×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

দেশজুড়েই চলুক অটোরিকশা বন্ধের অভিযান

Icon

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দেশজুড়েই চলুক অটোরিকশা বন্ধের অভিযান

দেশের প্রতিটি জেলা শহর, মফস্বল এলাকায় এখন জনজীবন অতিষ্ঠকারী বাহনের নাম ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে বিভিন্ন সময় এসব রিকশা চলাচল বন্ধের দাবি উঠলেও তা বন্ধ হচ্ছে না। খোদ রাজধানীর সড়কে দাপটের সঙ্গে চলছে এসব অটোরিকশা। রাজধানীতে অবৈধ এই পরিবহনের আনুমানিক সংখ্যা ৮ থেকে ১০ লাখ এবং সারাদেশে প্রায় ৪০ লাখ। এই সংখ্যা বেড়ে চলেছে প্রতিদিন। রাজধানীতে দিনে গলিপথগুলোতে এসব রিকশা চলাচল করে বেশি। আর রাত হলেই গলিপথ ছেড়ে রাজপথ দাপিয়ে বেড়ায় এসব রিকশা। জেলা শহরগুলোতে নেমে আসে মহাসড়কে। ভয়াবহ ব্যাপার, যখন ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা দুই পা ওপরে উঠিয়ে বেপরোয়া গতিতে চালান। রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকায় কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো যাবে না। এ বিষয়ে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয়, এগুলো চলতে যাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আমরা অটোরিকশা ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন গ্যারেজেও অভিধান পরিচালনা করছি। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা কোনো অটোরিকশাকে রাস্তায় চলতে দেব না। অন্যদিকে এই অভিযানের প্রতিবাদে সড়কে নেমে এসেছে অটোরিকশা চালকরা। কোনো শর্ত ছাড়াই রাস্তায় অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালাতে দিতে হবে- দাবি তুলে বিক্ষোভ করছে তারা। একজন রিকশাচালক বলেন, সরকার যখন বন্ধের ঘোষণা দেয়, এ সুযোগে যারা এসব নিয়ন্ত্রণ করে তারা প্রথমে কয়দিন বন্ধ রাখতে বলে। পরে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া এ অটো চালিয়ে সংসার চলে। যদি না চালাতে পারি, তাহলে সমস্যায় পড়ে যাব। অধিকাংশ চালকের বক্তব্য ‘রিকশা না চালাতে পারলে খাব কী’। এ ক্ষেত্রে নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি এ ব্যাপারেও ভাবতে হবে সরকারকে। মূলত, ঘটে যাওয়া অধিকাংশ দুর্ঘটনার সংবাদের সঙ্গেই এখন অটোরিকশা শব্দটি জড়িয়ে থাকে। তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎচালিত এই পরিবহনের ব্যাটারি চার্জ করতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, তাতে প্রায় ১৫ লাখ আবাসিক গ্রাহকের চাহিদা পূরণ হতে পারে। তাছাড়া অবৈধ সংযোগের মাধ্যমেও ব্যাটারি চার্জ করার অভিযোগ বিভিন্ন সময় পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যবহার রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্যও একটি বড় সমস্যা। এসব যান হুটহাট সড়কে চলে আসে এবং ব্যস্ততম মোড়গুলোতে সৃষ্টি করে জটলা। প্রশ্ন আসতেই পারে সড়কপথে নিষিদ্ধ এই পরিবহনের কীভাবে এত ছড়াছড়ি হলো! বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, হাইকোর্ট যেখানে এই ব্যাটারিচালিত যান নিষিদ্ধ করেছেন, সেখানে সড়কে কীভাবে চলছে? মূলত এ অবৈধ ব্যাটারিচালিত যান দিয়ে প্রতিনিয়ত লাখো টাকার চাঁদাবাজি হয়। সে জন্যই এটি বন্ধ হচ্ছে না। পুলিশ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ম্যানেজ করেই এসব যান রাস্তায় চলাচল করছে। পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই চলছে অবৈধ এ কারবার। বিআরটিএও বিষয়টি অবগত। অবৈধ অটোরিকশার মধু খাওয়া কতিপয় এসব ব্যাক্তিদেরও শনাক্ত করতে হবে। রাস্তায় অটোরিকশার এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। রাজধানী থেকে শুরু করে সারাদেশে চালিয়ে যেতে হবে অটোরিকশা বন্ধের এই চলমান অভিযান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App