×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বাজেট

Icon

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বাজেট

বাংলাদেশের বয়স তেপ্পান্ন থেকে চুয়ান্নর পথে। জাতীয় বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা থেকে এখনো বেরিয়ে আসা যায়নি। আমাদের সংবিধানে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন ও পাস বা অনুমোদন করার যে প্রক্রিয়াটা স্বীকৃত আছে, সেটা অত্যন্ত সীমিত সময়ের গণ্ডিতে এবং পদ্ধতি প্রক্রিয়ার আবর্তে সীমাবদ্ধ। বাজেট উপস্থাপন ও অনুমোদনের জন্য যে অধিবেশন আহ্বান করা হয়, যাকে ‘বাজেট অধিবেশন’ বলা হয়, তার মেয়াদ সর্বোচ্চ এক মাস। আগামী অর্থবছরের (২০২৪-২৫) বাজেট পাস করার জন্য ৩ জুন তারিখে অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। বাজেট উপস্থাপন করা হবে ৬ তারিখে। বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হওয়ার পর দুই দিন সংসদ অধিবেশন মুলতবি থাকে। বাজেট আলোচনা শুরু হবে ৯ জুন এবং অবধারিতভাবে তা পাস হবে ৩০ তারিখের মধ্যে। অর্থাৎ বাজেট আলোচনা বা অনুমোদনের জন্য কার্যদিবস পাওয়া যাবে ১৮ থেকে ২০ দিন। বাজেট অধিবেশনে দুটি বাজেট পাস হয়। একটি হচ্ছে সম্পূরক বাজেট এবং অন্যটি হচ্ছে নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট। দেখা যায়, সব মহল থেকে নতুন বাজেট নিয়েই আলোচনা হয় বেশি। কিন্তু সম্পূরক বাজেট নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয় না। অথচ সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী সম্পূরক বাজেট পাস হয়ে গেলে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দসহ বার্ষিক আয়-ব্যয় আইনগতভাবে গৃহীত হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। সম্পূরক বাজেট অনুমোদন দেয়ার মানে হচ্ছে কম-বেশি আয়-ব্যয়ের দাবি ও যথার্থতা স্বীকার করে নেয়া। সম্পূরক বাজেট উপস্থাপনের পর কয়েক দিনের মধ্যেই তা পাস হয়ে যায়। আলোচনার কথা বলা বা ব্যবস্থা থাকলেও কার্যত এটা নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয় না। বিগত বছরের বাজেট কেন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলো না, সে সম্পর্কে সম্পূরক বাজেট বিবৃতিতে তেমন কোনো ব্যাখ্যা বা বক্তব্য থাকে না। অথচ সম্পূরক বাজেটের ওপর বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা হওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের দেশে তা হচ্ছে না। আমি মনে করি, সম্পূরক বাজেট পর্যালোচনার জন্য সংশোধিত বাজেট প্রস্তাব সংসদীয় কমিটিতে দেয়া যেতে পারে। কমিটি সম্পূরক বাজেট পাসের সুপারিশ করলেই কেবল তা পাস হতে পারে। বাজেট পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত কেন হলো না, এ জন্য কারা দায়ী- এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা দরকার এবং চলতি বাজেটের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন বাজেট প্রাক্কলন ও বাস্তবায়ন পন্থা সুপারিশ হওয়াটা অধিকতর যুক্তিযুক্ত প্রতীয়মান হয়।

নতুন বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় পাওয়া যায় খুবই কম। সংসদ সদস্য আছেন ৩৩০ জন। তাদের সবাইকে বাজেট আলোচনার সুযোগ দিতে হয়। প্রত্যেক সংসদ সদস্য ১০ মিনিট করে সময় পান বাজেট নিয়ে আলোচনার জন্য। বাজেটের জন্য সংসদ সদস্যদের এত বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র দেয়া হয়, তাদের পক্ষে সেই কাগজপত্র ভালোভাবে পড়াও সম্ভব হয় না। প্রত্যেক সংসদ সদস্য যে ১০ মিনিট সময় পান বাজেট আলোচনার জন্য, তার মধ্যে প্রথম ৫-৬ মিনিট চলে যায় ভূমিকা করতে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হলে তারা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। আবার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হলে এই সময় চলে যায় সরকারের স্তুতি গাইতে। ফলে তারা মাত্র ৪-৫ মিনিট কার্যকর সময় পান বাজেট নিয়ে আলোচনা করার জন্য। কোনো জাতীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনার সুযোগ সেখানে মেলে না। বাজেট পাস, নতুন করারোপ, কর হ্রাস, ভর্তুকি প্রদান বা প্রত্যাহারের একচ্ছত্র অধিকার বা ক্ষমতা জাতীয় সংসদের। অন্য যে কোনো আইন সংসদে পাস হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সুপারিশ পেশের নিয়ম থাকলেও অর্থবিল বা আইন পাসের প্রাক্কালে সংসদীয় কমিটিতে বা জনমত যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। শুধু সব সংসদ সদস্যের সংসদে বক্তব্য রাখা এবং শেষে ছাঁটাই প্রস্তাব করার ব্যবস্থা আছে। সময়ের অভাবে আলোচনা এবং বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নামমাত্র পরিমাণে ছাঁটাই প্রস্তাব হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ট্রেজারি বেঞ্চের কণ্ঠভোটে তা নাকচ হয়ে যায়। অর্থাৎ অর্থবিল বিনা পর্যালোচনা ও সংশোধন পরিমার্জনে পাস হয়ে যায়। অর্থবিল পাস হয়ে গেলে এর বিরুদ্ধে আইন-আদালতে কোনো আবেদন-আর্জিরও সুযোগ নেই। কেননা সংসদ কর্তৃক করারোপের একচ্ছত্র অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে অর্থ আইন বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

উপস্থাপিত বাজেট নিয়ে জনমত যাচাইয়ের তেমন কোনো সুযোগ থাকে না। দেখা যায় নতুন বাজেট নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয় এপ্রিল মাসের শেষে অথবা মে মাসের শুরুতে। অথচ মে মাসে বাজেট প্রণয়নের কাজ শেষের দিকে থাকে। ফলে আলোচনায় যেসব প্রস্তাব বা দাবি উত্থাপিত হয়, তা পরীক্ষা বা পর্যালোচনা করে বাজেটে উপযুক্ত প্রতিফলনের তেমন সুযোগ থাকে না। বাজেট নিয়ে চিন্তা-ভাবনা, আলাপ-আলোচনা জানুয়ারি মাসেই শুরু করে এবং মার্চ মাসের মধ্যেই তা শেষ হওয়া উচিত। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনোভাবে অস্থিরতা বিরাজ করে। কাজেই অস্থিতিশীলতার সঙ্গে রাজস্ব আদায় কম বা বেশি হওয়ার ব্যাপারে যুক্ত করার যৌক্তিক হয় না। অর্থনীতির বৃহৎ শ্রেণির করদাতারা অস্থিতিশীল ঘটনা প্রবাহকে একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তারা বলে থাকেন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠিকমতো চলেনি। গাড়ি ঠিকমতো চলেনি। আমি রাজস্ব পরিশোধ করতে পারব না। কারণ বা যুক্তি হিসেবে এটি অমূলক নয় এটা ঠিক, কিন্তু যথার্থতা হিসেবে এ ধরনের অজুহাত খুব সিরিয়াসলি দেখতে হবে। এমনও হয়ে থাকে রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠানও তাদের ব্যর্থতা বা অদক্ষতা ঢাকার জন্যও অনেক সময় অর্থনৈতিক কর্মপরিবেশ ও রাজস্ব প্রদানকারীর অপারগ পরিস্থিতির ওপর দোষ চাপিয়ে থাকতে পারেন। কাজেই দেখতে হবে, রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ ঠিকমতো করেছে কিনা। আর রাজস্ব দাতারাও তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, আয়-উপার্জন যথাযথভাবে করতে পেরেছেন কিনা? গবেষণায় এটাও ধরা পড়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যদি কিছুদিন বন্ধ থাকে, পরবর্তী স্বাভাবিক সময়ে উৎপাদন বাড়িয়ে বা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ থাকে। যদিও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দায়ভার শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়। রাজস্ব আদায় যে কম হচ্ছে, এটা নতুন কিছু নয়। গত বেশ কয়েক বছর ধরেই এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকাকালেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরিত হয়নি। বিশেষ করে গত ১০ বছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। অবশ্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা উচ্চ হওয়ার কারণেও এটা হতে পারে। দেখতে হবে পয়েন্ট টু পয়েন্ট রাজস্ব আদায়ে অগ্রগতি হচ্ছে কিনা বা তার প্রবৃদ্ধির মাত্রা কেমন। লক্ষ্যমাত্রা সব সময় একটু বেশি নির্ধারণ হয়েই থাকে। হিসাবটা খুব সোজা। প্রথমে জাতীয় বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় একটি সাধারণ প্রবৃদ্ধি (মূল্যস্ফীতি ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি যোগ করে) ধরে। এরপর সেই জাতীয় বাজেট প্রাক্কলন থেকে জিডিপির ৫ শতাংশ সীমায় একটা ঘাটতির অনুমিত প্রাক্কলন ধরা হয়। জাতীয় বাজেট প্রাক্কলন থেকে ঘাটতির অর্থ বাদ দিয়ে জাতীয় রাজস্ব আয়ের পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়। সেটিই লক্ষ্যমাত্রা। বাস্তবায়ন যোগ্যতার বিচারে তা বেশ উচ্চাভিলাষী প্রতীয়মান হতে পারে। এটি একটি দিক। আবার লক্ষ্যমাত্রা নমিনাল টার্মে একটু বেশি নির্ধারণ করা না হলে রিয়েল টার্মে অগ্রগতিতে তা পিছিয়ে পড়া বা শ্লথ হয়ে যেতে পারে। রাজস্ব প্রবৃদ্ধির হার ১৭-১৮ শতাংশ বেশি দেখানো দোষের কিছু নয়। এটা স্বাভাবিক। রাজস্ব আহরণে এমনিতেই বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে। বর্তমানে যে রাজস্ব আহরিত হচ্ছে, তা জিডিপির ৮-৯ শতাংশ। এটা হওয়া উচিত ১৫ বা ১৬ শতাংশ। রাজস্ব আদায় বাড়ানো না গেলে সরকারের নিজস্ব উৎস হতে উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থ জোগান দেয়া সম্ভব হয় না। করের হার না বাড়িয়ে এখনো করারোপযোগ্য অনেক খাতকে এবং দরদাতাকে করের আওতায় আনার অবকাশ রয়েছে। এগুলোকে করের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু কে আনবে? এ দায়িত্ব এনবিআরের একার নয়, এ দায়িত্ব সরকারের, রাষ্ট্রের সবার।

অর্থনীতির যে শারীরিক অবয়ব, তাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ডাবল ডিজিট হওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু নানা কারণেই ২-৩ শতাংশ জিডিপি ক্যাপচার করা যাচ্ছে না। যেহেতু সম্ভাবনার সবটুকু অর্জন করা যাচ্ছে না, তাই জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই অবস্থা বিরাজ করছে। অর্থনীতিতে এমন কিছু অর্থ লেনদেন বা ব্যয় হচ্ছে কিংবা কর্মকাণ্ড চলছে, যা দ্বারা প্রকৃতপক্ষে কোনো পণ্য ও সেবা উৎপাদিত হচ্ছে না। অথচ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার বেশ বড়, কিন্তু সেই তুলনায় হারাহারি মতে পণ্য ও সেবা জিডিপিতে যুক্ত হচ্ছে না। টাকা ব্যয় হয়ে যাচ্ছে কিন্তু উন্নয়নকাজ সম্পাদিত হচ্ছে না। যেমন উদাহরণ হিসেবে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ২০০৭ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। যদি নির্ধারিত সময়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে ২০১০ সালের মধ্যে তা শেষ করা যেত, তাহলে ১০ হাজার কোটি টাকায় একটি পদ্মা সেতু পাওয়া যেত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করা যায়নি। এখন দেরি হতে হতে এবং সেতু প্রকল্পে রেলের মতো নতুন অঙ্গ যুক্ত হয়ে সেতুর নির্মাণ ব্যয় ইতোমধ্যে ৩৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, নদী শাসনে বাড়তি ১ হাজার কোটি দাবি করা হয়েছে চায়নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে। ১০ হাজার কোটি টাকার সেতু ২৮ হাজার কোটি টাকা বেশি দিয়ে নির্মাণ করতে হচ্ছে বা হবে। তিন-চারটি সেতুর টাকা দিয়ে একটি সেতু পাওয়া গেছে বা হবে। সেতু নির্মাণকাজ শুরু করার আর্থিক সামর্থ্যরে বিলম্বের জন্যই এটা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হলেও নানা কারণে বিলম্ব হতে হতে তার ব্যয় বেড়েছে তিন থেকে চার গুণ। দেশের সরকারি খাতে বিরাট সংখ্যক কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের কাজ না করেই বসে বসে বেতন-ভাতা দেয়া হয়েছে বা হচ্ছে। তারা কোনো ফাইল সাইন করছেন না। কোনো কাজ করছেন না। কিন্তু বেতন পাচ্ছেন। বেসরকারি খাতে সব শিক্ষককে সরকারি খাত থেকে বেতন দেয়া হচ্ছে, কিন্তু তাদের পড়ার ও পড়ানোর মান যাচাই এবং প্রভাবক ভূমিকা পর্যালোচনার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। আবার সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। পদোন্নতি দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের কাছ থেকে উন্নত পর্যায়ে আরো বেশি কাজে সম্পূরককরণ। কিন্তু দেখা গেল, উচ্চপদ খালি নেই অথচ পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। ফলে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের উন্নীত পদে বসার স্থান ও কাজ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। দেখা গেল পদোন্নতি প্রাপ্তির পরও অনেকেই আগের টেবিলে কাজ করছেন। এখানেও একজন কর্মীর উৎপাদনশীলতা বিঘিœত হচ্ছে। এছাড়া অর্থনীতিতে রয়েছে প্রচুর অপচয়, অপব্যয়, আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও পুঁজি পাচার। আন্ডারগ্রাউন্ড ইকোনমির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক হারে দেখা দিচ্ছে। অর্থাৎ এই টাকা কোনো উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

কালো টাকা সাদা করার তাৎপর্য ইতোমধ্যে অনেকটা হারিয়ে গেছে। একসময় ও পর্যায়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দান নিয়ে নানা ইতিবাচক আকাক্সক্ষা ও কার্যকর পরিকল্পনা ছিল। এ নিয়ে এক ধরনের ধনাত্মক ইম্প্যাক্ট সৃষ্টি হতে পারত। কিন্তু এখন আর তেমন কোনো কিছু নেই। বারবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দানের ফলে মানুষ এখন কালো টাকা অর্জনে, সংরক্ষণে, প্রদর্শনে বিলম্বকরণে কোনো তাগিদবোধ করছে না বা ভয় পাচ্ছে না। কালো টাকার মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে কেউ আর এখন এটাকে প্রদর্শনে কর্তব্য মনে করে না। তারা মনে করেন, কালো টাকা সাদা না করলেও কোনো অসুবিধা নেই এবং প্রদর্শনে আরো বিলম্ব করার সুযোগ তো থেকেই যাচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মিতভাবে কর প্রদানে নতুন-পুরনো করদাতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ : উন্নয়ন অর্থনীতির বিশ্লেষক।

সধুরফ.সঁযধসসধফ@মসধরষ.পড়স

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App