×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের তাৎপর্য

Icon

ড. মো. মোরশেদুল আলম

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের তাৎপর্য

গত ২২ জুন নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরো সুসংহত করতে ১০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর ভারতে কোনো সরকারপ্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। এটি ছিল ১৫ দিনেরও কম সময়ে ভারতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর। এর আগে ৯ জুন তিনি নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। দেশ দুটি ৫টি নতুন সমঝোতা স্মারক সই, ৩টি সমঝোতা স্মারক নবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্র হিসেবে যৌথ কার্যক্রমের ২টি নথিতে সই করে। বাংলাদেশ ও ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে এক সুতায় গাঁথার জন্য ‘ভিশন ডকুমেন্ট’ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর শেষে এই ভিশন ডকুমেন্ট প্রকাশ করা হয়। শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ১৪ অনুচ্ছেদের এই ঘোষণায় দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভবিষ্যৎমুখী উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত এবং কর্মপন্থার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ‘ডিজিটাল অংশীদারত্ব’ এবং ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সবুজ অংশীদারত্ব’ বিষয়ক দুটি সমন্বিত রূপকল্পকে সামনে রেখে ভারত ও বাংলাদেশ কাজ করবে। এ লক্ষ্যে দুই যৌথ কার্যক্রমের নথি সই করে বাংলাদেশ। এ দুটি হলো- বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল অংশীদারত্বের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা এবং টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সবুজ অংশীদারত্বের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ক নথি সই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উভয় দেশের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে ডিজিটাল ও সবুজ অংশীদারত্বের জন্য একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্মত হয়েছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের যাত্রায় উভয় দেশই ‘ভিশন স্টেটমেন্ট’ অনুমোদন করেছে। আমরা ডিজিটাল পার্টনারশিপ এবং টেকসই ভবিষ্যতের সবুজ অংশীদারত্বের জন্য একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্মত হয়েছি। ভারতকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী, বিশ্বস্ত বন্ধু এবং আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় শুরু হওয়া ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে মূল্যায়ন করে।

নতুন ৫টি সমঝোতা স্মারক হলো : বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সুনীল অর্থনীতি ও সমুদ্র সহযোগিতার বিষয়ে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক; ভারত মহাসাগরের ওশানোগ্রাফির ওপর যৌথ গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে বাংলাদেশের বিওআরআই ও ভারতের সিএসআইআরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক; বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগের ওপর সমঝোতা স্মারক; যৌথ ছোট স্যাটেলাইট প্রকল্পে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল স্পেস প্রমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক এবং ডিফেন্স স্টাফ কলেজের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক। নবায়নকৃত তিনটি সমঝোতা স্মারক হলো : মৎস্যসম্পদ সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক।

ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক ওশেনস ইনিশিয়েটিভে বাংলাদেশ যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ভারতের ‘সাগর’ (সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ ফর অল ইন দ্য রিজিয়ন) উদ্যোগের একটি অংশে বাংলাদেশ যুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সময় বিষয়টি সামনে চলে আসে। দিল্লি সফরের দ্বিতীয় দিনে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমে যৌথ বিবৃতি প্রদান করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারতীয় সমুদ্রের ক্ষেত্রে দুই দেশের ভিশন এক রকম। ইন্দো-প্যাসিফিক ওশেন উদ্যোগে যোগদানের জন্য ভারত বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের অন্যতম ফোকাস ছিল সমুদ্র সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের ২০৪১ এবং ভারতের ২০৪৭ রূপকল্পের মধ্যে সমন্বয় খুঁজে বের করা। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে সমুদ্র সহযোগিতা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক ওশেনস ইনিশিয়েটিভ ছাড়াও মেরিটাইম সহযোগিতা ও ওশানোগ্রাফি নিয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের মধ্যে আমরা এর প্রতিফলন দেখতে পাই। আগে থেকেই বলা হচ্ছিল দুই দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে এই সফরের মাধ্যমে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও ভবিষ্যৎমুখী সহযোগিতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ইন্দো-প্যাসিফিক ওশেনস ইনিশিয়েটিভের ৭টি পিলার রয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়াসহ আরো অনেক সমমনা দেশ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখে জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, মেরিটাইম নিরাপত্তা, ইকোলজি বা ট্রান্সপোর্টের মতো বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত। এসমুদ্রকে কেন্দ্র করে ভারতের ‘সাগর’ উদ্যোগ রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশনের ভেতরে যে উপাদানগুলো রয়েছে সেগুলোকে ধারণ করেই ভারতের এই উদ্যোগ। ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন অর্জনের জন্য বাংলাদেশ সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে যোগ দিচ্ছে এ কথা আমরা বলতেই পারি। ভারতীয় সমুদ্রের ক্ষেত্রে দুই দেশের ভিশন এক রকম উল্লেখ করে ইন্দো-প্যাসিফিক ওশেন উদ্যোগে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে ভারত স্বাগত জানায় বলে নরেন্দ্র মোদি জানান। এখানে উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদি ইন্দো-প্যাসিফিক ওশেনস ইনিশিয়েটিভের বিষয়ে বলেছিলেন। ওই উদ্যোগটি ছিল তাদের ‘সাগর’ উদ্যোগের বর্ধিত অংশ।

প্রকাশিত ভিশন ডকুমেন্টের প্রথম অনুচ্ছেদে স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১ এবং বিকশিত ভারত ২০৪৭ অর্জনে দুই দেশ অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ভারতের নেইবারহুড পলিসি, অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি, সাগর ডকট্রিন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশনের মধ্যখানে বাংলাদেশ রয়েছে। বাংলাদেশ শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। এটি একটি ট্রান্সফরমেটিভ ভিশন ডকুমেন্ট এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতা এটি ঘোষণা করেছেন বলে এর মাত্রা এবং গুরুত্ব অনেক বেশি। দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা দিয়ে দিয়েছেন। এখন তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ হবে। দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে সহযোগিতার প্রায় সব ক্ষেত্র এই ডকুমেন্টে রয়েছে জানিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, ‘এখানে কানেকটিভিটি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, পানি, বিদ্যুৎ ডিজিটাল এবং গ্রিন অংশীদারত্ব, ভিসা সুবিধা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন উপাদান রয়েছে।’ এই ডকুমেন্টকে দুই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভিশনের মধ্যে সমন্বয়ের প্রচেষ্টা হিসেবে আমরা দেখতে পারি। এর অধীনে ভবিষ্যতে দুই দেশের জন্য লাভজনক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ক্রমাগত দ্রুতগতিতে বাড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমাদের দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা খুব ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।

ভিশন ডকুমেন্টে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং যৌথ নদী কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পানি বণ্টন কাঠামো তৈরি করার জন্য অভিন্ন নদীর তথ্য-উপাত্ত একে অপরকে জানাবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের জন্য যৌথ কারিগরি কমিটি গঠনকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ভারতের সহায়তায় তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। তিস্তা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, তিস্তা নদী পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের জন্য দ্রুত একটি কারিগরি দল বাংলাদেশে যাবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। বন্যা ব্যবস্থাপনা, আগাম সতর্ক সংকেত, সুপেয় পানি প্রকল্পে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৩০ বছর মেয়াদি ১৯৯৬ সালে গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন করার জন্য কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা শুরু করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। দুই দেশের ফোকাস হচ্ছে কানেকটিভিটি, কমার্স এবং অন্যান্য সহযোগিতা। গত ১০ বছরের মধ্যে আমরা ১৯৬৫-এর আগে যে কানেকটিভিটি ছিল, সেটি পুনঃস্থাপন করেছি। নতুন নতুন ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য দুই দেশ আজ ভবিষ্যৎ ভিশন তৈরি করেছে উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ডিজিটাল ও গ্রিন পার্টনারশিপ, ব্লু ইকোনমি, স্পেসসহ অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতা দুই দেশের জন্য লাভজনক হবে।

দুই দেশ ও গোটা অঞ্চলের ভৌগোলিক নৈকট্যকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপান্তর করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কানেকটিভিটির উদ্যোগ নেয়া হবে। এর মধ্যে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট, ক্রস-বর্ডার বাণিজ্য ও ট্রানজিট অবকাঠামো রয়েছে। এতে করে মানুষ, পণ্য ও সেবা কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। একই সঙ্গে জ¦ালানি ও ডিজিটাল কানেকটিভিটির ওপরও জোর দেয়া হয়েছে। উপ-আঞ্চলিক কানেকটিভিটির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে রেলপথে পণ্য আনা-নেয়ার জন্য ভারত ট্রানজিট সুবিধা প্রদান করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ভারত আগ্রহী জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো বাড়ানোর জন্য প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন থেকে শুরু করে আধুনিকীকরণের জন্য আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমরা সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও শান্তিপূর্ণ সীমান্তের জন্য সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছি।

দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ যোগাযোগ সুদৃঢ় করা হবে। কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন করার জন্য দ্রুত আলোচনা শুরু করা, মোংলা ও মিরসরাইতে ভারতের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা এবং নতুন বর্ডার হাট খোলার মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের জন্য সুযোগ তৈরি করা হবে। এছাড়া সক্ষমতা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করবে ভারত। বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক আরো বাড়ানোর জন্য দুপক্ষ ‘সেপা’ (কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট) নিয়ে আলোচনা করতে ভারত রাজি। ভারতে চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশিদের ই-মেডিকেল দ্রুত চালুর ঘোষণাও তিনি প্রদান করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত এক বছরে অনেক কাজ হয়েছে বলে নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আখাউড়া-আগরতলা ব্রিজ, দুই দেশের মধ্যে রেল লিঙ্ক প্রকল্প, মোংলা বন্দর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর জন্য কার্গো সুবিধা, মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেল সংযোগ, ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের উৎপাদন শুরু হওয়া, টাকা-রুপি বাণিজ্য, গঙ্গা নদী দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের লম্বা রিভার ক্রজ, বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন, ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যুৎ বাণিজ্য- সবকিছু এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা দুই দেশের সম্পর্কের মাত্রার গভীরতা প্রমাণ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের সফর বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ভারতের নেইবারহুড পলিসি, অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি, ভিশন সাগর এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশনের মাঝখানে রয়েছে বাংলাদেশ। গত বছরগুলোয় আমরা অন্তত ১০ বার দেখা করেছি। কিন্তু এবারের সাক্ষাৎটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম রাষ্ট্রীয় অতিথি।’

ড. মো. মোরশেদুল আলম : শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App