজধানীর পল্টনের একটি পানির ফিল্টারের গুদামে রাখা হয়েছিল। শুধু প্রশ্নফাঁসই নয়- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের চাকরির ভাইভা পরীক্ষার তদবিরও করত চক্রটি। গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চক্রের প্রধান মাস্টারমাইন্ড মো. নোমান সিদ্দিক। এই চক্রের অন্যতম হোতা পিএসসির অফিস সহায়ক মো. সাজেদুল ইসলাম ও পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী। নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ গড়েছেন তারা। পরিতাপের বিষয়, পিএসসির মতো আস্থাশীল প্রতিষ্ঠানের যদি এই অবস্থা হয় তবে আমরা কিসের ওপর ভরসা রাখব। এখন সময় এসেছে যারা ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো দখল করে বসে পড়েছে তাদের ব্যাপারে ভাবা। তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা দরকার। গত কয়েক বছরে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবুও প্রশ্নপত্র ফাঁস কেন ঠেকানো যায়নি, এ বিষয়েও সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। সম্প্রতি সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তাদের কৃতকর্মে লক্ষ্য করা যাচ্ছে- প্রকৃত মেধাবীকে বঞ্চিত করে অসৎ প্রার্থীকে সুযোগ দিলে সে কর্মক্ষেত্রে কীভাবে নানা অপরাধ-দুর্নীতি করতে পারে। মেধাবী তরুণদের ভরসার জায়গা পিএসসি। সেই ভরসার জায়গা ক্ষুণ্ন হবে তা কখনো কাম্য নয়। আস্থা ও মর্যাদার সেই জায়গা ফিরিয়ে আনতে কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি সঠিক তদন্তসাপেক্ষে অপরাধীদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো কঠোর হতে হবে। এই চক্রের সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কোনোভাবেই মেধাবীদের বঞ্চিত করে জাতির ক্ষতি করা যাবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App