×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

প্রশ্নফাঁস দণ্ডনীয় অপরাধ

নিশ্চিত করা হোক উপযুক্ত শাস্তি

Icon

আর কে চৌধুরী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতি সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে। এমন ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে এ কলুষতা পৌঁছেনি। রেলওয়ের কিছু পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সরকারি কর্মকমিশন পিএসসির দুজন উপপরিচালকসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ছয়জনই পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, একজন সাবেক গাড়িচালক। সে নাকি শত কোটি টাকারও মালিক। ঢাকায় তার বহুতল ভবন, কুয়াকাটায় থ্রি-স্টার হোটেল। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোচ্ছে অনেক ‘সাধু’ পুরুষের উঠানেও।

বিএসএস প্রিলি ও লিখিতসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩০ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বিভিন্ন সময়। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ অপকর্ম করে আসছিল দুষ্টচক্রের সদস্যরা। পিএসসি বলেছে, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নের অন্যায় সুযোগ নিয়ে যদি একজনও চাকরি পেয়ে থাকে, এ কারণে যে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন- তার ক্ষতিপূরণ হবে কীভাবে? দেশে অসংখ্য উচ্চশিক্ষিত মেধাবী তরুণ বেকার, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে হতাশ। বাধ্য হয়ে তারা সরকারি চাকরিতে ঢোকার বয়স বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে পিএসসির সিন্দুকে ছিদ্র! গোটা সমাজই দুষ্টচক্রের দৌরাত্ম্যে চলে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। অথচ রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে তারা। প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ঢোকার বিসিএস পরীক্ষায় উচ্চ ফলাফল নিয়ে স্নাতক-স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ লাখ লাখ মেধাবী তরুণ-তরুণী চূড়ান্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে শতকরা মাত্র এক বা দুজন চাকরি পান। সেই পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিষ্ঠানে সামান্য স্খলনও ক্ষমার অযোগ্য। প্রকৃত মেধাবীকে বঞ্চিত করে অসৎ প্রার্থীকে সুযোগ দিলে সে দুর্জন কর্মক্ষেত্রেও নানা অপরাধ-দুর্নীতি করতে থাকবে- যার নজির সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিভিন্ন সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তাদের কৃতকর্মে। পিএসসি মেধাবী তরুণদের ভরসার জায়গা। সেখানে কোনো প্রহসনের পরীক্ষা হলে, এর প্রতি আস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে, যা কাম্য নয়। ফলে এক্ষেত্রে দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে। মেধাবীরা বঞ্চিত হলে জাতির ক্ষতি, যা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা আমাদের সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটাও একটা বড় দুর্নীতি। এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই, যে বা যারা প্রশ্নফাঁসের মতো জঘন্য ও নিন্দনীয় একটি কাজের সঙ্গে জড়িত, তারা প্রকৃতপক্ষে দেশ এবং জাতির শত্রæ। তাদের নীতি-নৈতিকতা বলে কিছু নেই। শুধু অর্থের বিনিময়ে তারা যা খুশি তা-ই করতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন আইন আছে। যেখানে প্রশ্নফাঁস সম্পর্কে বিলে বলা হয়েছে, ‘পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে পরীক্ষার জন্য প্রণীত কোনো প্রশ্নসংবলিত কাগজ বা তথ্য, পরীক্ষার জন্য প্রণীত হয়েছে বলে মিথ্যা ধারণাদায়ক কোনো প্রশ্নসংবলিত কাগজ বা তথ্য অথবা পরীক্ষার জন্য প্রণীত প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে বলে বিবেচিত হওয়ার অভিপ্রায়ে কোনো প্রশ্নসংবলিত কাগজ বা তথ্য যে কোনো উপায়ে ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। প্রশ্নফাঁস দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধ প্রতিরোধের সহজ উপায় হচ্ছে অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো কঠোর হতে হবে। এই চক্রের সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। নিশ্চিত করা হোক উপযুক্ত শাস্তি।

আর কে চৌধুরী : মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App