×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

সড়ক-মহাসড়কে দুর্ভোগ

ঈদে ঘরেফেরা স্বস্তিদায়ক হোক

Icon

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ঈদে ঘরেফেরা স্বস্তিদায়ক হোক

ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে যেসব সড়ক ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসবের সংস্কারকাজ কুরবানির ঈদের সাত দিন আগেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আগামী ১৭ জুন ঈদুল আজহা। বৃহস্পতিবার থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হবে। গণমাধ্যমে খবর আসছে, রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এখনো পুরোপুরি সংস্কার শেষ হয়নি। এমতাবস্থায় ঈদযাত্রায় ভোগান্তিতে পড়তে পারে মানুষ। এছাড়া সুষ্ঠুভাবে সড়ক ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং যানজটের ভোগান্তি বাড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঢাকা-সিলেটসহ যেসব মহাসড়কে প্রশস্তকরণের কাজ চলছে, সেসব সড়কে যানজটের আশঙ্কা রয়েই গেছে। ঈদযাত্রা শুরু হলে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ সড়কে ২৪ ঘণ্টা তৎপর না থাকলে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়ক-মহাসড়কের এই হাল। দ্রুত সংস্কার না করা হলে তা ঈদে যাতায়াতের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। গতকাল ভোরের কাগজের প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়কের অবকাঠামোগত অবস্থা ভালো থাকলেও বিভিন্ন মহাসড়কের প্রায় দেড় শতাধিক স্থান ভোগান্তির জন্য চিহ্নিত হয়ে আছে। সরু সড়ক, বিশৃঙ্খলভাবে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা, রাস্তার ওপর যাত্রী ওঠানামা করানো, ইউটার্ন, গরুর হাঁট, সড়কে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকা, টোলপ্লাজায় ধীরগতিসহ বিভিন্ন কারণে এসব এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। সাভারের আশুলিয়া, গাজীপুরের চন্দ্রা মোড়, জয়দেবপুর মোড়, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, ঢাকার হানিফ ফ্লাইওভার, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা মোড়, কাঁচপুর, নরসিংদীর মাধবদী, তারাবো, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কমপক্ষে ৮ স্থানে সবচেয়ে বেশি যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। সড়কগুলোর খারাপ অংশের কোথাও পুনর্নির্মাণ, কোথাও সংস্কার, কোথাও পিচ ঠিক করা আবার কোথাও ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট (ডিবিএইচ) করা জরুরি বলে মহাসড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (এইচডিএম) বিভাগের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এই ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়কে আবার ধাক্কা মেরেছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। সরকার ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ঈদের সময় ঢাকার প্রবেশ মুখে যানজট যেন না হয়, সে জন্য নজরদারি করা, ঈদের পরও মনিটরিং করলে দুর্ঘটনা কমবে। ঈদের সময় যানজট নিরসনে ১৫৫টি স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সব সিদ্ধান্ত কার্যকর করা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব। ঈদকে কেন্দ্র করে কেউ বাস, লঞ্চ কিংবা ট্রেনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে ঈদের সময় রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কারণে যান চলাচল বিঘিœত হওয়া, যানবাহন গন্তব্যে পৌঁছতে কয়েকগুণ সময় বেশি লাগা, যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হওয়াসহ নানারকম বিপদ-ভোগান্তির অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে। আমরা নিশ্চয় এমন অবস্থায় পুনরাবৃত্তি চাই না। অনতিবিলম্বে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ও রেমালে সড়কগুলো সংস্কার করে নিরাপদ যান চলাচল উপযোগী করতে হবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘেœর নামে জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সংস্কার কাজ করা হয়- যা প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজে আসে না। রাস্তাঘাটের সংস্কারে গাফিলতির কারণে কারো ঈদ আনন্দ যেন ভেস্তে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App