×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

আওয়ামী লীগ জনপ্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

Icon

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ জনপ্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন। পলাশীর আমবাগানে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে পরে পুরো ভারতবর্ষ ইংরেজদের দখলে ছিল ১৯০ বছর। এ ঘটনার ১৯২ বছর পরে ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে একই তারিখে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামের একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। সেদিন কে ভেবেছিল এই রাজনৈতিক দলটিই একদিন বাংলার হারানো স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনবে। আসলে হারানো স্বাধীনতা বলা সঙ্গত নয়, কারণ বাঙালি কোনো কালে, কারো আমলেই স্বাধীন ছিল না। সেদিন মূলত নবাবের অধীন থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে গিয়েছিল। তবে বলতে হবে নবাবের শাসন বিদেশির শাসন থেকে বহুগুণ ভালো ছিল। সে প্রশ্ন তো আছেই, সেদিনের বাংলার নবাব সিরাজউদৌল্লাহ প্রকৃত অর্থে-স্বাধীন ছিলেন কিনা এবং সে সময়ের জনগণও স্বাধীন ছিল কিনা। ফলে বলতেই হবে যে, এই দলের নেতৃত্বেই বাঙালি তার সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাধীনতার স্বাদ পায়।

তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ এই দল গঠনে যাদের ভূমিকা ছিল মুখ্য তাদের অধিকাংশই মাত্র দুবছর আগেও ছিলেন ‘লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’-এর ঘোরতর সমর্থক। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দুই বছর পূর্তির আগেই কেন তারা অনুধাবন করেছিলেন যে, পূর্ব বাংলার জন্য একটি রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন, যে দল বাঙালির শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবাদে আর অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকবে?

কারণ ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবকে উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়ে দুটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও পূর্ব বাংলা প্রকৃতই অধীন থেকে যায় পাকিস্তান নামক সাম্প্রদায়িক একটি রাষ্ট্রের। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও পুরো রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা চলে যায় পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে এবং তারা পূর্ব বাংলা, পরে পূর্ব পাকিস্তানকে নিজেদের জমিদারি হিসেবেই ভাবতে শুরু করে। আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের পেছনে যারা ছিলেন তারা সবাই ছিলেন ঝানু রাজনীতিক, দূরদর্শী রাজনীতিক। কাজেই তারা বুঝতে পেরেছিলেন ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়।’ রোজ গার্ডেনে যখন এই দলের জন্ম হয় তখন বঙ্গবন্ধু কারাগারে। কারান্তরীণ অবস্থাতেই তাঁকে দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মওলানা ভাসানী। সামশুল হক নির্বাচিত হয়েছিলেন সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী মুসলিম লীগ নামটি নির্বাচন করেছিলেন মওলানা ভাসানী। একটি বিষয় লক্ষণীয়- এ দলটি যখন গঠিত হয় শেখ মুজিবুর রহমান তখনো ছাত্রনেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে জেলে গেছেন। সে অবস্থাতেই তাঁকে যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। কারণ হচ্ছে এর আগেই কলকাতা থাকাকালীন দুর্ভিক্ষ ও দাঙ্গা মোকাবিলা করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজে এক জনপ্রিয় রাজনীতিকে পরিণত হয়েছিলেন। তাছাড়া হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সখ্যের কারণে এতদাঞ্চলের গণতন্ত্রকামীদের কাছে ক্রমশ গ্রহণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আরেকটি কথা উল্লেখ না করলেই নয়, সেটি হলো, পূর্ব বাংলায় বা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল; কিন্তু বঙ্গবন্ধুই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি মুসলিম ছাত্রলীগ নামে। পরে এর নামের আগে থাকা মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয়, যে কারণে আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল।

মুসলিম আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পরপরই জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে। শুধু তাই নয়, নবগঠিত এই দলটি প্রতিষ্ঠার মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের হয়ে ক্ষমতা লাভ করে এবং যুক্তফ্রন্টের সে সরকারে বঙ্গবন্ধু প্রথমে প্রতিমন্ত্রী পরে পূর্ণমন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছিলেন।

প্রতিষ্ঠার মাত্র ছয় বছরের মধ্যেই দলের নীতি-নির্ধারকরা অনুধাবন করেছিলেন যে, বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করতে হলে দলকে অসাম্প্রদায়িক হতে হবে এবং দলের নাম থেকে সাম্প্রদায়িক শব্দটি বাদ দিতে হবে। এ বাস্তবতায় ১৯৫৫ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয়। এরপরে মওলানা ভাসানী আর এই দলে থাকেননি। ১৯৫৭ সালে দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে আলাদা একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। মূলত এরপর থেকে আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্ব গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু।

এর পরের ইতিহাস কারো অজানা নয়। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ঘোষণা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং একজন সাধারণ ছাত্রনেতার বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার ইতিহাস এবং ‘বঙ্গবন্ধু’ থেকে একটি জাতির পিতা হয়ে ওঠার ইতিহাস। বাঙালির গৌরব ও অহংকারের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজয়ের ইতিহাস। অর্থাৎ বাঙালির যা মহান অর্জন তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধু ও তার দল আওয়ামী লীগের নাম। বঙ্গবন্ধু না হলে এই আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হতো না। আওয়ামী মুসলিম হয়ে মুসলিম লীগের একটি অংশ কিংবা ভাসানীর সৃষ্টি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মতো আর দশটি রাজনৈতিক দলের মতো বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যেত। বঙ্গবন্ধু তাঁর একক প্রজ্ঞা, মেধা ও নেতৃত্বে একটি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং সে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্ব দিতে পেরেছিলেন।

এই দলের ওপর আঘাত কম আসেনি। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা ঘোষণার পর থেকেই তিনি ও তাঁর দল তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের প্রধান শত্রæতে পরিণত হন। তখন তাঁর ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে সৃষ্ট ষড়যন্ত্রের ধারা এখনো অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার আগেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনা যাদের মনে আছে তারা নিশ্চয়ই স্মরণ করতে পারবেন, যে দলের নেতৃত্বে এ জাতি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাধীনতা অর্জন করেছিল সে দল কিংবা তার কর্মী সমর্থকদের ওপর কেমন ও কী ধরনের নির্মম নিষ্ঠুর নির্যাতন নেমে এসেছিল। বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব বাকশালকে একটি গালিতে পরিণত করা হয়েছিল এবং আওয়ামী লীগ নেতাদেরই উল্টো ঘৃণিত করে তোলা হয়েছিল রাজাকার-স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক দল ও ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন করে। অনেকেই ভেবেছিল ’৭৫-এর পরে হয়তো আওয়ামী লীগ আর সংগঠিত হতে পারবে না। কিন্তু কী এক প্রাণ-প্রাচুর্যে পুনরায় জেগে উঠেছে এই দল এবং সহসাই একটি অন্যতম রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠা এই দলকে ঠেকাতে তখনো বেশ ষড়যন্ত্র অব্যাহত ছিল। আওয়ামী লীগকে খণ্ড খণ্ড করতে জেনারেল জিয়ার সরকারি বাহিনী ক্ষমতা প্রয়োগ করে। অর্থের প্রলোভনে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দল-উপদল সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে তখন লুকিয়ে থাকা ষড়যন্ত্রীদের কারণে জিয়া কিছুটা সফলও হয়েছিলেন তাতে। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা যদি দলের ভার গ্রহণ না করতেন তা হলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লিখতে হতো আজ।

এ দলের অন্যতম প্রধান শক্তি হচ্ছে সাধারণ জনগণ। তৃণমূল পর্যন্ত এমন বিস্তৃত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি আর নেই। অনেকবার আঘাত এলেও এ দল তাই এলোমেলো ও দিকভ্রান্ত হয়নি কখনো। তবে এ ক্ষেত্রে স্বীকার করতে হবে এ ঐক্য ও সুসংগঠিত হয়ে থাকার মূলে আছে বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক উত্তরাধিকার বা জাতির পিতার রক্তের উত্তরাধিকার। কোনো একদিন এমন হতে পারে ভেবেই ’৭৫ সালে খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বাংলাদেশে থাকলে তাদের হত্যা করা হতো সেদিন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। খুনিদের এ আশঙ্কা মিথ্যা ছিল না। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ না করলে এ দলটির অস্তিত্ব কেমন হতো তা ভাববার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়। খুনিরা যে বোকা নয় তা আরেকবার প্রমাণিত হয়েছিল ২০০৪ সালে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগ থাকলে বাংলাদেশকে সোজা কথায় পাকিস্তান বানানো সহজ নয় এবং আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে হলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হবে এটা ছিল খুনিদের ‘সিম্পল ম্যাথ’।

একটি দলের ৭৫ বছর টিকে থাকা খুব সহজ ব্যাপার নয়। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দলটি আজকের অবস্থানে এসেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনার টানা শাসনামলে দেশ সর্বক্ষেত্রে সাফল্য ও অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশ একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে।

বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি দল হিসেবে নিশ্চিহ্ন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। আগাগোড়া ভুল রাজনীতির কারণে জন্মের পর সবচেয়ে বড় দুঃসময় অতিক্রম করছে এ দলটি। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীর দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক শক্তিও ক্ষীণমান। কাজেই বর্তমানে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার মতো কোনো রাজনৈতিক শক্তি দেশে বর্তমান নেই। এবং ক্রমাগত ভুল চাল দেয়ার কারণে বিএনপি-জামায়াত জোট খুব সহসা যে আবার পূর্ণশক্তি নিয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে তা মনে হয় না। কাজেই এ খোলা মাঠে বর্তমান আওয়ামী লীগের ভূমিকা কী হতে পারে তা নিয়ে সামান্য আলোচনা করা যেতে পারে।

শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকায় এখন আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্ব›দ্বী হয়ে উঠেছে। সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের পর অনেক স্থানে তা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি দুর্বিনীত ভাব ও একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব জেগে উঠতে শুরু করেছে। অন্য রাজনৈতিক দলে থেকে সুবিধা করতে না পেরে দলে দলে লোক আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনে ভিড়ে যাচ্ছে। ‘আওয়ামী শিশু লীগের’ মতো ডজন ডজন দল গজিয়ে উঠছে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে। প্রতিদিন মুজিব কোট পরা নতুন নতুন লোকদের দেখা যাচ্ছে। এবং নতুন আওয়ামী লীগারদের কনুইয়ের ঠেলায় প্রকৃত ও ত্যাগী আওয়ামী লীগাররা যোজন যোজন দূরে সরে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য বিপজ্জনক ও আত্মঘাতী। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হচ্ছে আওয়ামী লীগকে বদলানো।

আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তি তথা বিএনপি-জামায়াত অনুসারীরা ভেবেছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই দলের ভরাডুবি হবে। কার্যত তা হয়নি। বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছিল। জামায়াত সেই বার নির্বাচন বয়কট করায় বিএনপিও বয়কট করে ভেবেছিল তাতে আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলা যাবে। শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বয়কট করায় আওয়ামী লীগের ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচনে জয়লাভ করে।

ভোটবিহীন নির্বাচন করে সরকার টিকবে না বলে তাদের ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে আওয়ামী লীগ পাঁচ বছর দেশ শাসন করার পর ২০১৮ সালের নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। এরপর থেকে বিএনপি গোলকধাঁধায় চলাচল করলেও ‘স্ট্র্যাটেজি’ পরিবর্তন করে জামায়াত। তারা রাজপথে পেরে না ওঠে, নির্বাচনে পেরে না ওঠে আওয়ামী লীগের সঙ্গেই মিশে যেতে থাকে। নিজ দলের ব্যানারে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে না পেরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে থেকে নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সচেষ্ট হয়েছে। স্পষ্ট কথা বলতে হলে, অপ্রিয় সত্য বলতে হলে বলতে হবে, জামায়াত এখানে সার্থকতার পরিচয় দিচ্ছে। সরকার ও দলের অভ্যন্তরে থেকে তারা তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করে নিচ্ছে।

প্লাটিনাম জুবিলিকে সামনে রেখে এখন নিজেদের স্বার্থে আওয়ামী লীগকে দুটো কাজ করতে হবে। ১৯৫৫ সালের মতো দলকে আবার অসাম্প্রদায়িক চরিত্রে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং কঠোরভাবে দুর্নীতিকে দমন করতে হবে। তার জন্য আলাদা করে থিঙ্কট্যাঙ্কের প্রয়োজন নেই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, তাঁর রাজনৈতিক দীক্ষাকে কাজে লাগাতে পারলে এই সমস্যা থেকে উজ্জ্বল উদ্ধার ঘটবে দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশের।

কামরুল হাসান বাদল : কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App