×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

উপজেলা নির্বাচন

ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর বিকল্প নেই

Icon

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর  বিকল্প নেই
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত ৮ মে ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার কমে যাওয়ার পেছনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওপর জনগণের আস্থাহীনতাকেই দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ নির্বাচনে ৩০-৪০ ভাগ ভোট পড়েছে বলে দাবি করেছে ইসি। উপজেলা নির্বাচন অঞ্চলভিত্তিক। তাই অনেকেই ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে বসবাস করেন। উপজেলা নির্বাচনে বেশির ভাগ প্রার্থীই শাসক দলের। আবার অনেকে মনে করছে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এ আশঙ্কা থেকেও অনেকে ভোটকেন্দ্রে যাননি। তবে এমন অবস্থা গণতন্ত্রের জন্য সুখকর না। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর বিকল্প নেই। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ১৫৭ উপজেলায় ভোট গ্রহণ আগামী ২১ মে। এরপর তৃতীয় ধাপে ১১২ উপজেলায় ২৯ মে ও চতুর্থ ধাপে ৫৫ উপজেলায় ৫ জুন ভোটগ্রহণ হবে। ইতোমধ্যে ভোটের হার কীভাবে বাড়ানো যায়- তা নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে মোটামুটি ১০টি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। দেখা যাক অবস্থার পরিবর্তন কতটুকু হয়। অবশ্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলছে, বিশ্বের অনেক দেশেই ৪০ ভাগ ভোট পড়ে না। সে তুলনায় বাংলাদেশের ভোটারের উপস্থিতির হার অনেক ভালো। বিগত দিনগুলোতে যত নির্বাচন হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। সাধারণ মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়েছেন। প্রতিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এরপর ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬১ শতাংশের মতো। আর ২০১৯ সালে প্রথমবার দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল ৪০ দশমিক ২২ শতাংশ। এবার প্রথম ধাপে ভোটের হার ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির ভোটে না আসা, সরকারের ক্ষমতার পরিবর্তন না হওয়াসহ নানা কারণে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। আমরা জানি, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে কমিশনকে যথেষ্ট ক্ষমতা দেয়া হলেও তা প্রয়োগের বিষয়টি নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানটির সদিচ্ছা ও দৃঢ়তার ওপর। দুঃখজনক হলেও সত্য, নির্বাচন কমিশন সে ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রে দেখাতে পারছে না। সব পর্যায়ের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল পেশিশক্তি প্রদর্শনসহ বেশি সুযোগ নিতে চাইবে- এটাই স্বাভাবিক। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীনরা গোপন কক্ষে প্রবেশ করে ভোটারদের জোর করে ভোট দিতে বাধ্য করার ঘটনা যেভাবে সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তাতে আমরা বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটাররা যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনকে করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর দায়ও নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তায়। কাক্সিক্ষত ভোটার উপস্থিতি যদি না যায় ভবিষ্যতে আরো আস্থার সংকট তৈরি হবে। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার বলে মনে করছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App