×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

বাইডেন কি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী থাকছেন

Icon

শিতাংশু গুহ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাইডেন কি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী থাকছেন

প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার প্রথম বিতর্ক শেষ হওয়ার আগেই ডেমোক্র্যাট শিবিরে হতাশা নেমে এসেছে। বাইডেন ব্যর্থ হয়েছেন- এ কথা প্রমাণ করতে ট্রাম্প ফিট। আরো ৪ বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশ শাসন করতে শারীরিকভাবে সক্ষম এটি প্রমাণ করতে বাইডেন ব্যর্থ হয়েছেন। বাইডেন ডেমোক্র্যাটদের হতাশ করেছেন। ইতোমধ্যেই কথা উঠেছে, বিকল্প প্রার্থীর চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। সিএনএনের একজন কমেন্টেটর স্পষ্টত বলেছেন, ডেমোক্র্যাট শিবিরে শুধু যে বেদনা তা নয়, ভীতির সঞ্চার হয়েছে। ক্লোজিং ভাষণে বাইডেন ভোটারদের মনে রেখাপাত করার মতো কিছু বলেননি। ডেমোক্র্যাট শিবিরে রব উঠেছে, ‘উই হ্যাভ এ প্রবলেম’।

পক্ষান্তরে ক্লোজিং ভাষণে ট্রাম্প প্রথমেই বাইডেনকে ‘কমপ্লেইনার’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, বাইডেন কিছু করেননি, ইউক্রেন-মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ তার জন্যই হচ্ছে। আমেরিকা তাকে শ্রদ্ধা করে না, সর্বত্র তিনি ব্যর্থ। কিন্তু এমনটা থাকবে না, ‘উই উইল মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’। দু’জনের বয়স সম্পর্কে বাইডেন যা বলেছেন তা অস্পষ্ট। ট্রাম্প বেশ জোরের সঙ্গেই বলেছেন, তিনি ফিট এবং বাইডেনকে তিনি আনফিট বলেছেন। ট্রাম্প অবশ্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এড়িয়ে যান। যুক্তিতর্কে বাইডেন কিছুটা ভালো করলেও ট্রাম্পের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হননি, এমনকি ‘গর্ভপাত’ সম্পর্কেও নয় অথচ এটি ডেমোক্র্যাটদের একটি প্লাস পয়েন্ট।

ট্রাম্প ভায়োলেন্সের নিন্দা করবেন কিনা- প্রশ্নটিও এড়িয়ে যান। নির্বাচনের ফলাফল তিনি মেনে নেবেন কিনা- প্রশ্ন হলে ট্রাম্প প্রথমে এড়িয়ে যান। কিন্তু পুনরায় প্রশ্ন হলে বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে অবশ্যই তিনি মেনে নেবেন। একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি এবং এ জন্য বাইডেন দায়ী। তিনিই আমাদের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। বাইডেন বলেন, আমাদের বিশ্বকে রক্ষা করতে হবে। বাইডেনের বক্তব্য পানসে মনে হচ্ছিল। ট্রাম্প পরিষ্কার বলেছেন তিনি জিতবেন, জরিপ তাই বলছে।

প্রবেশের সময় বাইডেনকে ফ্যাকাশে দেখাচ্ছিল, ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না। মাঝেমধ্যে তিনি তোতলাচ্ছিলেন। ট্রাম্প সাবলীলভাবে হেঁটে রুমে ঢোকেন। দু’জন দু’জনকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। ট্রাম্প বাইডেনকে মিথ্যুক বলেছেন। বাইডেন বলেছেন, আমি জীবনে এত মিথ্যা কথা শুনিনি। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল ঘটনার প্রশ্নটি ট্রাম্প প্রথমে এড়িয়ে যান। কিন্তু মডারেটর পুনরায় জিজ্ঞাসা করলে তিনি ন্যান্সি পেলোসিকে দায়ী করেন এবং বলেন, সেদিন দেশপ্রেমিকরা শান্তি মিছিল করছিল। বাইডেন বলেছেন, এ জন্য ট্রাম্পই দায়ী। তিনি উস্কানি দিয়েছেন। ৩ ঘণ্টা তিনি কিছুই করেননি। দণ্ডিতদের তিনি মাফ করবেন কিনা- এ প্রশ্নটি ট্রাম্প এড়িয়ে যান।

মধ্যপ্রাচ্যে দুই রাষ্ট্র ফর্মুলা তিনি সমর্থন করেন কিনা- প্রশ্নটিও ট্রাম্প এড়িয়ে যান। বাইডেনও এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তবে বাইডেন ও ট্রাম্প উভয়েই বলেছেন, ইসরায়েলকে এর কাজ শেষ করার সুযোগ দেয়া উচিত। ট্রাম্প বলেন, বাইডেন এখনো জিম্মিদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ। বাইডেন বলেছেন, হামাসকে উৎখাত করাটা দরকার। আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার প্রশ্নে ট্রাম্প বাইডেনকে ধুইয়ে দেন।

বাইডেন যখন ট্রাম্পকে দণ্ডিত অপরাধী বলেন, ট্রাম্প তখন ঈষৎ হাসছিলেন। বাইডেন ট্রাম্পকে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, বাইডেন পুত্র ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত, হয়তো অফিস ছাড়ার পর বাইডেনও দণ্ডিত হতে পারেন। বাইডেন পুতিনকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে মন্তব্য করেন। ইমিগ্র্যান্ট প্রশ্নে ট্রাম্পের ভালো করার কথা, তিনি করেছেন। অর্থনীতি প্রশ্নে দু’জনই ক্রেডিট দাবি করেছেন। মূলত এ বিতর্কে বাইডেনের প্রমাণ করার কথা ছিল তিনি ফিট, তা তিনি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে এই প্রথম ট্রাম্প স্বীকার করেন, সুপ্রিম কোর্ট ‘গর্ভপাত পিল’ অনুমোদন দিয়েছে। তিনি সেটি মেনে নেবেন এবং আটকাবেন না। ট্রাম্প পরিষ্কার বলেন, গর্ভপাতের বিষয়টি স্টেটের ওপর থাকা উচিত। বাইডেন বলেন, তিনি ‘রোভি অ্যাক্ট’ পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে।

২৭ জুন ২০২৪ টানা উত্তেজনার মধ্যে বাইডেন-ট্রাম্প প্রথম বিতর্ক শেষ হয়েছে। আটলান্টায় সিএনএন সদর দপ্তরে আয়োজিত এ বিতর্ক রাত ৯টা থেকে দুটি বিজ্ঞাপনী বিরতিসহ রাত ১০টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত চলে। বাইডেন ছিলেন পোডিয়ামের ডানদিকে, ট্রাম্প শেষ কথা বলেন। দু’জন মডারেটর জেইক টেপার ও ডানা ব্যাশ সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন দুই প্রার্থীকে সময় মেনে চলতে এবং বিতর্ক ভদ্রোচিত রাখতে। মোটামুটি তাই ছিল। বিতর্কে ট্রাম্প জয়ী। বেশির ভাগ মিডিয়া এন্টি-ট্রাম্প, তারাও বাইডেনকে নিয়ে হতাশ। বিল ক্লিনটন আমল থেকে প্রায় প্রতিটি বিতর্ক আমি দেখেছি, এবারো শেষ পর্যন্ত দেখে আমার মনে হয়েছে, ‘বাইডেন প্রথম থেকেই হেরে বসেছিলেন।’

এ বিতর্কে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রায় সবকিছুই ‘অমিল’, মিল শুধু দু’জনই বুড়ো। ট্রাম্প আগে এক অনুষ্ঠানে বাইডেনকে ‘বুড়ো’ বলেছেন। বাইডেন সিটিং প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট- এমন ঘটনা এই প্রথম, এটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ট্রাম্প ফৌজদারি মামলায় দোষী, এটিও নজিরবিহীন ঘটনা। ইতোপূর্বে কোনো দণ্ডিত প্রেসিডেন্ট বিতর্কে অংশ নেননি। মার্কিন ইতিহাসে ট্রাম্পই একমাত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট, যিনি দণ্ডিত। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরো ৩টি ফৌজদারি মামলা ঝুলছে। অন্যদিকে ট্রাম্প একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি দুবার ইম্পিচড হন এবং দুবারই খালাস পান। সিএনএনের ভাষ্যমতে, আরএফকে জুনিয়র মার্কিন সংবিধানের আর্টিক্যাল-২, সেকশন-১-এর শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিতর্কে অংশ নিতে পারেননি।

নিয়ম ছিল এক প্রার্থী কথা বলার সময় অন্য প্রার্থীর মাইক্রোফোন বন্ধ থাকবে, তাই ছিল। কোনো প্রার্থীকে পূর্বে বেঁধে দেয়া নিয়ম অনুযায়ী কোনো লিখিত নোট নিতে দেয়া হয়নি। তাদের উভয়কে একটি কলম, একটি লেখার প্যাড ও এক বোতল পানি দেয়া হয়। বিতর্কস্থলে কোনো দর্শক ছিল না। দ্বিতীয় বিতর্ক হওয়ার কথা ১০ সেপ্টেম্বর, আয়োজক এবিসি। সচরাচর তিনটি বিতর্ক হয়ে থাকে, এখন পর্যন্ত দুই প্রার্থী দুটি বিতর্কে রাজি হয়েছেন। সিএনএন ফ্ল্যাশ-পোল বলছে, ট্রাম্প জিতেছেন ৬৭ শতাংশ, বাইডেন ৩৩ শতাংশ। প্রশ্ন হচ্ছে, বাইডেন কি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী থাকছেন? না থাকলে, বিকল্প প্রার্থী কে হবেন?

শিতাংশু গুহ : কলাম লেখক।

নিউইয়র্ক থেকে

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App