×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

নিমতলী ট্র্যাজেডির ১৪ বছর

কেমিক্যাল কারখানা সরাতে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 কেমিক্যাল কারখানা সরাতে  সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে

নিমতলী ট্র্যাজেডির ১৪ বছর পূর্ণ হলো গতকাল। ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীতে কেমিক্যাল বিস্ফোরণে অঙ্গার হয়ে মারা যান ১২৪ জন। আহত হয়েছিলেন দুই শতাধিক মানুষ। ১৪ বছর আগে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত এ ঘটনায় কাউকে দোষী করা যায়নি। শনাক্তই করা যায়নি ওই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির জন্য দায়ী কারা। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের না হওয়ায় দায়ীদের বিচারের বিষয়টি আড়ালেই থেকে গেছে। নিমতলী ট্র্যাজেডির পর টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল রাজধানী থেকে রাসায়নিকের গুদাম-কারখানা সরিয়ে দেয়ার। গঠন করা হয় দুটি কমিটিও। সেই কমিটি কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে জায়গা ঠিক করার সুপারিশ করে। একই সঙ্গে উচ্চ মাত্রার বিপজ্জনক পাঁচ শতাধিক রাসায়নিকের তালিকা করে শিল্প মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি আজো। এভাবে আর কত প্রাণ গেলে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা থেকে দাহ্য ও রাসায়নিক কারখানা এবং গুদামগুলো সরানোর উদ্যোগ বাস্তবায়ন হবে? নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে যেসব সুপারিশ করেছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ঢাকার রাসায়নিকের কারখানা আর গুদামগুলো সরিয়ে নেয়া। ২০১০ সালের ১৫ জুন ওই কমিটির প্রতিবেদনে যে ১৭টি সুপারিশ করা হয়েছিল কিছু কিছু বাস্তবায়ন হলেও আসল কাজটিই করা সম্ভব হয়নি গত ১৪ বছরে। ঢাকাবাসীর এখন একটা প্রশ্ন- আর কত মানুষ মারা গেলে পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গোডাউন সরবে? ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির জন্য কেমিক্যালের গুদামগুলোকে দায়ী করা হয়। এছাড়া ২০১৯ সালে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ৭০ জন নিহত হন। কেমিক্যালের গোডাউন, প্লাস্টিক দ্রব্যসহ দাহ্য পদার্থের বিশাল ভাণ্ডার হয়ে রয়েছে পুরান ঢাকা। বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই এলাকাটিকে বোমাসদৃশ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছেন। আমরা জানি, রাসায়নিক পদার্থ অত্যন্ত দাহ্য। তা আগুনের সংস্পর্শে এলে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, নিমতলী ও চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডে সে অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে। আমরা মনে করি, আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউনগুলো স্থানান্তরের কোনো বিকল্প নেই। ২০১০ সালের ১৫ জুন কমিটির সুপারিশে উঠে এসেছিল এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, এসিড নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার তথ্য। কীভাবে অনুমোদন ছাড়াই বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ আমদানি, উৎপাদন, মজুত, পরিবহন ও বিক্রি হচ্ছে সেই বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ এসব গুদাম সরাতে তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় এ উদ্যোগ থেমে যায়। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের (সংশোধিত ২০১০) ৬ ধারায় অবৈধভাবে গুদামজাত, বাজারজাতকরণের সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে। অথচ আইনের তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন গুদামে রাসায়নিকসহ দ্রব্য সংরক্ষণ করেন। এটা দেখভাল করার দায়িত্ব কার? স্থায়ী সমাধান একটাই- কেমিক্যালের কারখানা স্থানান্তর করা। কেরানীগঞ্জে কেমিক্যাল পল্লীর দ্রুত কাজ শেষ করে রাসায়নিক পদার্থের সব কারখানা স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে এখনই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App