×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

হালদা নদী সংকটাপন্ন

দখল-দূষণ বন্ধে পরিকল্পিত উদ্যোগ জরুরি

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 দখল-দূষণ বন্ধে পরিকল্পিত উদ্যোগ জরুরি

দেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র চট্টগ্রামের হালদা নদী নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য খাল, নালা-নর্দমার মাধ্যমে নদীতে ফেলার কারণে মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। প্রায়ই মা-মাছ ও ডলফিন ভেসে উঠছে হালদা নদীতে। গত ১০ দিনে পাঁচটি মা-মাছ ও একটি ডলফিন মারা গেলে তা নিয়ে গণমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অল্প দিনের ব্যবধানে পাঁচটি মা-মাছ এবং ডলফিনের মৃত্যু স্বাভাবিক বলা যাবে না। ২৩ বছরের ইতিহাসে হালদায় একসঙ্গে এত মা-মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে পরিবেশবিদরা দাবি করছেন। নিশ্চয় এটা উদ্বেগের বিষয়। পরিবেশবিদরা বলছেন, এর প্রধান কারণ নদীদূষণ। হালদা নদীকে জাতীয় হেরিটেজ ঘোষণা করা হলেও এর প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় তেমন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া দুঃখজনক। দক্ষিণ এশিয়ায় কার্প জাতীয় মাছের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। প্রায় ৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটি চট্টগ্রামের তিন উপজেলা ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজানের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত। জানা গেছে, হাটহাজারী অংশে হালদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খালগুলো বেশি দূষণের শিকার। নগরী ও হাটহাজারী অংশের মধ্যকার বেশ কিছু খালের দূষণের প্রভাব পড়ছে নদীতে। হালদা নদীর সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি খাল ও দুটি বিলের পানি শিল্প ও গৃহস্থালি বর্জ্য দূষণে কালো হয়ে গেছে। এসব পানি হালদায় গিয়ে পড়ছে। এতে নদীর পানির পাশাপাশি দূষিত হচ্ছে সংলগ্ন এলাকার কৃষিজমি এবং অন্য পুকুর-জলাশয়ও। দেশের নদীগুলোর অবস্থা যে মুমূর্ষু, তা নদীর সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়। এর পেছনে দূষণ-দখলদারিত্ব থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম জড়িত। চট্টগ্রাম নগরী যে নদীকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীতে পরিণত হয়েছে, সেই কর্ণফুলী নদীর দখল-দূষণ রোধে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। পরিবেশবাদী সংগঠন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও নদী কমিশনের নানা উদ্যোগের ফলে কর্ণফুলী নদীর বেশ কিছু অংশ থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা গেলেও এখনো রয়ে গেছে কয়েক হাজার অবৈধ দখলদার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা মতে, দখল-দূষণে কর্ণফুলী নদী ও এর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য সংকটাপন্ন। এর মধ্যে ৮১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে এবং ৬১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দূষণ ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আরো ৬১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিপন্ন হয়ে যাবে। কর্ণফুলীর মতো হালদা নদীও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। হালদা নদীদূষণ, মাত্রাতিরিক্ত শিকার, আবাসস্থল বিনষ্ট, মাত্রাতিরিক্ত যান চলাচল ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার কারণে মা-মাছ, ডলফিন ও নানা জলজপ্রাণী হুমকির মুখে পড়েছে। প্রাকৃতিক এই মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষা করতেই হবে। নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা দিলেও সেই আদেশ লঙ্ঘন করে দখল আর দূষণের মাধ্যমে নদীকে হত্যা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই। নদীগ্রাস আগামী দিনে পরিবেশসহ সার্বিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্ণফুলীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যেভাবেই হোক কর্ণফুলী ও হালদা নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে অবিলম্বে সরকারের পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ দেখতে চাই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App