×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

চট্টগ্রামে সুপেয় পানির সংকট ও ওয়াসার করণীয়

Icon

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে সুপেয় পানির সংকট ও ওয়াসার করণীয়

চট্টগ্রাম নগরীতে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তীব্র পানি সংকটে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম নগরবাসী। চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও সুয়ারেজ কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে নদীর পানির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেছে, এতে সংস্থাটি সুপেয় পানি উৎপাদন করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে- চট্টগ্রাম নগরীর মানুষ খাচ্ছে লবণ পানি। এটি নতুন সমস্যা নয়। ১৯৯৪ সাল থেকে মানুষ এ সমস্যায় ভুগে আসছে। কারণ কাপ্তাই হ্রদ থেকে পানি ছাড়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। সেই পানি গিয়ে মিশে কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে। ফলে সাগরের পানি উজানের দিকে যেতে না পারায় লবণাক্ততা থেকে রক্ষা পায় দুই নদীর পানি। আর এই পানি পরিশোধন করে নগরবাসীর মধ্যে সরবরাহ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। অতিরিক্ত লবণ পানি পানের ফলে মানুষের শরীরে দেখা গেছে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা সমস্যা। এছাড়া কিডনি রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এছাড়া লবণ পানি পানের ফলে দ্রুত কিডনি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর বড় কারণ দূষিত পানি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামবাসীর প্রতিদিনের ৫০ কোটি লিটার সুপেয় পানির জোগান দিচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার চারটি পানি শোধনাগার। ওয়াসার এই চারটি পানি শোধনাগার প্রতিদিন হালদা এবং কর্ণফুলী থেকে মিঠা পানি পরিশোধন করে নগরীতে সরবরাহ করে। সাধারণত বছরের বর্ষা মৌসুমে কর্ণফুলী এবং হালদায় পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকায় ওয়াসা নির্বিঘেœ পানি পরিশোধন করে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ একেবারেই কমে যায়। তখন চট্টগ্রাম ওয়াসাকে নগরবাসীর প্রতিদিনের চাহিদা মোতাবেক পানি সরবরাহে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। তবে গত এক দশক ধরে কর্ণফুলী নদীতে শুষ্ক মৌসুমের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমেও পানিপ্রবাহ ক্রমেই কমতে থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এমনিতেই সংকটের কারণে কয়েক মাস ধরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে পারছে না চট্টগ্রাম ওয়াসা। এর মধ্যে এখন সরবরাহ করা হচ্ছে লবণাক্ত পানি। যেসব পানি ব্যবহার করতে না পেরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নগরবাসী। নদীমাতৃক ও প্রবল বৃষ্টির দেশ হওয়ার পরও বাংলাদেশে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার দুর্ভাগ্যজনকই বটে। পানি জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য হওয়ায় প্রকৃতি তা ফ্রি করে দিয়েছে, কিন্তু দূষণের পেছনের হাত তো মানুষেরই। এছাড়া ওয়াসা নদীর পানিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান এতই বেশি যে, ব্যবহারযোগ্য করে তোলার জন্য শোধনের সময় মেশানো হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ক্লোরিন, এলাম (চুন) ও লাইন (ফিটকিরি)। তারপরও দুর্গন্ধ থাকছে পানিতে। অনেক সময় শোধিত পানি থেকে বের হয় ক্লোরিনের গন্ধ। এদিকে বিভিন্ন স্থানের পাইপলাইনে রয়েছে অসংখ্য ফুটো বা লিকেজ। এসব ফুটো দিয়ে বর্জ্য ঢুকছে পাইপলাইনের মধ্যে। একইভাবে বর্জ্য যুক্ত হচ্ছে সুয়ারেজ লাইনেও। এ পানি অতিমাত্রায় ফুটানোর পরও পানযোগ্য করতে পারছেন না চট্টগ্রাম নগরবাসী। ওই পানি ব্যবহারে চোখ জ্বলা, গা চুলকানোসহ নানা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। কলেরা হাসপাতালেও বেড়ে যায় রোগীদের ভিড়। আমরা মনে করি, পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলার অবকাশ নেই। চট্টগ্রাম নগরীতে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানির বিকল্প উৎস যেমন সন্ধান ও ব্যবহার করতে হবে তেমনি চট্টগ্রাম ওয়াসার কার্যক্রম আরো বাড়াতে ও গতিশীল করতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App