×
Icon ব্রেকিং
রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

সংস্কৃতি খাতে বাজেট

বরাদ্দ বেড়েছে, অসন্তোষ কমেনি

Icon

আহমেদ আমিনুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বরাদ্দ বেড়েছে, অসন্তোষ কমেনি

বরাবরের মতো এবারো বাজেট ঘোষণায় দেখা গেল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বস্ত্র ও পাট ছাড়া সব মন্ত্রণালয়ের চেয়ে কম। এই বরাদ্দের দিকে তাকিয়ে হতাশ না হয়ে পারা যায় না। হতাশাবোধের কারণ দুটি। এক. মন্ত্রণালয় নিজে অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনাসমেত নিচ থেকে ওপরের দিকে অর্থাৎ সরকারের কাছে তাদের চাহিদা যেমন উত্থাপন করতে পারে না তেমনি সরকারও স্বেচ্ছায় ওপর থেকে নিচের দিকে অর্থাৎ পরিকল্পনাহীন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে অপ্রত্যাশিত বরাদ্দ দেন না। কোনো মন্ত্রণালয় কম বাজেটে চলতে পারলেই বরং সরকার খুশি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ওপর সরকার সে অর্থে হয়তো খুশিই! বরাদ্দকৃত এই অল্প অর্থও যখন ব্যয়ের দক্ষতার অভাবে সরকারি কোষাগারে ফেরত যায় তখন সরকার খুশি হয় কিনা জানি না! এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতাকে স্পষ্ট করে- সরকার যে খুশি হয় তা আমরা মনে করি না। কারণ সরকার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের যে অভিযাত্রা শুরু করেছে সেখানে তা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে বাদ দিয়ে নয়।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা আমরা জানি। সেখানে দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস এবং উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণার প্রত্যয় ছিল। কিন্তু এসবের জন্য নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করে একটি অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল আধুনিক এবং আদর্শবাদী নাগরিক সৃষ্টির জন্য দেশীয় সংস্কৃতি এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যে ভূমিকা ব্যাপক। এই ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে হলে বাজেটের আকার বাড়ানোর বিকল্প নেই। কারণ সংস্কৃতিচর্চা কেবল নগরমুখী না করে তৃণমূল পর্যায়েও বিস্তৃত করতে হবে।

সংস্কৃতিকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়ার ফলে একদা সরকার নীতিগত উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স তথা মিলনায়তনসহ মুক্তমঞ্চ নির্মাণ, প্রত্যেক জেলায় অত্যাধুনিক মিলনায়তন নির্মাণসহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মিলনায়তন নির্মাণের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়নের কোনো তৎপরতা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটেও নেই। প্রকৃতপক্ষে সংস্কৃতি বলতে যে এক ব্যাপক বিষয়কে বোঝানো হয় তা সরকারের পক্ষ থেকে কখনো উপলব্ধি করা হয় না। সংশ্লিষ্টদের ধারণা- সংস্কৃতি মানেই হলো নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তির মতো ‘বিচিত্র অনুষ্ঠান’ মাত্র! জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কিছু মানুষ কবিতা পড়লেন, গান গাইলেন, নাচলেন আর আমরা ভাবলাম বাঙালি সংস্কৃতির জনম সার্থক হয়ে গেল! বিষয়টি তা নয়।

সর্বগ্রাসী ভারতীয় সব চ্যানেলের প্রতি এদেশীয় মানুষের যে এত দুর্মর আসক্তি তার মর্মমূলে রয়েছে বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি অবহেলা, অবজ্ঞা সর্বোপরি অবমূল্যায়ন। ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসী ছোবল মানুষকে মুক্ত করতে চাইলে নিজস্ব সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে হবে। নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা অবহেলা আর উদাসীনতার ফাঁকেই ভারতীয় সংস্কৃতি আমাদের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। সংস্কৃতি দিয়ে রুখতে হবে বহিঃসংস্কৃতির যাবতীয় আগ্রাসন। কাজটি খুব সহজ নয়। উপরন্তু আমরা অবজ্ঞা অবহেলা আর উদাসীনতায় গা ভাসিয়ে দীর্ঘ সময়ও পার করে ফেলেছি। যতই দিন যাচ্ছে ততই তা যেন আমাদের জীবনের শেকড়ে পরিণত হতে চলেছে, ততই তা অপ্রতিরোধ্যও হয়ে উঠছে। আফসোসের সঙ্গে হয়তো একদিন দেখব, বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাস করলেও আমরা যতটা না বাঙালি তারচেয়ে বেশি ভারতীয় হয়ে উঠেছি! সংস্কৃতি খাতকে প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে তুলনা করতে হবে। কথাটি শুনলে পাঠক হাসবেন ঠিকই কিন্তু গভীরভাবে ভেবে দেখবেন বহিঃশত্রæ যখন কোনো রাষ্ট্র আক্রমণ ও দখলের চেষ্টা করে তখন সশস্ত্র যুদ্ধ ঘোষণাই করতে হয়। এ শত্রæ দৃশ্যমান। কিন্তু সাংস্কৃতিক আগ্রাসন খুবই সূ²। যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমে বিজিত হওয়ার চেয়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বেশি ক্ষতিকর! আমাদের বিবেচনায় কোনো বহিঃশত্রæ রাষ্ট্র দখল করে নিলেও সেই রাষ্ট্রের সংস্কৃতিকে সহজে ধ্বংস করতে পারে না। বরং দেশবাসী পরাধীনতার গøানি থেকে আত্মরক্ষার তাগিদে, রাষ্ট্রকে স্বাধীন করার তাগিদে সাংস্কৃতিক চেতনাকেই ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মাধ্যমেই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো দেশের মানুষ যদি সাংস্কৃতিক বোধ-বুদ্ধি, রুচি ও চেতনাগতভাবে ভিনদেশি মনোভাবাপন্ন হয় তবে সে দেশ স্বাধীন সার্বভৌম হলেও তা যে অন্তঃসার শূন্য তা বলাইবাহুল্য!

বাংলাদেশের আলো-হাওয়া, জল-কাদা, বাংলাদেশের আকাশ-বাতাস-মাটি সব স্পর্শ করে, সবকিছুর মধ্যে অবগাহন করার পরও এ দেশের মানুষের সাংস্কৃতিক রুচি যদি থাকে পরনির্ভরশীলতায় আক্রান্ত তবে তা লজ্জারও! এরূপ আক্রান্ত মানুষকে কোনো সমরাস্ত্রই রক্ষা করতে পারবে না? তাই নিজ-ভূমির স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সংস্কৃতির সুরক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে। যুদ্ধে প্রকাশ্যেই পরাক্রমশালীরা আক্রমণের মধ্য দিয়ে অধিকতর কম শক্তি-সম্পন্নকে পরাস্ত করে। বিপরীতভাবে সংস্কৃতি অত্যন্ত নীরবে নিভৃতে মানুষকে প্রভাবিত ও আচ্ছন্ন করে। ধীরগতিসম্পন্ন হলেও সংস্কৃতিই মানুষের মনোজগতের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে- সশস্ত্র যুদ্ধ তা পারে না। তাই সংস্কৃতিকেও প্রতিরক্ষা খাতের মতোই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনোক্রমে একবার মানুষের মনোজগতের পরির্বতন সাধিত হয়ে গেলে তারপর বাজেটের আকার দ্বিগুণ, তিনগুণ এমনকি চতুর্গুণ করলেও কোনো লাভ হবে না। ততদিনে মানুষের আত্মবিসর্জন ঘটবে- ঘটে যাবে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত সাংস্কৃতিক বোধ-বুদ্ধি এবং উপলব্ধির। সেই সঙ্গে পরিবেশনা সংস্কৃতিরও বিভিন্ন উপাদান যাবে হারিয়ে।

আমরা মনে করি, সংস্কৃতি খাতে যথেষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিতের মাধ্যমে এবং তথ্যপ্রযুক্তির অত্যাধুনিক কৌশলগুলো কাজে লাগিয়ে বাঙালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পরিবেশনার উপযোগী করে দেশবাসীকে নিজস্ব সংস্কৃতির দিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব- মানুষকে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। কিন্তু সংস্কৃতি খাতের বাজেট বরাদ্দ প্রতি বছরই আমাদের হতাশ করে! হতাশ করে এই খাতে গৃহীত কর্মসূচির দৈনদশাও। রাজনৈতিক মঞ্চ কিংবা টেলিভিশনের টকশোতে মেঠো বক্তৃতার আকারে যারা খুব স্বচ্ছন্দে বলে থাকেন ‘বিগত বছরের তুলনায় সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বেড়েছে’- তাদের কাছে আমাদের বিনীত প্রশ্ন কেন এই অপরিণামদর্শী বরাদ্দ বৃদ্ধি! কী পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে নামমাত্র এই বরাদ্দ বৃদ্ধি? আমরা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেখতে চাই। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার দৈনতাই বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা গণমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছেন। রামেন্দু মজুমদার বলেন : ‘বাজেটে সংস্কৃতি খাতের অনীহা বরাবরই দেখা গেছে। যদিও সংস্কৃতি খাতে বাজেট বাড়ানো হয়েছে, তবে যথেষ্ট নয়। সেটি অবশ্যই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যা টাকা বরাদ্দ এসেছে তাতে একটি বড় উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নিতে হবে সরকারকে।’ অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ বলেন : ‘বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সংস্কৃতির যে গুরুত্ব, তার প্রতিফলন বাজেটে দেখা যায় না। সংস্কৃতি না থাকলে দেশ কতখানি দুর্নীতিপরায়ণ হয়, তার উদাহরণ তো দেখাই যাচ্ছে। সংস্কৃতি খাতে বাজেট খুবই কম। আবার এই কম অর্থ বরাদ্দের অর্থও ফেরতও যায়! এমন কেন হয়, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। দেশের সংস্কৃতিচর্চা শিল্পকলা একাডেমির সীমানার মধ্যে আটকা পড়ে যাচ্ছে। সেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের সংযুক্ত করতে পারে না। কিন্তু আলাদা করে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো ও জনবান্ধব সংস্কৃতিচর্চা নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন। তেমনটা না হলে সংস্কৃতিচর্চা শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নগরকেন্দ্রিক হয়ে থাকবে।’ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং নাটক ও চলচ্চিত্র নির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফ তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন : ‘সংস্কৃতি খাত আজীবনই অবহেলিত। আমরা বুঝতে পারছি যে, বর্তমান সময়টা সারাবিশ্বের জন্যই অর্থনৈতিকভাবে অস্থির। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মন্দার খবরও কারো অজানা নয়। এমন পরিস্থিতিতে আগের চেয়ে বড় বাজেট করাটাই অনেক কঠিন। কিন্তু সংস্কৃতি খাতে এবার যে পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই অপ্রতুল। তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলি, সংস্কৃতি খাতে অল্প বাজেট দেয়ার পরও সেটা সরকারের কাছে ফেরত পর্যন্ত গেছে! তার মানে হলো- টাকাগুলো কোন খাতে ব্যয় করা হবে, সেটার কোনো পরিকল্পনা নেই। শিল্পকলা একাডেমিতে বাজেট দেয়া হয়, তার ৮০ শতাংশ খরচ হয় স্টাফদের বেতন বাবদ। বাকিটা ক্রিয়েটিভ কাজে। আদতে উচিত ছিল উল্টো। ৮০ ভাগ ব্যয় হওয়ার কথা ক্রিয়েটিভ কাজে, বাদবাকিটা বেতনভাতায়।’

সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের এরূপ অসন্তুষ্টি থেকে একটি বিষয় বুঝতে কষ্ট হয় না যে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় শুধু আর্থিকভাবেই অসচ্ছল বা দরিদ্র নয়- চিন্তা-চেতনা ও মেধাগতভাবেও দরিদ্র! তাহলে কি আমরা ধরে নেব অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অযোগ্য ও অদক্ষ কর্মচারীদের ‘ডামপিং জোন’ এই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়! মাত্র তিন ডিজিটের বরাদ্দকৃত অর্থই সুষ্ঠু এবং সুন্দর পরিকল্পনার অভাবে যে মন্ত্রণালয় ব্যয় করতে অপারগ সেই মন্ত্রণালয়ের টিকে থাকাই তো বিস্ময়! এই মন্ত্রণালয়টি বারবার আমাদের স্বপ্ন ভাঙে, প্রত্যাশার বাহু গুটিয়ে জড়সড় করে দেয়। তবু সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নিদ্রাভঙ্গের আহ্বান জানাই। কেননা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে প্রজাতন্ত্রের সব মন্ত্রণালয়ের সব কর্মচারীকে সবার আগে স্মার্ট হতে হবে। একাধিকবার অর্থ ফেরতের ঘটনায় এই মন্ত্রণালয়কে কখনোই ‘স্মার্ট’ বলা যাবে না! উপরন্তু অদক্ষতার চূড়ান্ত রূপটিই যেন তারা বারবার প্রকাশ করছে! এদের নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা কীভাবে স্মার্ট বাংলাদেশের বৈতরণী পার হবেন তা ভাবলেও বিস্ময় জাগে! আমরা একাধিক প্রবন্ধে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে স্মার্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বরাদ্দ বাড়লেও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষও বেড়েছে। স্মার্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের অসন্তোষ দূর করে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিযাত্রী হয়ে উঠুক।

আহমেদ আমিনুল ইসলাম : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App