×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বাস্তবতা

Icon

ড. মো. মোরশেদুল আলম

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বাস্তবতা

১৯৭৩ সালে জাতিসংঘ ৫ জুনকে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এটি বর্তমানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলোর পরিবেশগত মাত্রার অগ্রগতি প্রচারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনইপি) নেতৃত্বে ১৫০টিরও বেশি দেশ প্রতি বছর বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। বিশ্বজুড়ে বড় বড় করপোরেশন, বেসরকারি সংস্থা, সম্প্রদায়, সরকার পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে একই ব্যানারে একত্রিত হয়। ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রগুলোর পরিবেশ পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজিত হওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়- যা বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ভৌগোলিক সমস্যার সৃষ্টি করে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংকটের জন্ম দেয়। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও তার কুপ্রভাব যেহেতু অতিজাতীয়, সর্বব্যাপী এবং আন্তঃপ্রজন্ম, তাই প্রতিটি জাতিরাষ্ট্র এটিকে শুধু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার না করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের শান্তি ও নিরাপত্তাজনিত বিষয় হিসেবে গণ্য করার পক্ষপাতী। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আজ বিশ্বজুড়ে অ-প্রথাগত নিরাপত্তা সংকটের সৃষ্টি করেছে। এখন পর্যন্ত পৃথিবী ছাড়া আর কোনো গ্রহই প্রাণীদের বসবাসের জন্য উপযোগী নয়। তাপমাত্রা বিবেচনায় এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রতীয়মান। সূর্যের দিক থেকে কাছাকাছি দূরত্ব বিবেচনায় পৃথিবীর আগের গ্রহটি হচ্ছে শুক্র এবং পরবর্তীটি হচ্ছে মঙ্গল। এই ৩টি গ্রহের তাপমাত্রা হচ্ছে শুক্র প্রায় ৫০০ ডিগ্রি সে., পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ১৫ ডিগ্রি সে. এবং মঙ্গল গ্রহের তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সে.। এভাবে আর সবক’টি গ্রহের তাপমাত্রাই যথাক্রমে বাড়তে অথবা কমতে থাকে। সুতরাং সৌরজগতে পৃথিবীর তাপমাত্রাই শুধু প্রাণী বসবাসের উপযোগী। এমনকি প্রাণ ধারণের জন্য অন্য সব প্রয়োজনীয় উপাদানও আর কোনো গ্রহে নেই। আবার এই পৃথিবীতে আমাদের পরস্পরের মাঝে যোগসূত্রও একই সূত্রে বাঁধা। এ ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পরিবেশবিজ্ঞানে বিভিন্ন তত্ত্ব ও সূত্রের অবতারণা করা হয়েছে। ‘এনভায়রনমেন্টাল ইউনিটি’ ধারণাটিতে বলা হয়েছে, সমগ্র পৃথিবী একটি ‘কন্টিনিউয়াম’ বা ‘একক সত্তা’। আবার ব্রিটিশ পরিবেশবিদ জেমস লাভলক গ্রিক দেবী ‘গায়া’-এর নাম অনুসারে আরেকটি তত্ত্ব প্রদান করেন, যা ‘গায়া হাইপোথিসিস’ নামে পরিচিত। তিনি আরো একধাপ এগিয়ে বলেন, সমগ্র পৃথিবী একটি একক জীবন্ত সত্তা। বনগুলো এর ফুসফুসসদৃশ কিংবা নদীগুলো এর ধমনি, শিরা-উপশিরা ইত্যাদি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় ২৫ শতাংশ মৃত্যুর কারণ পরিবেশগত। তাছাড়া পরিবেশ দূষণের ফলে মানুষ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যাও বটে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশ দূষণের ফলে দরিদ্র নারী ও শিশুরা ব্যাপকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে। কারণ তারা বেশিরভাগই দূষিত এলাকায় বসবাস করেন, যেখানে সিসা দূষণেরও ঝুঁকি রয়েছে। ফলে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বিকাশে বাধাগ্রস্ত হয় এবং স্নায়বিক ক্ষতি হতে পারে। দূষিত এলাকায় বসবাসের ফলে গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত এবং মৃত শিশু প্রসবের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান লরেন্স বের্কলি ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি বলছে, রাসায়নিক মিশ্রণ আছে, এমন দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকলে চোখ, নাক বা গলার সংক্রমণ হতে পারে। সেই সঙ্গে ফুসফুসের বিভিন্ন জটিলতা, যেমন নিউমোনিয়া, অ্যাজমা এবং নানাবিধ অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন বায়ুদূষণের মধ্যে থাকলে বা এমন পরিবেশে কাজ করলে ফুসফুসের ক্যান্সার এবং হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। এমনকি মস্তিষ্ক, লিভার ও কিডনির দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাও তৈরি হতে পারে। খাবার থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনীসহ প্রতিটি পণ্য সংরক্ষণে ব্যবহার হয় প্লাস্টিক, যা খাদ্যচক্রের মাধ্যমে আবার মানব শরীরে প্রবেশ করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নদীতে যেমন মাছ বা জলজ প্রাণী থাকে, তেমনি বিভিন্ন ভেষজ তৈরি হয়। দূষণ সেসব প্রাণীর ভেতরও ছড়িয়ে পড়ে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এসব ক্ষতিকর পদার্থ মানব শরীরে প্রবেশ করে, যার ফলে ত্রæটিপূর্ণ জন্ম বা ক্যান্সার হতে পারে। এমনকি খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানব শরীরে ঢুকছে সিসা, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ। খাদ্য দূষণের কারণে অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ যেমন : লিভার, পাকস্থলি ও কিডনির কার্যকারিতা হারাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব নয়েজ কন্ট্রোল বলছে, শব্দ দূষণের কারণে হাইপার টেনশন, আলসার, হৃদরোগ ও স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে। এমনকি অতিরিক্ত শব্দের পরিবেশে থাকলে শিশুর জন্মগত ত্রæটি তৈরি হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবেশ দূষণের কারণে বাংলাদেশের বছরে ৬৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হয় যা মোট জাতীয় উৎপাদনের প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। ২০২২ সালের জলবায়ু সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব মি. অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছিলেন, আমরাই নিজেদের কবর খুঁড়ছি এবং প্রকৃতিকে একটা টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করছি। কাজেই প্রকৃতিকে টয়লেট হিসেবে ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং এই গ্রহটিকে বাঁচিয়ে রাখা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করা সবার জন্যই একান্ত বাধ্যবাধকতা হয়ে দেখা দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রত্যাশিত ভোক্তার সংখ্যা হবে ৫.৬ বিলিয়ন। বিশ্বের মোট সম্পদের অতিরিক্ত ৭০ শতাংশ বর্তমানে অতিরিক্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতি বছর ডাম্প করা বর্জ্যরে পরিমাণ ২.১২ বিলিয়ন টন। প্রতি বছর উৎপাদিত ই-বর্জ্যরে পরিমাণ ৫০ মিলিয়ন টন। বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত রাসায়নিক সিন্থেটিক পণ্যের বাজার মূল্য ৭.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের সব জনসংখ্যার জন্য খাদ্যের জোগান দেয়া কঠিন হয়ে যাবে। ২০৭০ সাল নাগাদ প্রবাল প্রাচীরগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃতির ওপর অতিরিক্ত অত্যাচারের ফলে আমরা ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করছি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) তাদের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এখনই কমানো না গেলে শিগগিরই বিশ্ববাসীকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

পৃথিবী মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে। মাটির ক্ষয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। সেচ দিতে হয় এমন জমির পরিমাণ বাড়ছে। যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে সাব সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। ব্যাপক হারে গাছ কাটার কারণেও মাটির ওপরে চাপ তৈরি করছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন মৌসুমের ফসলের পরিমাণ কমছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০৬০ সালের মধ্যে ভারতে চাল উৎপাদন ১২ শতাংশ কমতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মূল কারণ হিসেবে পরিবেশের কথাই বলছেন। গোটা এশিয়ার পরিবেশ বদলে যাওয়ায় ভিয়েতনাম, লাওস, বাংলাদেশ, চীনের মতো দেশের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। উৎপাদন কমে যাওয়া, রোগের প্রাদুর্ভাব, পরজীবীর উৎপাতে ফসলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে। এর ফলে ফসলের উৎপাদন কম হবে। শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির পরিমাণ বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ফসলে প্রোটিন, পুষ্টি, ভিটামিন বি-এর মতো উপাদান কমছে। এশিয়ার ৪৮টি দেশের মধ্যে বর্তমানে ৩৮টি দেশে খরার প্রভাব রয়েছে। ভারতে গত কয়েক দশকে খরার পরিমাণ অনেক বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর ক্রমাগত ও দ্রুত পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সময়ের সঙ্গে চরম ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করছে। শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; ফসল ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি, জানমালের নিরাপত্তাসহ বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে। তাছাড়া জলবায়ু অভিবাসী বা পরিবেশ শরণার্থীদের বিষয়টি সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। সম্প্রতি কানাডায় ঘটে গেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভয়াবহ তাপপবাহ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘটে যাওয়া বন্যাও ছিল নজিরবিহীন। জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ অতিবৃষ্টি হয়েছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা। বন্যায় প্লাবিত হয়েছে নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়ামসহ কয়েকটি দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, উত্তর আমেরিকার কিছু অঞ্চল, সাইবেরিয়া, ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলের দাবানল বেড়েছে। বিশ্বের ১৩৪টি দেশ এখন দাবানলের হুমকির মুখে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবল চাপে নগরায়ণের জন্য দেশের সর্বত্র নদী-খাল-বিলসহ জলাধারগুলো ক্রমেই ভরাট করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক বনাঞ্চলগুলোও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। জীববৈচিত্র্যেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। পরিবেশের জন্য এটি একটি বড় হুমকি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এখন বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমান। বিস্তীর্ণ ভূমি পানিতে তলিয়ে যাওয়াসহ, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা কিংবা বন্যা ও খরার প্রকোপ বৃদ্ধি- প্রভৃতি ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। পরিবর্তিত পরিবেশে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও তথ্যপ্রযুক্তি অবলম্বনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব দ্রুত মোকাবিলা করতে হবে। পরিকল্পিত শিল্পায়নের লক্ষ্যে সরকার ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ’ গঠনের মাধ্যমে ১০০টি শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছে। দূষণ যাতে সর্বত্র ছড়িয়ে না পড়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। শুধু বাহ্যিক অবকাঠামো নয়; প্রকৃতি, মানুষ এবং পরিবেশের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী, তথা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হোক আগামী শতাব্দীর মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে বলেন, বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯-এর প্রভাব কাটিয়ে উঠে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০’ অর্জনে সরকার প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া সমুদ্র প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণরোধ, সমুদ্রসম্পদ আহরণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে ব্লু ইকোনমি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সরকার এরই মধ্যে জাতিসংঘের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলার অংশ হিসেবে ‘আপডেটেড ন্যাশনালিটি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন’ (এনডিসি) ও জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জলবায়ু পরিবর্তন থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য ‘মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান’ প্রস্তুত করা হয়েছে; যা বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিপথকে জলবায়ুর বিপদাপন্নতা থেকে জলবায়ু-সহিষ্ণুতা এবং তা থেকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

ড. মো. মোরশেদুল আলম : শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App