×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

শিক্ষাব্যবস্থা স্মার্ট করতে হবে প্রথাগত চিন্তার বাইরে আসতে হবে

Icon

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষাব্যবস্থা স্মার্ট করতে হবে প্রথাগত চিন্তার বাইরে আসতে হবে

আমাদের দেশের শিক্ষা নিয়ে সমাজের সর্বস্তরেই এক ধরনের চিন্তা ও দুশ্চিন্তা আছে। সব চিন্তাই এর উন্নতির লক্ষ্যে এ কথাও বলা যায়। তবে এসব চিন্তার ব্যবধান ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অনেক বেশি দীর্ঘ। আবার যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনও সহজসাধ্য নয়। সমাজে বিদ্যমান ত্রিমুখী শিক্ষার চাপ ও তাপ সহ্য ও সমন্বয় করে একটি সুনির্দিষ্ট ঐকমত্যে পৌঁছানোও কঠিন। ঐকমত্যের অভাবের কারণেই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে দীর্ঘদিনের জড়তা ও জাঢ্য জেঁকে বসে আছে। তাই পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশ থেকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সর্বস্তরের উদারনৈতিক, মানবিক এবং কল্যাণকর ভবিষ্যৎ-মুখী মনোযোগ নেই। না সাধারণের মধ্যে এ মনোযোগ লক্ষ করা যায় না সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে এ মনোযোগ লক্ষ করা যায়! আমরা সবাই প্রথাগতভাবে স্ব-স্ব চিন্তা ও দুশ্চিন্তার চর্চাই করে যাচ্ছি নিয়মিত, কার্যকর কিছুই করছি না কেউ।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে মাধ্যমিক স্তরে সরকারি বিনিয়োগ সবচেয়ে কম- সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে এরূপ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটিতে ‘মাধ্যমিক স্তর’ শব্দবন্ধের ব্যবহার না থাকলে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রটিই ফুটে উঠত। গুগল সার্চের মাধ্যমে যে কেউ দেখতে পারেন দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই শিক্ষকদের বেতন কাঠামোসহ অন্যান্য সুবিধাদি সর্বনিম্নে! এখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবয়বগুলোও নানা দিক দিয়েই দৈন্যদশাক্রান্ত! না আছে ভালো শ্রেণিকক্ষ, না আছে মানসম্মত ব্যবহারিক কক্ষ, না আছে লাইব্রেরি কিংবা উন্মুক্ত খেলার মাঠ! আবার ব্যবস্থাপনার সংকটসহ অনেক ক্ষেত্রে ভালো শিক্ষকেরও তীব্র সংকট প্রতিষ্ঠানকে জবুথবু করে রেখেছে! শিক্ষা খাতে বাজেটের স্বল্পতা আর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর তুলনায় শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত চাপে প্রতিষ্ঠানগুলোয় ত্রাহি অবস্থা বিরাজ করছে! প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যে কোনো দেশের শিক্ষকদের চেয়ে আমাদের দেশের শিক্ষকদের জন্য সরকারের বিনিয়োগও কম! শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার মতো শিক্ষক সংকটও কম নয়।

শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগে উদাসীনতার কারণে প্রায় সর্বত্রই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবয়বে যেমন দারিদ্র্যের লক্ষণ স্পষ্ট তেমনি শিক্ষকদের বেতন কাঠামো প্রান্তিক পর্যায়ের হওয়ায় শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের উৎসাহও শূন্যের কোটায়। মনে রাখতে হবে, বর্তমানকালের তরুণ প্রজন্ম তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে জানাশোনায় এবং চিন্তা-চেতনায় যে কোনো প্রজন্মের চেয়ে বেশি প্রাগ্রসর এবং চৌকস বুদ্ধিসম্পন্নও। এদের শিক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে চাইলে আগ্রহীদেরও অনুরূপ মেধাবী হতে হবে, সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও থাকতে হবে। ‘জেনারেশন গ্যাপ’ থাকলে শিক্ষাদান ও শিক্ষা গ্রহণকারীর মধ্যে ছন্দপতন ঘটবে, ফলে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। এই ব্যর্থতার জন্যই অভিভাবকদের আফসোস করতে হয়, আফসোস করতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের উৎসাহী করার লক্ষ্যে শিক্ষকদের বেতন কাঠামোকে আকর্ষণীয় করে তোলার অবিকল্প প্রস্তাব আমাদের। আমাদের প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারলে শিক্ষা ক্ষেত্রে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। অর্থাৎ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা হওয়া উচিত বর্তমানের একেবারে বিপরীতমুখা। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। মেধা তালিকায় তার পরের সারিতে থাকা শিক্ষার্থীরা কলেজের শিক্ষক হন এবং বলার অপেক্ষা রাখে না একেবারে শেষ সারির শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক বা প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক হয়ে থাকেন। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হলো গ্রামগঞ্জের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ফলাফলের চিত্র অত্যধিক করুণ! শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে ইচ্ছুকদের ওপরে বর্ণিত ক্রমটিকে একেবারে উল্টিয়ে দিতে পারলে শিক্ষা ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত বিপ্লব ঘটানো খুবই সহজ। অনেকে বলবেন এটা আকাশকুসুম কল্পনা মাত্র! অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা কেন করবেন? আমরা যদি যথাযথ সম্মান, মর্যাদা এবং সম্মানী প্রদান করি তবে অবশ্যই ওপরের বক্তব্যকে আকাশকুসুম কল্পনা মনে হবে না। মানসিকভাবেও আমাদের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে এক প্রকার জড়াগ্রস্ততা আছে, তাই বিকল্প চিন্তা করতে গেলেই তা আকাশকুসুম চিন্তা বলে তাচ্ছিল্য করি! প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা ক্ষেত্রে ততটা আর্থিক বিনিয়োগে আমাদের আদৌ কোনো সদিচ্ছা নেই, আগ্রহও নেই! খুঁড়িয়ে চলতেই আমরা বেশি পছন্দ করি। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে একদিনের পথ তিন মাসে অতিক্রম করব- এতেই আমাদের পরম আনন্দ, এতেই আমাদের পরম পরিতুষ্টি! কিন্তু এতে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ কতটা সম্ভব?

আমরা শিক্ষাঙ্গনের অবকাঠামোকে যেমন দারিদ্র্যের ছাপ থেকে মুক্ত করতে চাই না তেমনি শিক্ষকদেরও উন্নত জীবন দিতে চাই না! কারণ আমাদের স্মৃতির মানসপটে শিক্ষাঙ্গন হিসেবে প্রায়ই মূর্ত হয় প্রাচীন ও মধ্যযুগের তপোবন, টোল বা চতুষ্পাঠী। অনুরূপভাবে শিক্ষক সম্পর্কেও প্রাচীনকালের বর্ণিত তপোবন, টোল বা চতুষ্পাঠীর শিক্ষক-পণ্ডিতদের প্রতিচ্ছবিটিই ভাসে। এটি একটি সামাজিক প্রবণতা। আমরা ধরেই নিই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষক একরকম হলেই হয়! এইরূপ সামাজিক মানস দ্বারাই আমরা ব্যক্তিগত, প্রতিষ্ঠানগত এমনকি রাষ্ট্রগতভাবে সবাই আচ্ছন্ন ও আবিষ্ট। এজন্যই সব আমলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয় তাদের সরকারই পূর্বের সব সরকারের চেয়ে শিক্ষা ও শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ! বর্তমান সরকারও এরূপ প্রচারেই বেশি উৎসাহী। কার্যত পার্শ্ববর্তী যে কোনো রাষ্ট্রের চেয়ে এ দেশের শিক্ষকরা অনেক পিছিয়ে। শুধু তাই নয়- অভ্যন্তরীণ অন্যান্য পেশাজীবীর চেয়েও পিছিয়ে।

সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক নানা তর্ক-বিতর্কে আমরা পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছি বলে গর্ব করি। কিন্তু বাংলাদেশের একজন শিক্ষক পাকিস্তানের সমপর্যায়ের একজন শিক্ষকের অর্ধেক বেতনও পান না! অবিশ্বাসীরা গুগল সার্চ করে প্রতিপাদ্য বক্তব্যের বাস্তবতা যাচাই করতে পারেন। এ দেশের কোনো স্তরের শিক্ষকই তাদের অবস্থান নিয়ে ভারতের শিক্ষকদের সঙ্গেও তুলনা করতে পারবেন না, এমনকি দেউলিয়াগ্রস্ত শ্রীলঙ্কার শিক্ষকদের সঙ্গেও না। শ্রীলঙ্কার শিক্ষার হারের কথা সবাই জানলেও শিক্ষার পেছনে সেখানকার বিনিয়োগের খবরটি অনেকেই রাখি না- রাখলেও বলতে চাই না! বলতে চাই না শ্রীলঙ্কার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন সম্পর্কেও!

এ পর্যায়ে ভিন্ন প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মতিগতি নিয়ে দুয়েকটি কথা বলা আবশ্যক মনে করি। আমাদের দেশে খুব কম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই আছে যেখানে পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ বিদ্যমান। স্কুল-কলেজের কথা ধর্তব্যের মধ্যে না এনে উচ্চশিক্ষার প্রসঙ্গেই বলা যাক। কিছুসংখ্যক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানের অবকাঠামোগত ব্যবস্থাকে করুণ বললেও কম বলা হবে! শ্রেণিকক্ষ, লেকচার থিয়েটার, ব্যবহারিক কক্ষ, গবেষণাগার এমনকি স্বচ্ছন্দে পরীক্ষা গ্রহণের মতোও পর্যাপ্ত স্থান নেই। নিজের প্রতিষ্ঠান ছাড়াও কর্মসূত্রে যেসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে সর্বত্রই একই অভাব-অনটনের চিত্র প্রকট! অর্থাৎ অবকাঠামোগত পর্যাপ্ত একাডেমিক পরিসর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মতিগতির প্রসঙ্গ এজন্যই উল্লেখ করা যে, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ না থাকলেও প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই একের পর এক সুদৃশ্য ও সুরম্য (কোথাও কোথাও ১০ তলা বিশিষ্ট) ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হচ্ছে! একাডেমিক ভবনের স্বল্পতার বিপরীতে ছাত্রাবাস নির্মাণের আগ্রহ দেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানচর্চার সূতিকাগার বলার চেয়ে আবাসন প্রকল্পও বলা যায়! বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য শ্রেণিকক্ষ, লেকচার থিয়েটার, ব্যবহারিক কক্ষ, গবেষণাগার প্রভৃতি নির্মাণকে উপেক্ষা করে কেবল আবাসিক হল নির্মাণে কেন বেশি উৎসাহী তা বোধগম্য নয়।

প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ, লেকচার থিয়েটার, ব্যবহারিক কক্ষ এবং গবেষণাগারে জ্ঞানচর্চার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরম্য আবাসিক ভবনে বসবাসের আয়োজনটার প্রতিই যেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একমাত্র আরাধ্য! জ্ঞানচর্চার চেয়ে যেন আড়ম্বর ও আয়োজনই মুখ্য! এসব আড়ম্বর-আয়োজন দেখে মাঝেমধ্যে বিমর্ষ বোধ করি। শ্রেণিকক্ষ, লেকচার থিয়েটার, ব্যবহারিক কক্ষ ও গবেষণাগারহীন শিক্ষাদানের মাধ্যমে আমরা প্রতি বছরই হাজার হাজার অদক্ষ স্নাতককে লক্ষ্যহীন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ছাড়ছি। এসব স্নাতকদের আমরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সুরম্য অট্টালিকায় থাকতে দিয়েছি বটে; কিন্তু শ্রেণিকক্ষ বা গবেষণাগারে জ্ঞানচর্চার কতটুকু সুযোগ দিতে পেরেছি তা ভাবলে রবীন্দ্রনাথের ‘তোতা কাহিনি’ গল্পের কথাই মনে পড়ে! সেখানে তোতা পাখিকে শিক্ষা দেয়ার জন্য কত বিচিত্র আয়োজন চলে, পাখিটির জন্য বানানো হয় সুদৃশ্য খাঁচা! তোতা পাখি সুদৃশ্য সোনার খাঁচায় থাকে বটে কিন্তু জীবনের অনুকূল শিক্ষা সে পায় না। আমরাও সেরূপ খাঁচাই নির্মাণ করে চলেছি কি না সে প্রশ্নও মনে জাগে! এতকাল আমরা জীবনমুখী শিক্ষার কথা শুনে এসেছিলাম। এখন আর তা শোনা যায় না। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলছে শিক্ষাকে কর্মমুখী করার অভিযান।

বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থা ত্রিমুখী- বাংলা, ইংরেজি ও আরবি। তাই ত্রিমুখী স্বভাবেই গঠিত হচ্ছে আমাদের সমাজমানস। একদল ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দ্রুত বিদেশে আত্মপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করার আকাক্সক্ষায় চঞ্চল। আরেক দল কত দ্রুত দেশের নাম বদলিয়ে ধর্মভিত্তিক শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে সেই চেষ্টায় তৎপর! বাকি দলটির অবস্থান মধ্যপন্থি। নানা প্রকার ঝড়ঝঞ্ঝা, বিপদ-আপদ মোকাবিলা করে কোনো রকমে টিকে থাকার সংগ্রামে এরা তৎপর! আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের বলা যেতে পারে মধ্যপন্থিদেরই প্রতিনিধি। তারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিটাকে সম্মান করে তারই ঝাণ্ডা ধরে রাখার চেষ্টায় মগ্ন। তাই শ্রেণিকক্ষ, লেকচার থিয়েটার, ব্যবহারিক কক্ষ ও গবেষণাগারের সুবিধা না পেলেও কোনোরকমে অর্জিত ডিগ্রিটার প্রতি মমতায় উপরোক্ত ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েও মধ্যবিত্তের স্বভাব মতো সবকিছুই নীরবে সয়ে যান। দক্ষ বা অদক্ষ যাই হোক- শিক্ষাজীবন শেষে অন্তত সার্টিফিকেটটা যাতে নিয়ে যেতে পারেন এই তাদের সান্ত¡না! এরূপ শিক্ষাদানে শিক্ষক হিসেবে দায় সারা যায়; কিন্তু শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানে কতটুকু দক্ষ, স্মার্ট বা চৌকসরূপে গড়ে তোলা যায় তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

বর্তমান সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে যে অভিযানে অবতীর্ণ সেখানে হাজার হাজার দক্ষ কর্মীর ভূমিকা নিশ্চিত সম্ভব হলে কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছুতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হতো না। জীবদ্দশায়ই আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সাফল্য উদযাপনের গর্বিত অংশীদার হতে পারতাম। শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ও চৌকসরূপে গড়ে তুলতে হলে প্রথাগত চিন্তার বাইরে এসে শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকেও স্মার্ট করতে হবে।

আহমেদ আমিনুল ইসলাম : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App