×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

ট্রাম্পের পর এবার বাইডেন পুত্র

Icon

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাম্পের পর এবার বাইডেন পুত্র

ট্রাম্পের পর এবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন পুত্র হান্টার বাইডেন ফৌজদারি অপরাধে বিচারের সম্মুখীন। বিচার শুরু হয়েছে সোমবার ডেলওয়ারে একটি আদালতে, বাইডেনের নির্বাচনী সদর দপ্তরের অদূরে। ইতোমধ্যে ১২ জন জুরি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে প্রাথমিক শুনানি শেষ চলছে। হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে বন্দুক ক্রয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে হান্টার বাইডেন পুনরায় ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার মামলায় বিচারের সম্মুখীন হবেন, তিনি ক’বছর ট্যাক্স দেননি।

বন্দুক ক্রয় মামলায় গত জুলাই মাসে একটি সমঝোতা হয়েছিল, তাতে জেলে যাওয়ার বিধান ছিল না, বিচারক তা গ্রহণ করেননি। এ মামলায় হান্টার বাইডেনের ২৫ বছর জেল, ৭৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। তবে যেহেতু এটি হান্টার বাইডেনের প্রথম অপরাধ, দোষী সাব্যস্ত হলে তার জেল নাও হতে পারে। এই মামলার বিচারক মেরিলিন নরিকা এবং হান্টার বাইডেন সোমবার তার সামনে হাজিরা দিয়েছেন। বিচার ১-২ সপ্তাহে শেষ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে ফেডারেল জুরি হান্টার বাইডেনকে বন্দুক ক্রয়ের সঙ্গে তিনটি ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত করে- (১) বন্দুক বিক্রেতাকে মিথ্যা বলা, (২) বন্দুক ক্রয়ের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া ও (৩) ১২-২৩ অক্টোবর ২০১৮-মোট ১১ দিন একটি অবৈধ অস্ত্র নিজের কাছে রাখা। আইনজ্ঞরা বলছেন, বিচার চলাকালীন সময়েও আর একটি সমঝোতায় পৌঁছা সম্ভব। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় হান্টার বাইডেনের প্রথমা স্ত্রী ক্যাথলিন বাহলেকে সাক্ষী হিসেবে ডাকবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জন্য এ মামলা একটি মাথাব্যথা। যদিও তিনি অভিযুক্ত নন, অভিযুক্ত তার পুত্র, তবু নির্বাচনী বছরে এ মামলা তাকে বিব্রত করছে। হান্টারের সাবেক স্ত্রী হয়তো পরিবারের অনেক তথ্য জানিয়ে দেবেন, যা অস্বস্তিকর হতে পারে। সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে হান্টারের দেন-পাওনা নিয়ে মামলা চলছে দীর্ঘদিন। হান্টার বাইডেনের বিধবা ভ্রাতৃবধূ হ্যালি বাইডেনকেও হয়তো সাক্ষ্য হিসেবে ডাকা হবে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন শিবিরের ভয় যদি ‘কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়ে’? প্রেসিডেন্ট বাইডেন সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট, আমি পিতা’। সঙ্গে যোগ দেন, আমি ও জিল আমাদের পুত্রকে ভালোবাসি এবং হান্টারের জন্য আমরা গর্বিত। সোমবার সারাদিন ফার্স্টলেডি জিল বাইডেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার আদালতে হাজির ছিলেন জিল বাইডেন, কন্যা এশলে বাইডেন। হান্টারের পতœী মেলিসা কোহেন বাইডেনও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ওপেনিং স্টেটমেন্টে সরকারি কৌঁসুলি বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন, হান্টার বাইডেনের জন্য একই আইন। কৌঁসুলি ডেরেক হাইন্স অভিযুক্ত হান্টার বাইডেনকে উদ্দেশ করে বলেন, মাদকাসক্তি হয়তো চয়েস নয়, কিন্তু বন্দুক কিনতে মিথ্যা বলা একটি চয়েস। হান্টার বাইডেনের অ্যাটর্নি আবে লোয়েল তখন বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তি সচরাচর তাদের নেশা নিয়ে মিথ্যা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ঘণ্টা দেড়েক ওপেনিং স্টেটমেন্টের পর সাক্ষী ডাকা শুরু হয়। হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় ৫ বছর আগে ২০২০-এর নির্বাচনের পূর্বে। হান্টার বাইডেন তার বাবা ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন কন্সালটেনসিং ও লবিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইউক্রেন ও চীনের সঙ্গে ব্যবসায় তিনি তার পিতার ভাবমূর্তি কাজে লাগান। বিজনেস আলোচনায় তিনি কখনো-সখনো অন্যদের শুনিয়ে তার পিতার সঙ্গে স্পিকারফোনে কথা বলতেন। বাইডেন প্রেসিডেন্ট হলে পরেও তদন্ত চলছিল, কিন্তু বিচার বিভাগ বন্দুক ক্রয় ও ট্যাক্স ফাঁকি নিয়ে মামলা করেনি। রিপাবলিকানরা হান্টার বাইডেনের ব্যবসার সঙ্গে বাইডেনের ইম্পিচমেন্ট তদন্ত যুক্ত করতে চাইলেও প্রমাণের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। তবে বন্দুক ক্রয়ের এ মামলায় হান্টার বাইডেনের দোষী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে আইনজ্ঞরা মন্তব্য করছেন।

শিতাংশু গুহ : কলাম লেখক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App