×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

কারাগার থেকে কারামুক্তি : বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা

Icon

ড. মিল্টন বিশ্বাস

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কারাগার থেকে কারামুক্তি : বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা

‘হ্যাঁ, যখন থেকে জ্ঞান হয়েছে, পারিপার্শ্বিক সব ধীরে ধীরে জানতে শিখেছি, কেবলই শুনেছি- আব্বা জেলে।’ (শেখ হাসিনা, অন্তরের রক্তক্ষরণ : একটি রাষ্ট্রের জন্ম, বঙ্গবন্ধু ও বিচার বিভাগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ২০২১) আজকের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যখন শিশু, তখন থেকে জেল বা কারাগার শব্দের সঙ্গে পরিচয়। তারপর বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় শব্দটি তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হয়ে উঠেছিল। অন্যদিকে জাতির পিতা ১৯৩৮ সালে মিথ্যা অভিযোগে প্রথম কারাবরণ করে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে লিখেছিলেন ‘এই আমার জীবনে প্রথম জেল।’ তখন তাঁর বয়স ১৮। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক জীবনের পরিসরে ৩০৫৩ দিন বিভিন্ন জেলখানায় সীমাহীন নির্যাতন, কষ্ট, অপমান, অবহেলা সহ্য করেছিলেন তিনি। কেবল ‘কারাগারের রোজনামচা’ (২০১৭) পাঠ করলে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা উত্থাপনের পর বারবার গ্রেপ্তার হন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হতো এবং সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারও করা হতো। কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে তিনি আবার অন্য জেলায় সভা করতেন। সে সময় ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মে পর্যন্ত ৩৫ দিনে ৩২টি শহরে বক্তৃতা দেন। ৯ মে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৯৬৬ সালের ৯ মে থেকে ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কালপর্বের কারাবন্দি জীবনে তাঁর সংসার, সন্তান ও বেগম মুজিবের কষ্ট ও অনিশ্চয়তার কথা লেখা আছে স্মৃতিকথা ও দিনলিপিতে। আইয়ুব-মোনায়েম চক্র সব সময়ই কোনো না কোনো মামলা দিয়ে তাকে নিগৃহীত করতে চেয়েছে কিন্তু প্রতিবার প্রতিটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার নাগপাশ ছিন্ন করে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে তিনি বেরিয়ে এসেছেন। ঠিক একইভাবে ২০০৮ সালের ১১ জুন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে হয়রানিমূলক মামলার রজ্জু ছিঁড়ে বেরিয়ে আসেন নীলাকাশের মুক্ত প্রান্তরে।

দুই.

মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি করা হলেও শেখ হাসিনার ২০০৭ সালের ৭ মে আমেরিকা থেকে প্রত্যাবর্তন ছিল আমাদের জন্য মঙ্গলকর। ওই বছর ১১ জানুয়ারির পর তার দেশে ফেরার ওপর বিধিনিষেধ জারি করে সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। কিন্তু তাকে রাজবন্দি করার পর গণমানুষ তার অনুপস্থিতি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিল; দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার চক্রান্ত স্পষ্ট হয়েছিল। তার সাবজেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উদ্বেগ, গ্রেপ্তারের সংবাদ শুনে দেশের বিভিন্ন স্থানে চারজনের মৃত্যুবরণ, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের উৎকণ্ঠা আপামর জনগোষ্ঠীকে বিহ্বল ও বিক্ষুব্ধ করে তোলে। পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী মানুষ শেখ হাসিনাকে বারবার যুদ্ধে যেতে হয়েছে। কারণ ‘বেদখল বাংলাদেশ, শৃঙ্খলিত গণতন্ত্র, মেঘে ঢাকা মুক্তির আকাশ... নির্বাসিত দেশপ্রেম, সততা লাঞ্ছিত।’ ২০০৭ সালে মুজিবদুহিতা কারাবন্দি হওয়ায় দুঃখী মানুষটির জন্য প্রকৃতি ও সাধারণ জনতা আর্তকণ্ঠে বলে উঠেছে ‘কেন বন্দি বঙ্গদুহিতা?’ নেত্রীর বন্দিদশায়-‘বিপন্ন স্বদেশ’- ‘মিশেছে প্রাণের ডাকে সেই কোটি কোটি চোখ/দেখে প্রিয় বাংলাদেশ, বিপন্ন স্বদেশ!’

অবশ্য সে সময় আদালতের চৌকাঠে শেখ হাসিনা ছিলেন সাহসী ও দৃঢ়চেতা; দেশ ও মানুষের জন্য উৎকণ্ঠিত; বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে সত্যকথা উচ্চারণে বড় বেশি সপ্রতিভ। আসলে ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক নাটকীয় ঘটনার জন্ম হয়েছে। সে সময় ‘দুদকে’র দৌড়ঝাঁপ, ‘মাইনাস টু’র কুশীলবদের উচ্চস্বর ও দাম্ভিকতা, বিচারকদের অসহায়ত্ব আর শেখ হাসিনার জন্য জনগণের বেদনাবোধ অন্যান্য দেশের মানুষকেও আলোড়িত করেছিল। শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য দেশ-বিদেশে যে জোরালো দাবি উঠেছিল তা ছিল অভূতপূর্ব। যদিও ‘কালো গাড়িওয়ালারা/গোটা দেশটাকেই কালো চাদরে ঢেকে দেয়/বন্দুকের কাছে সব শক্তি বধির হয়ে যায়।’ (এলিফ্যান্ট রোডে কালো গাড়িগুলো/আবুল আজাদ)

অন্যদিকে দলের সভাপতিকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানসহ অন্য নেতারা বিভিন্নভাবে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। শেখ হাসিনাকে মুক্ত করা না হলে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যাবে না বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। তার খাবারে বিষ মিশিয়ে স্লো পয়জনিংয়ের কারণে ওই সময় কারাগারের অভ্যন্তরে নেত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দেয়ারও দাবি উঠে বিভিন্ন মহল থেকে। শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও রাদওয়ান ববি বিদেশি আইনজীবীদের সহায়তায় মামলা লড়েন এবং নেত্রীর মুক্তির বিষয়ে জনমত গঠন করেন। আওয়ামী লীগের ক্রমাগত চাপ, আপসহীন মনোভাব ও অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ফলে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় লাভ করে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করা হয়। অবসান ঘটে বিএনপি-জামায়াত ও সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুঃশাসনের কাল। এ কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভার গৌরবান্বিত রাষ্ট্র, যার রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা, যিনি একটানা ১৫ বছর ৫ মাস ক্ষমতায় আসীন।

তিন.

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে খুন করার সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া দুই কন্যার সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস আমাদের সবারই জানা। শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে দুঃখের কষ্টিপাথরে সহিষ্ণুতার দীক্ষায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন ২০০৭ সালে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর। পঁচাত্তর থেকে পঁচানব্বই দীর্ঘ ২১ বছর পর সম্ভাবনার বাংলাদেশে তিনি হন প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। তারপর ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অমানিশার দুর্যোগে প্রাণ বাঁচানোর দুঃসহ স্মৃতি; অর্থাৎ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া জীবন নিয়ে আবার নির্যাতিত জনগণের জন্য রাতদিনের পরিশ্রম- কিন্তু অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর সময় হঠাৎ করে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারাগারে বন্দি হলেন; শুরু হলো আরেক জীবন। সেই জীবনের স্মৃতি আছে তার রচনায়, ‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ গ্রন্থে।

চার.

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল চাঁদাবাজির। অথচ ২০০১ সালের পর বিএনপি-জামায়াত জোটের ক্ষমতাকালে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের হলেও কখনো চাঁদাবাজির মামলা করা হয়নি। এ জন্য শেখ হাসিনার মনে হয়েছে, মামলাবাজ জোট সরকার থেকেও বড় আবিষ্কারক ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার জন্য তিনি আন্দোলন করেছিলেন। ৬৮ জন মানুষ জীবন দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনীর হাতে। সেই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। যে নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে। চারদলীয় জোটের ভোট কারচুপির নীলনকশা প্রতিহত করার জন্যই আন্দোলন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করে গণতন্ত্রকে সুসংহত করাও তার মূল টার্গেট ছিল। নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তিনি। তার ভাষায়- ‘আন্দোলন করে দাবি পূরণ করলাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্গঠন করলাম। যেই দ্রুত নির্বাচনের কথা বললাম, সেই আমি চাঁদাবাজ হয়ে গেলাম, দুর্নীতিবাজ হয়ে গেলাম। আমার স্থান হলো কারাগারে। পাঁচটি বছর চারদলীয় জোট তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে আমার ও আমার পরিবারের দুর্নীতির কোনো কিছু পায় কি না, পায়নি। পেয়েছে ফখরুদ্দীন সরকার।’

দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ শেখ হাসিনা জেলে থাকার কারণে তার সন্তান পুতুল-জয়ের পাশে সব সময় থাকতে পারেননি। এই বেদনা তিনি তুলে ধরেছেন নিজের লেখায়। রাজনীতির জন্য পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনা বঙ্গবন্ধুর লেখনীতেও রয়েছে। অনুরূপভাবে একজন বন্দি মা কতটা অসহায়, তার বর্ণনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা ২০০৭ সালের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে। তার একমাত্র কন্যা পুতুল মা হবেন; থাকেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মা হিসেবে মেয়ের কাছে থাকাটা খুব দরকার। যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেও যেতে দেয়া হয়নি। সেই সময়ের প্রশাসন আটকে দিয়েছিল তার বিদেশ ভ্রমণ।

‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ গ্রন্থে এভাবেই তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন কারান্তরালে যাপিত জীবনের স্মৃতিকথায়। তিনি ওই গ্রন্থে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের চুলচেরা ব্যবচ্ছেদ করেছেন। সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চাপে চাঁদাবাজির মামলাগুলো কীভাবে করা হয়েছিল তাও তিনি জানতেন। গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টাকে চিরতরে বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল যারা, তারা গোপনে ষড়যন্ত্র করে মানুষকে সামরিক শাসন উপহার দিতে চেয়েছিল। ২০০৭ সালে প্রথমে সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল ঠিকই কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া হয়। নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা করে- দুই বছর পর নির্বাচন হবে। সাধারণ মানুষ নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে। অথচ তখন নতুন নতুন দল গঠন করা হচ্ছে। ‘মাইনাস টু’ অনুসারে তৃতীয় শক্তির উত্থান প্রত্যাশা করছে শাসকগোষ্ঠী। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের সুদখোর, কালো টাকার মালিকরা টাকা সাদা করে রাজনীতির মাঠে নেমে পড়েছে। অন্যদিকে ‘দুদক’কে দিয়ে রাজনীতিবিদদের জনগণের কাছে বিতর্কিত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার, একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে সিনিয়র রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নয়টি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ছয়টি মোট ১৫টি মামলা করা হয়। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে ‘দুদক’কে ব্যবহার করে। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর বিদেশি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে অবৈধভাবে গ্যাস উত্তোলনের সুযোগ দেয়ার অভিযোগ এনে শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে ‘দুদক’। ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার দায় থেকে অব্যাহতির জন্য শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে হাইকোর্টে বাতিল আবেদন করলে ৭ জুলাই হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন। এই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত মামলাটি বাতিল ঘোষণা করেন। এভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা সব মামলার পরিসমাপ্তি ঘটে। কারণ তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো উদঘাটিত/প্রমাণ হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মামলাগুলো করা হয়েছিল। এ জন্য হাইকোর্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিধিমালার অসঙ্গতি দূর করতে তা সংশোধনেরও নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

পাঁচ.

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার হওয়ার সময় শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক একটি চিঠি লিখেন। চিঠিতে অভিব্যক্ত শেখ হাসিনার সাহসী ও প্রজ্ঞামণ্ডিত উচ্চারণগুলো তখনকার নেতাকর্মীরা অনুসরণ করেছিলেন। কারণ গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সারাজীবন সংগ্রাম করা একজন কর্মঠ নেতার জন্যই অন্যরা ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিল। আর জনগণের দাবির কারণেই ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি মুক্ত হন।

১১ জুনের প্রভাবে ও তার সৎ নেতৃত্বের কারণেই নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আজ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অতীতের জেল-জুলুম, হত্যার প্রচেষ্টা এবং হুমকি আর বর্তমানের অপপ্রচারের মধ্যেও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে ২০৪১ সালেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে- এটা নিশ্চিত। ২০২৪ সালে তার কারামুক্তি দিবস উন্নয়ন-বিপ্লবের বিস্ময়কর জয়যাত্রায় পরিপূর্ণ। কবি কামাল চৌধুরী লিখেছেন-

‘কাণ্ডারি তুমি সাহস এবং শক্তি

সারা পৃথিবীতে বাংলার জয়গান

মুজিবকন্যা তুমি আজ বাতিঘর

তুমি বাঙালির অনিঃশেষ সম্মান।’ (বাঙালির সম্মান/কামাল চৌধুরী)

ড. মিল্টন বিশ্বাস : অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App